সালিশের বৈঠক বসেছে গনি মিয়ার স্ত্রী রেখার বিরুদ্ধে।চেয়ারম্যান সাহেব বললো -গনি মিয়া ঘরের বিষয় বাইরে আনলা কেনো?
এতে তোমারই ইজ্জত যাবে।
হুজুর আমার বউকে অনেক বুঝাইছি ছেলে মেয়ে বিবাহ যোগ্য হয়েছে।
সে পরকীয়া করছে তার চরিত্র নষ্ট।
সে আমাকে হুমকি দিয়ে বলে ছেলে মেয়ের জন্যেই এতোদিন ধৈর্য্য ধরে ছিলাম। তোমার সংসারে আর থাকবো না।
সে চলে যেতে চায় আমাকে তালাক দিতে চায়।হুজুর এই বয়সে এসে কেনো সে এসব করছে আপনি বিচার করেন।
চেয়ারম্যান সাহেব বললেন আমি একতরফা কথা শুনে বিচার করি না।
গনি মিয়ার স্ত্রী রেখাকে বিচারক জিজ্ঞাসা করলো,
বোন তোমার মনের কথা খুলে বলো।
ভয় লজ্জার কিছু নাই।
বলো দেখি কি সমস্যা?
রেখা বলা শুরু করলো-
চেয়ারম্যান সাহেব আমার বয়স হয়েছে বলে কি আমার মন নাই,ইচ্ছা নাই?
এতো বছর সংসারের জন্যে সবরকমের কষ্ট করছি, ছেলেমেয়েকে মানুষ করার জন্যে নিজের সব টাকা পয়সা গয়না ধার করে তার হাতে তুলে দিছি।
শেষ বয়সে ছেলে মেয়ের সফলতার জন্যে সুখের জন্যে, একটু ভাল খাবো ঘুরবো আরাম করবো সেই জন্যে।
কিন্তু গনিমিয়া সব বিশ্বাস ভেঙ্গে অন্যে নারীর সাথে প্রেম করে সময় কাটায়, আমাকে মানুষ বলে ভাবেই না,
পাত্তাই দেয় না।
সে যদি পারে আমি কেনো পারবো না?
আমি কিছুতেই তার সাথে নামে মাত্র সংসার আর করতে চাই না।
চেয়ারম্যান সাহেব ছেলে মেয়েদের ডেকে বললো এসব কথা কতোটা সত্যি?
বড়ছেলে বললো মা ঠিক বলেছে।
এই সংসারের সুখের জন্যে বাবাকে টাকা ওয়ালা করার জন্যে মা ভালো একটা শাড়ী ও কিনে নাই কোনোদিন।
এখন আর্থিক স্বচ্ছলতা আসায় বাবা সব ভুলে গিয়ে টাকা পয়সা সব ঐ পরনারীর পেছনেই খরচ করে।
মেয়ে বললোঃ
বাবা আজকাল ঘরে ও থাকে না।
চেয়ারম্যান সাহেব উনার লোকদের বললো –
এখানে একটা পানি ভর্তি কলসী আছে, এটা গনি মিয়ার পেঠে বেধেঁ দাও।
এই কলসী নিয়া গনি মিয়া দশবার উঠবস করো।গনিমিয়া কোনো রকমে তিন চার বার উঠবস করেই বললো হুজুর আমাকে অন্যে সাজা দিন তবুও এই কষ্ট দিয়েন না।
চেয়ারম্যান বললেন –
তুমি যে তোমার স্ত্রীকে দুই টা সন্তান দিয়া বিশ মাস বহন করাইছো তখন তার কেমন কষ্টটা হইছিলো? এরপর আছে চার চার আট বছর নির্ঘুম রাত সন্তান লালন পালনে, এতো কষ্ট করে যে তোমার জন্যে এতো বছর ছিলো,
তার মূল্য নাই তোমার কাছে।
তোমার মতন অমানুষদের কোনো ক্ষমা নাই।
বোন তোমাকে যে ভালোবাসে তার ফোন নাম্বার দাও আমাকে।
চেয়ারম্যান সাহেব ফোন করে সেই লোকটাকে ডাকলো।
জিজ্ঞেস করলো
তুমি কেনো পরকীয়া করছো বলো?
হুজুর আপনাকে সত্যি কথাই বলবো,
আমার বউ মারা যাবার পর আমি বিয়ে শাদী করি নাই।
ছেলে বিদেশে বউ নিয়ে থাকে।
আমি একা মানুষ।
রেখা আমার দেখা ভালো একজন নারী।
আমি কোন খারাপ কাজ করিনি রেখার হাত ও ধরিনি কোনদিন।ওকে পছন্দ করি এটা কি আমার অপরাধ?
তুমি কি ওকে বিয়ে করবা?
জ্বী করবো।
চেয়ারম্যান সাহেব ছেলে মেয়ের দিকে তাকিয়ে বললো –
তোমাদের আপত্তি আছে?
কিছু দিন পর তোমরা তোমাদের নিয়ে ব্যস্ত হয়ে যাবা।তোমাদের মা একা হয়ে যাবে।
তোমাদের বাবাতো চরিত্রহীন লম্পট,না হয় তোমাদের মা এমন হতো না।ছেলে মেয়ে বললো-আমাদের আপত্তি নাই।
গনিমিয়া হাত জোর করে বললো আমাকে শেষবারের মতো মাফ করে দিন।
তুমি একেতো মিথ্যাবাদী,
নিজের অপরাধ ডেকে বলেছো তোমার স্ত্রীর চরিত্র নষ্ট।
শোনো গনিমিয়া
মা জাতকে সম্মান দিবা।
আমরা পুরুষ জাতি এতো দাপট দেখাই ওদের পেটে জন্ম নিয়ে,
ওদের হাতেই লালিত পালিত হই
ওদের সেবায় বাচিঁ
সংসারে কতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করি।
যে জাতি নারীদের মূল্য দিয়েছে সেই জাতিই শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছে।আর মানুষকে ভালোবাসা বিশ্বাস দিয়ে অর্জন করতে হয়।জোর করে কৌশলে ধরে রাখা যায় না।
রেখা বললো তার চরিত্র নষ্ট । বিশ্বাস ভঙ্গ তো সে আগে ও বহুবার করেছে,আমি সহ্য করেছি।
তার জন্যে ঘৃণা ছাড়া এখন কিছু নাই আমার অন্তরে।
মানুষ একদিনের অসুখে ও মরে যায় আবার একদিনের সুখের আশা নিয়ে ও বাচেঁ,
মানুষ যতদিন বাচেঁ স্বপ্ন নিয়েই বাচেঁ।।
সমাপ্ত