সাম্প্রতিক কালে বাংলাসাহিত্য না-কি নতুন ভার্চ্যুয়াল জগতের এক নতুন রেনেসাঁর যোগ এনে দিয়েছে। ফেইসবুকের এক অভাবনীয় সাফল্যের সুযোগে যে কেউ কোন একটা লিখে ফেলতে পারে, লেখাটি কতোটা মানসম্মত পাঠক সমাদৃত হলো তা নিয়ে ভাববার প্রয়োজন নেই। কারণ, লেখার জন্যে তাকে কেউ মাহিনা দেয় না আর সে-ও কোন অর্থপ্রদান করতে হয় না। ফলে সবাই লেখক সবাই কবি, কবি-সাহিত্যিকের কোন অভাব নাই। এই সুযোগে কিছু সাহিত্যের ব্যবসায়ী নানা কৌশলে টুপাইস অর্জনের জন্যে নানামুখী ফন্দি ফিকির করে বেড়াচ্ছে। এইক্ষেত্রেও যোগ্য অযোগ্য প্রয়োজন নেই লালমিয়া দ্বলামিয়া যে কেউ ভার্চুয়াল সাহিত্যের গ্রুপ খোলে সংগঠক অর্থাৎ কবিদের কবি গুরু কবি সেজে যান। তাঁরা সঙ্গ বদ্ধ শক্তি সাহিত্যের মানুষদের নিয়ে রঙ্গতামাশার আয়োজন করে। সেখানে আপনি আমি যেনো নিরীহ লেখক কবিসাহিত্যিক! দারুণ অসহায় ও জিম্মি হয়ে আছি! আপনি তাদের রংমহলে একজন সুরা সাকি হয়ে হাজির হবেন। কবিতা নয় কবিও নয় সাহিত্য বিলাসী হয়ে রসনা পরিবেশন করতে জীহুজুর জীহুজুর করবেন। আপনি মহাজ্ঞানী গুণী তাপস বিজ্ঞজন হয়ে উঠবেন। সাহিত্যিক হতে জ্ঞান চর্চার প্রয়োজন নেই, শুধু টাকা দিবেন সম্মাননা, ক্রেস্ট, মেডেল, সনদ আরও কতো কি পুরস্কার নিতে পারবেন। যতো বেশি টাকা ততবেশি পুরস্কার পাবেন। ওনারা আপনাকে কবিসাহিত্যিক বানিয়ে দেবেন,সাহিত্যের জ্ঞান পণ্ডিতের তকমা লাগিয়ে দিয়ে নিজেকে কবিদের কবি গুরু কবি বানিয়ে নিবেন,ওনারা মহাপরিচালক, মহা সংগঠক,মহা সাহিত্য সেবক, ধারকবাহক, কবিদের অভিভাবকত্ব হয়ে বসেছেন! আবার, অভিনেতা,নাট্যকার নানাহ বিশেষণে বিশেষায়িত হয়ে মহা খেতাবধারী পন্ডিত হয়ে গেছেন। বলুন’তো এই কাজের কাজী কি সবাই হতে পারে ? যেনতেন মানুষের পক্ষে কি এমনটা হওয়া সম্ভব? সাহিত্যের যে সকল রাষ্ট্রীয় একাডেমিক পুরস্কার প্রাপ্ত গুণিজন রয়েছেন তাদেরকে’ও নিয়ন্ত্রণ করার সর্দার হওয়া কি চাট্টিখানি কথা? ঐ সকল টিকেটধারী রাষ্ট্রীয় সনদের অপব্যবহারকারী বেকুবদের’কে ধরে এনে মঞ্চে ঘন্টার পর ঘন্টা বসিয়ে রাখা, তাদের হাতদিয়ে অকবি আর গবিদের’কে সাহিত্যের সম্মাননা ক্রেস্ট, সনদ, মেডেল, উত্তরীয় লুঙ্গি গামছা পেটিকোট জাইঙ্গা চাদর মাফলার পাঞ্জাবি শাড়ী ব্লাউজ উপহার তুলে দিতে পারাটা কি কম্ বড় অভিনেতার কাজ?
এই জন্যেই উনারা সাহিত্যের বড় অভিভাবক, অভিনেতা, নাট্যকার, মঞ্চসজ্জার রুপকার। তাদেরকে মেনেই সাহিত্যিের সমাজে সাহিত্যিক হয়ে আপনাকে টিকে থাকতে হবে। আপনি ভালো লেখক এতে কি আসে যায়? আপনার লেখা কেউ কি ধুইয়া খায়? উনাদের আয়োজিত অনুষ্ঠানে পাঞ্জাবী শাড়ী পেতে দলেদলে গবিরা হাজির হয়ে বাংলাসাহিত্যে বর্তমান টিকেট ধারি মাষ্টার বাবুদের হাত থেকে সাহিত্যের সম্মাননা ক্রেস্ট সনদ মেডেল গলায় পড়ে গদগদে বদনে মাদকতার নেশায় মদদপুষ্ট হয়ে ঘরে ফিরেন! কি যেনো একজন পন্ডিত পন্ডিত বিলাসী জীবন লাভ করেছেন তাদের এমনটাই ভাবসাব ! এমন কবিসাহিত্যিক ও সংগঠক এখন ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে উঠেছে! কি আর বলবো মনে হচ্ছে আসলে তারাই হলো খাঁটি বাঘ,কথায় বলে না ” বাঘ নাই দেশে খাটস’ই বাঘ “? সাহিত্যের অভিভাবক, অভিনেতা, নাট্যকার, রত্নগর্ভা, পরিশেষে বলবো সাহিত্যের প্রেতাত্মায় এখন আর অভাব নেই! কানা কোঁড়া খোঁড়া গরুছাগল মহিষ ভেড়া প্রাণীরাও এখন ইচ্ছে করলেই কবিসাহিত্যিকের সংগঠক হয়ে যাচ্ছে! আশ্চর্য, আমরা কোন জাতের মানুষ কোন ভাষাভাষী কেমন সাহিত্য চর্চা করি? বাংলাসাহিত্যে এদের দৌরাত্ম্যে প্রকৃত সাহিত্যিকেরা এখন হারিয়ে যাচ্ছে! সাহিত্যে মাদকতার গন্ধ ছড়াচ্ছে, ক্যাসিনোর মতো রঙ্গমঞ্চ গড়ে উঠেছে, টাকার বিনিময়ে সাহিত্যিক বনে যাচ্ছেন। ওরা আজব সাহিত্যের সাধক। সাহিত্যের নামে অর্থ ও নারী কেলেংকারীর আয়োজক দাতা সংস্থার প্রতিনিধিত্ব করছেন, টিকেট ধারী কিছু রাষ্ট্রীয় সনদের মালিক নিজেকে ওদের সাহিত্য আড্ডার রঙ্গমঞ্চে টাকার বিনিময়ে ভাড়ায় গাগতর মগজ খাটাচ্ছেন। এসব দেখে লজ্জায় পড়েছেন প্রকৃত সাহিত্যিকে’রা। আজ কবিসাহিত্যিক অনেক বিপদগ্রস্ত দেউলিয়াত্বের জীবন উপলব্ধি করছেন। রবীন্দ্রনাথের শতবছর পরে বাংলাসাহিত্য এগিয়ে নিয়ে যেতে কি এমন সাহিত্য আমাদের কাম্য ছিলো,? ওরে বাঙ্গালী বলুনতো, আপনি কেমন সাহিত্য চান ?