মিলে-মিশে একাকার, আশা আর ভরসা,
মানবতাকে মিষ্টি মুখ করে, গিলে খেয়েছে,
স্মৃতির পাতায় জমছে শুধুই হতাশা,
লাভের লোভে হারায় জ্ঞান,
একে অপরকে ঠকিয়ে আনতে চাই সুখ,
চাকরি না পেলেই, যেতে হবে ইউরোপ।
ভুলে পা পিছলে যখন অন্ধকার গিরিখাতে,
বিষাক্ত কালো হাত আঁটকে দেয় শ্বাস নালীতে,
হৃদয়ের শুকনো বালুচরে জমে কষ্টের পদচিহ্ন,
ভেসে চলে খড়কুটো ভরসা করে মহাসমুদ্রে,
স্বপ্নে বিভোর মন, চেয়ে থাকে ঐ দূর আকাশ পানে,
যেখানে সীমানার প্রাচীর ভেঙেছে জলের ঢেউ।
জলের গর্জনে অন্তরাত্মা কেঁপে ওঠে ভয়ে,
ঐ-তো আর একটু পথ, দেখা যায় ইউরোপ,
এবার স্বপ্ন পূরন হবে।
অন্ধকারাচ্ছন্ন মেঘলা আকাশে ভেসে যাচ্ছে বাতাস,
পৃথিবী একাকার করে এ-প্রান্ত থেকে ওপ্রান্ত,
মস্ত সীমানা প্রাচীর ভেঙে।
মন প্রজাপতি হয়ে মধু খায় ইউরোপের বাগানে ঘুরে,
বাবা-মা,ভাই-বোন,স্ত্রী-সন্তান সকলের ভরসা হয়ে।
কাগজের স্যাম্পান স্বপ্ন নিয়ে হটাৎ তলিয়ে যায়,
গহীন থেকে গহীনের ভূতলে।
এক মূহুর্তে স্বপ্ন ভেঙে হয় খানখান,
চোখে মুখে অন্ধকার, আর অন্ধকার,
আহ্ নোনা জল বুকে, ঠুকে ঠুকে ক্ষত বিক্ষত করে।
শ্বাসের কষ্টে নাকে মুখে আসে টাটকা লাল রক্ত,
রক্তের স্বাদে শরীরটা ছিঁড়ে ক্ষুঁরে খায় মাংসাশী পিরানহা।
ঐ মূহুর্তে মনে পড়ে জন্মদাত্রী মায়ের স্পর্শ,
জীর্ণশীর্ণ যে দুটো হাত ছোট্ট থেকে আগলে রাখে।
অগণিত দেহ নোনা জলে ডুবে,
সাগর তলদেশে চকচকে বালুচরে দোলে,
অপ্সরা জীবজম্তু আর অপরুপ সৌন্দর্য মণ্ডিত বাগান সাগরতলে।
মুক্তোভরা ঝিনুক কুরনোর দেশে গড়াগড়ি করে দেহ।
মৃতদেহ পারেনা কোথাও নোঙর করতে!
পঁচাগলা দেহটাকে মাছেরা ঠুকরে ঠুকরে ছিঁড়ে খায়।
আত্মারা অসীম আকাশে সীমানা খোঁজে!
আকাশে কোথাও কোনো সীমানা প্রাচীর নেই___
কোথায় ইতালি, ইউরোপ, আমেরিকা, আর প্রিয় জন্মভূমি বাংলাদেশ।।
তাহলে
পৃথিবীকে কেন করেছো শৃঙ্খলিত!
আইন-কানুন, নিয়ম-নীতি জুলুমের জন্মসূত্র দিয়ে।
বেঁধে রেখেছো দুটো পা, সীমানা প্রাচীর দিয়ে,
দেশ ভাগ করেছো কাঁটা তারের বেড়াঁ দিয়ে,
মানুষকে পরাধীন করেছো পরিচয়পত্র দিয়ে ।
প্রাচীর বিহীন অসীম আকাশে, কিছুই প্রয়োজন নেই।