তুমি চাওনি বলেই আমাদের দেখা হয়নি আর—
শেষ বিকেলের শেষ আলোয় মুখোমুখি হওয়া,
একটুখানি কথা বলা, কিংবা নীরবতার ভাষা—
সবকিছুই থেকে গেছে অস্ফুট, অপ্রকাশ্য।
হয়তো আর কোনদিন দেখা হবে না তোমার আমার,
কোনো সন্ধ্যার ছায়ায় মুখোমুখি দাঁড়ানোও নয়,
মুদ্রিত হবে না আর কোনো কথা টেলিফোনের তারে,
শুধু নিঃশব্দ বাতাসে ঝরবে
একান্ত কণ্ঠহীন দীর্ঘশ্বাস।
তুমি চাওনি বলেই—
বুকের পাঁজরের কোণে জমে থাকা কথাগুলো
আজও নীরব,
অভিমানী জল হয়ে নামে চোখের পাতায়।
কত স্মৃতি, কত না বলা প্রশ্ন—
বৃষ্টির জলে ধুয়ে গেছে কতবার,
তবু বয়ে চলে, অশ্রুহীন নদীর মতন।
তুমি চাওনি বলেই—
সেদিনের শেষ বিকেলের রোদ্দুরটুকু
ম্লান হয়ে গেছে কুয়াশার আড়ালে,
আর শরতের মেঘেরা আজও প্রশ্ন ছুঁড়ে দেয়—
কেন এমন দূরত্ব? কেন এমন নৈঃশব্দ্য?
হয়তো আর কোনদিন মুখোমুখি হবো না,
অথচ তবু মনে পড়ে—
সেই নির্জন পথ, সেই ছায়া-ঢাকা জানালা,
তোমার আনমনা দৃষ্টি,
শব্দহীন বিদায়ের সেই মুহূর্ত।
তুমি চাওনি বলেই—
আকাশ আজও ফাঁকা, মেঘেরা নীরব,
তবু দূরের বাতাসে ভেসে আসে
এক অব্যক্ত সুর,
তোমার না বলা কথাদের গোপন রাগিণী।
তুমি চাওনি বলেই—
সব কাব্য থেমে গেছে এক চুপচাপ নদীর তীরে,
হয়তো সে নদীর তীরে আর ফুল ফোঁটে না,
হয়তো জোয়ার আসে না—
তবুও গহীন রাতের অন্ধকারে
আমি শুনি—
এক অবিচল সুর বয়ে যায় তোমার নামে।
তুমি চাওনি বলেই—
আমার সমস্ত শব্দ আজও নীরব,
ভাষা খুঁজে পায় না আর কোন কবিতায়,
তবু অন্তরালের এক গহন গভীরে
তুমি রয়ে যাও—
এক নিঃশব্দ, অনিঃশেষ প্রতিধ্বনি হয়ে।
হয়তো আর কোনদিন দেখা হবে না,
তবু জানবে কি?
এই নৈঃশব্দ্য, এই অভিমান—
সবকিছুর মাঝেই রয়ে গেছে
অস্পষ্ট ভালোবাসারই আর্তনাদ।