দেখে নিও একদিন ঠিক ফিরে আসবো,
এই বাংলার আলপথ দিয়ে..
কোন এক অগ্রহায়ণে নবান্নের উৎসবে,
অথবা পৌষে সংক্রান্তি মেলায়!
যেখানে হারিয়ে ফেলেছিলাম শিশুকাল
জন্ম বৃত্তান্ত, স্মৃতিময় শৈশব;
পলাশ শিমুলের ডালে এখনও ঘুঘু ডাকে
মুগ্ধতায়, ক্লান্ত দুপুরে ফিঙে নাচে।
কতশত নাম না জানা জংলি ফুলের
প্রেমে পড়েছি, রংবাহারি রূপে,
কখনও বা ছুঁয়ে দিয়েছি মুগ্ধতায়, আলতো
ছোঁয়ায় একটু ভালোবেসে!
শাপলা ফোটা ঝিলের জলে নাইতে নেমে
পার করেছি, কতশত ক্লান্ত সময়;
সন্ধ্যা নামার আগেই বেত ঝাড়ে ডাহুকের
ঘরেফেরা দেখেছি, লুকিয়ে আনমনে।
বুড়ো শালিক গুলো ঝিমোচ্ছে একনাগারে
তপ্ত দুপুরের সন্ধিক্ষণে,
রাখালেরে বাঁশিসুর ক্লান্ত শান্ত দুপুর, মাতাল
করেছে বহুবার এই মন;
মৌনতার মাঝে গুঞ্জন তুলেছে মৌমাছির
ঝাঁক, মধু আহরণের সন্ধানে,
কি অপরূপ দৃশ্যের অবতারণা, সেটা এখন
যে কল্পনাকেও হার মানায়!
এই মন এখন আর মাতাল হয় না, গাঁও
থেকে দূরে শহুরে কঠিন ব্যস্ততায়,
তবু ছুটে আসতে হবে একটু প্রশান্তির ছোঁয়া
পেতে, পটে আঁকা স্বপ্নের গাঁও!
সেই আলপথ সবুজ শ্যামল গাঁও বয়ে চলা
নদী, যা জীবনের কথা বলে;
দেখে নিও কোন একদিন ঠিক ফিরে আসবো,
জীবনের শত যন্ত্রণা মুছে নিতে।
১১ মাঘ ১৪৩০
২৫ জানুয়ারি ২০২৪