কবি প্রতাপ মণ্ডল এর কবিতা- লেলিহান শিখায়
আগুনের লেলিহান শিখায় পুড়ছে তোমার অবয়ব
যা আমার বলে আগলে রেখেছিলে, সব পড়ে রইলো, স….ব।
মান-অভিমান তবে আমি আর কার সাথে করবো?
তাই কি হয়? এতো সহজে আমি হেরে যাবো….!
রাগ করে তুমি বলতে, “তোমাকে অসহ্য লাগে”
তুমি বলতে, “তুমি যেন আমার দু’চোখের বিষ “
আমি তোমায় পিছন থেকে জড়িয়ে ধরে বলতাম, “ভালোবাসি।”
তুমি বলতে… “এই বয়েসে… মরণ।”
ব্যালকনির দোলনাটা এবার ফাঁকা পড়ে থাকবে….
হয়তো আমি গিয়ে দোলনার পাশে চুপচাপ কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকবো
আর মনে মনে তোমার-আমার হারিয়ে যাওয়া দিনগুলো স্মরণ করবো!
কিন্তু তুমিতো থাকবে না তখন আমার পাশে….
আমার বলে যা কিছু আগলে রেখেছিলে তুমি, সব নিয়ে যাও এসে।
একটু গা গরম হলেই কত বকুনি, যেন আমিই এসবের জন্য দায়ী…!
ডাক্তার-ওষুধ, কত সেবা তোমার, আমি অপরাধীর মতো থাকতাম
আর নির্লজ্জের মতো তোমার সবটুকু সেবা নিতাম….
টবে লাগানো গাছগুলোর আজ ভরন্ত যৌবন, ফুলে ফুলে ছেয়ে গেছে
দেখো…. দেখো, ফুলে ফুলে উড়ছে কত ভ্রমর – অলি
আমার মনের কথা তুমি ছাড়া কাকেই বা আর বলি…!
ওদের দিকেও তোমার নজর ছিলো সমান
দিনে দু’বেলা ওদের কাছে যাওয়া চায়……
এক একদিন বড্ড বিরক্ত হতাম ; বলতাম, দুরছাই…
জামাটা গলিয়ে ইচ্ছে করে বেরিয়ে পড়তাম বাড়ি থেকে
আর তুমি দরজা খোলার আওয়াজ পেয়ে,
“তাড়াতাড়ি ফিরো, আমি চা করে রাখছি,” বলতে আমায় হেঁকে।
কোনো রাতে হয়তো আমার দু’চোখে ঘুম নেই….
পায়ে পায়ে এসে দাঁড়িয়েছি জোৎস্নাপ্লাবিত ছাদে,
তুমিও কখন যেন আমার পিছনে এসে দাঁড়িয়েছো, আমি খেয়ালই করিনি!
ওই শোনো? তুমি চলে যেতেই পারো চিরতরে —
তবে, স্মৃতিদের একটাও তুমি নিয়ে যেতে পারোনি।
আগুনের লেলিহান শিখায় পুড়ছে তোমার অবয়ব
যা আমার বলে আগলে রেখেছিলে, সব পড়ে রইলো, স…..ব।