কুসুম কৌমার্য প্রেম ছিল,প্রেম ছিল নদীজলে,প্রেম-পুকুরের তলদেশে
মুয়াজ্জিনের আযানের সুরে,ইট কাঠ পাথর ধূলিকণায়।
জন্মসূত্র প্রেম আমার,কাঁটা মান্দারের ফুলে আঙুলের ছাপ
ফুল তোলা সহজ নয়, রক্তাক্ত হয়ে ফিরেছি
তবু প্রেম দিয়েছি ফুল পাখি ফড়িং এর দলে
বুনো ওকাপির মতো ম্যামাল প্রাণীর মতো পান করেছি শৈশব,কৈশোর যৌবন।
নীল মেঘের ছায়া আবৃত প্রেম,নীলকণ্ঠি বসন্তবৌরি সঙ্গী চিরকাল
বুনো হাঁসের ডানায় যখন তখন,প্রতিটি পাতায় ফুলে বৃষ্টির ফোঁটায়
পূর্বপুরুষের নামখচিত পাথরে ব্যাপক আকর্ষণে চুম্বন এঁকেছি অসংখ্যবার।
প্রেম খুঁজেছি ক্ষুদিত পাথরে লেপ্টে থাকা ঘামের ঘ্রাণে বিপুল উষ্ণতার পুষ্পরাগে
ইশকুল ঘরের বারান্দায় শিলাবৃষ্টির তুমুল হর্ষধ্বনি নিসর্গ নহবতে
সেখানেও পায়ের ছাপ সকাল দুপুর কিংবা সন্ধ্যের আলোছায়ায়।
নদীর বুকে জেগে ওঠা কুমারী সূর্য শেষ হাসি দিয়ে প্রেম জানাতো
মরুভূর বাসিন্দা এখন,আমার চারপাশে অক্ষাংশীয় জলবায়ূ বেল্ট
ভূ মহাজনেরা কেড়ে নিল আমার আতশ কাঁচের প্রেম
প্রেমখেকো লকলকে জিহ্বার বিষাক্ত লালায় মুছে গেলো আঙুলের,পায়ের ছাপ
বিপুল সমারোহে চূর্ণ করে দিলো পুর্বপুরুষের নামখচিত পাথরের শরীর।
চাঁদের সঙ্গে আমার সহস্র জন্মের প্রেম প্রমূর্ত ব্যথায় পার্মিয়ান সমুদ্র সঙ্কটে
ডাইনোসর আর চন্দ্রবোড়ার নৃত্যে ক্লান্ত হই,কষ্টগুলো বিমূর্ত হয়
পার্মিয়ান যুগের ক্রস রোড অতিক্রম করে শৈশব তখন সমস্ত শরীর ছুঁয়ে যায়,শুশ্রুষা দেয়।
আঙ্গারার ল্যান্ডমাসে তুলে দেয় চুনা পাথরের প্রাচীর,আর
ব্যাপক বিস্তৃত হিমবাহ ধীরে ধীরে গ্রাস করে আমায়
স্তন্যপায়ী শিশুর মতো অনন্ত অপার ক্ষুধায় শৈশব কৈশোরের অমৃত প্রেম পান করে ঘুমিয়ে পড়ি,নিদ্রিত শিশুর মতো হাসি কাঁদি।