ঢেউ খেলানো টিলা পাহাড়, রাতের জ্যোৎসনা, পাহাড়ি খাঁজে চাঁদ, ঝাউ বীথি, ঝর্ণা ,দেবদারু বন, স্মৃতির পাড় ভেঙ্গে দিয়ে যায়,
এমনই মায়ারাত ছিল সেদিন, বনবাংলোর ঝুল বারান্দায় সেদিন দাঁড়িয়ে ছিল অনুপ্রিয়া,
হিমেল বাতাস বয়ে যাচ্ছিল পাহাড়তলী জুড়ে,
সেদিন কি চাঁদে পেয়েছিল আমাদের,
নীল জ্যোৎসনা, আকাশে লক্ষ তারার উঁকিঝুঁকি,
মুগ্ধ পৃথিবীর দিকে চেয়েছিল,
জীবনের সেরা মুহূর্তগুলো থাকাকালীন
এর মাহাত্ম্য সেভাবে অনুভব করা যায় না,
সেদিন চাঁদ ঘুমিয়ে ছিল, তারারা ঘুমিয়েছিল,
রাতপাখি দূর অরণ্যে ডানা মেলেছিল,
আমাদের মুখে কোনো কথা নেই,
একা প্রহর জাগার বেদনা নিয়ে
একটা স্বপ্নের রাত পেরিয়ে এলাম,
চাঁদনী রাত, মুগ্ধ আকাশ, পাইন বন,
সেগুন মঞ্জরী সে রাতের সাক্ষী থেকে গেছে,
ঝরনার জলের শব্দ, বন ময়ূরের ডাক
মনের মধ্যে চিরকালের ছবি হয়ে গেল,
পাহাড়িয়া নদী কুলু কুলু শব্দে প্রবাহিত
হয়ে গেল,
অনুপ্রিয়া আমার হাতে হাত রেখেছিল,
আমরা আজীবন ভালোবাসার শপথ
নিয়েছিলাম,
ও বলেছিল, মনে থাকবে?
আমি বলেছিলাম, চাঁদের কাছে দাঁড়িয়ে মিথ্যে বলতে নেই,
ও বলেছিল, নীল আকাশের নিচে নীল জ্যোৎসনায় দাঁড়িয়ে মিথ্যে বলতে নেই,
আমি বলেছিলাম, ঝরনার কাছে দাঁড়িয়ে মিথ্যে বলতে নেই,
ও বলেছিল, ভোরের আকাশ দেখেছো?
বললাম, হ্যাঁ তো,
আমায় বলল, আমাদের ভালবাসাও ভোরের আকাশের মতো সুন্দর হোক,
বললাম, ভালোবাসার সহজ, কিন্তু তাকে বাঁচিয়ে রাখা কঠিন,
ও বলল, ভালোবাসা এক আশ্চর্য অঙ্গীকার,
রাত শেষ হয়ে আসছিল। রাতে গাছের ফুলের কুঁড়িগুলো পরিপূর্ণ ফুল হয়ে ফুটে উঠলো, ভোরের তরুণ আলো এসে পড়ল পাহাড়ের চূড়ায়,
সারারাত নির্ঘুম রাত্রি কাটিয়ে আমরা ক্লান্ত রাত্রি পেরিয়ে বিছানার দিকে এগিয়ে গেলাম,
তখন জানালার পাশে এক ঝাঁক শঙ্খচিল নীল ডুংরি পাহাড়ের দিকে উড়ে গেল।