ছোট্ট বেলায় ভীষণ জ্বালাতন করতাম মাকে,
মুক্তিযুদ্ধের সময়কার গল্প শুনার জন্য।
বিষেশ করে ঘুমানোর সময়—-
মায়ের বুকে মাথা রেখেই শুরু হতো
আমার জ্বালাতন;
যতক্ষণ মা গল্প শুরু না করতো’ আমি বলতেই থাকতাম ও-মা মাগো বলনা,বলনা মা
মুক্তিযুদ্ধের গল্প !
সে সময় কিভাবে কেটেছে তোমাদের ,
খাবার কি জুটেছিল অল্প ?
মা বলতো—বড় কষ্ট হয়রে মা বলতে
অসম বেদনার গল্প—–
মুক্তিযুদ্ধের সময় দুঃখ -কষ্টে সময় কেটেছে ,
বনে জঙ্গলে লুকিয়েছি অগণিত জনে অবিরত।
মাগো! কতবেলা গেছে শুকনো খাবারও পাইনি’
পুকুর ঘাটে পাড়ার মেয়েগুলো স্নানে যখন নামতো,
হঠাৎ করেই পাকসেনারা পুকুর পাড়ে চলে আসতো!
ভয়ের চোটে মেয়েরা ইজ্জত বাঁচাতে গভীর জলে ডুব দিত—–
হায়নাবাহিনী দেখতে পেলে নির্যাতন করবে এই ভয়ে;
সম্রম বাঁচাতে কত মা-বোন জলের নীচে শ্বাসরুদ্ধ হয়ে
মরেছে তার ইয়ত্তা নেই।
বাবা ভাইদের পেলে গুলি করে মেরে ফেলতো, অনেককে আবার কেম্পে নিয়ে নির্যাতন করে মারতো।
পাশের বাড়ির করিম মিয়ার ছেলেকে হঠাৎ একদিন ধরে নিয়ে যায়—–
সন্ধ্যায় সেই তাগড়া জোয়ান ছেলেটারে ঝিলের জলে মৃত পাওয়া গেল!
আহারে! তার মায়ের কি কান্না গো মা!
কি যে কান্না! তাদের আহাজারিতে,
আকাশ বাতাস ভারী হয়ে গিয়েছিল,
মেয়েটাকেও ধরে নিয়ে সর্বস্ব কেড়ে নিল।
আহ্ ! কি যন্ত্রণাময় প্রতিটা ক্ষণ ছিল সে সময়।
জানিস মা জানিস, যখন সব মেয়েদের দক্ষিণের
বনে পেয়ে পাকবাহিনী বন্ধি করেছিল,
সেদিন একটি মেয়ে ওদের হাত থেকে বাঁচতে
বন্দুকের ভয় না করে যখনি ছোট্টে পালাতে গেল,
আহ্ হা ! মাগো ,এ বুকে ব্যথা জাগে বলতে,
সৈন্যটা কি করল জানিস?
গুলি করে বোনটির বুকটা ঝাঁঝরা করে দিল।
কি বলবো কত আর বলবো মাগো,
অসহনীয় যন্ত্রণায় ফেটে যায় বুক,
পাকবাহিনী এদেশের মা-বোনদের —
কতশত দিয়েছে দুঃখ,যন্ত্রণা আর বানিয়েছে বিরাঙ্গনা;
মুক্তিযুদ্ধের গল্পে যেমন আছে মাগো দুঃখ লাঞ্চনা,
তেমনি আছে বিজয় ছিনিয়ে আনার সুখ।