আমার না,কি যে হয়েছে ; কিচ্ছু বুঝি না!
পাড়াপড়শি কয় জিনে ধরেছে,
ঘরের মানুষ কয় তাবিজ করেছে।
আসলে আমি’ই জানি,আমার কি হয়েছে।
মুখ ফুটিয়ে বলি না, নিয়ম মেনে চলি না,
নাওয়াখাওয়া সময় মতো করি না,
রাতের ঘুম দিনে ঘুমাই,
কামকাজ কিচ্ছু ভাল্লাগে না!
সোনাবানের পুঁথি পড়ি, সুরে সুরে গান করি,
কাব্যিকতায় খাতা ভরে বেদনার গীত করি।
তবুও মন ভরে না। বিলাসী মনে দেহের সনে
গড্ডালিকায় ভেসে বেড়াই,
তবুও কেন চিত্তে সুখ পাই না?
নিশি ভোরে উজান চরে নদীর তীরে
হঠাৎ বসে থাকি নিরব নিরালায়!
অতীত গুলো খুঁজে ফিরি বড়ো একেলা!
নেংটা খোকা নাইতে গিয়ে নদীর জলে
কতো সাঁতার কেটেছি, মাঠেঘাটে বনেবাদাড়ে,
ঘুরে ঘুরে দিন কাটিয়েছি।
হাসের তালাস, মাছের তালাস,
পাখির ছানাদের খুঁজে শিমুল গাছের
মগডালে ডালভেঙে ঝুলে রয়েছি!
আমার কিশোর কালটা
দুরন্তপনায় দারুণ কেটেছে।
যৌবন কালে সব্বাই বলে,
আমি নাকি অনেক বড়ো হয়ে গেছি।
কেমন যেনো জীবনবোধের গল্প শুনি!
ঐ বাড়ীতে যেওনা,ঐ পাড়াতে ঘুরো না,
ঐ মেয়েটা ভালো না, প্রেম-ট্রেম করো না।
আগে মানুষ হউ।
লেখাপড়া শিখে শহরে গিয়ে
গাড়িঘোড়া চড়ে মস্ত বড়ো সাহেব হউ।
আমি বলি হুম— হুম, বুঝলাম।
জোরেসোরে বললাম–,
আচ্ছা আচ্ছা সবই হবে
বলে’ই ঘরের বাহির হতাম।
হেসে হেসে মা’ বলতেন,
দেখিস বাবা” ভুল করিসনে এই জীবনে।
বসন্তের ছুঁয়া লেগেছে মোর মনে।
ঐ দূর বনে কুকিল ডাকে কুহ তানে,
আমারও যৌবনের টানে
পড়েছি প্রেমের বানে;
পাশের বাড়ীর কুচকুচে কালো মেয়ের সনে।
এসব ভূলন্ঠিত হলো!
জীবনটা–কোথা থেকে কোথায় গেলো!
বহমান নদীর মতো একূল ভেঙে ওকূল গড়ালো!
প্রতিদিন আকাঙ্ক্ষার অপূর্ণতায়,
হৃদয় আত্মাকে কুঁড়ে কুঁড়ে খেলো;
এখন হীনবল দেহ-মন নেই সচল!
এখনও ভব নদীর তীরে নিশিভোরে,
একাকী বসে থাকি —-,
তবে আগের মতো স্বপ্নের জালবোনা হয় না!
শুধুই নদীটার কিনারায় এসে,
দেখি আর দেখি আকুল হয়ে ভাবি!
নদীটার তীরে এসে মিশে যাওয়া,
দূর্বল ঢেউ গুলো গুনি!
পাষাণ নদীটা এখন আর আগের মতো,
দুর্বার গতিতে ভাঙনের খেলায় করে না।
স্রোতহীন গতিহীন ঢেউ বিহীন,
শান্ত হয়ে গেছে—-!
হয়তো খুব শিঙ্গিরি শুকনো মরা নদী হবে!
অপেক্ষার প্রহর গুনে অস্থির মনে,
দিনগুলো কেটে যায়—!
আমার না,কি যে হয়েছে ; কিচ্ছু বুঝি না!!