ছাত্র জনতার অভ্যুত্থানে কুমিল্লা নগরীর পুলিশলাইন এলাকায় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের উপর গুলিবর্ষণ ও হামলার ঘটনায়, ২৪ জন আইনজীবী আসামির মধ্যে সাবেক পিপি সহ ৬ জনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন কুমিল্লা দায়রা জজ আদালত।
গত সোমবার(২১ এপ্রিল) দূপুর ২:৩০ মিনিটে কুমিল্লা দায়রা জজ আদালতের বিচারক মাহবুবুর রহমান এই রায় দেন।
তার আগে হাইকোর্ট থেকে ৮ সপ্তাহের আগাম জামিন নিয়ে আজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আত্মসমর্পণ করেন আসামিরা। এতে অনুপস্থিত ছিলেন ২ জন সাজাপ্রাপ্ত আসামি। এতে বিচারক ২৪ জন আসামির মধ্যে ১৮ জনকে জামিন দিয়ে ৬ জনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। তবে ২ জন পলাতক থাকায় ৪ জনকে কারাগারে পাঠানো হয়।
পুলিশ ও সেনাবাহিনীর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে আইনজীবীদের আদালত থেকে কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। এসময় তাদের উপর ডিম নিক্ষেপ ও ভুয়া ভুয়া স্লোগান দিয়ে থাকেন সাধারণ ছাত্র জনতা। এছাড়া রায়ে অসন্তুষ প্রকাশ করেন বাদি বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের নেতা ইনজামামুল হক রানা ও কুমিল্লা দায়রা জজ আদালতের বর্তমান পিপি কাইয়ুমুল হক রিংকু।
আদালতে শুনানির সময় আসামি পক্ষ থেকে একটি আপোশনামা পেশ করা হয়। যা মিথ্যা ও বানোয়াট বলে সশরীরে বক্তব্য দেন বাদি সহ উপস্থিত সাক্ষীগন। তারপরেও আদালত আসামিদের জামিন দেওয়ার কারনে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মনে ক্ষোভ বিরাজ করছে।
কারাগারে পাঠানো চারজন আইনজীবী হলেন, সাবেক পিপি ও কুমিল্লা আইনজীবী সমিতির সভাপতি মুস্তাফিজুর রহমান লিটন, কুমিল্লা বারের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম ভউইয়া। এড. সাইফুল ইসলাম ভুইয়া ও এড. জাকির হোসেন।
এছাড়া পলাতক থাকায় যে দুজন আইনজীবীকে আটক করা সম্ভব হয়নি তারা হলেন, এড. এম এম মইন ও এড. জিয়াউল হাছান চৌধুরী সোহাগ।
বাদি পক্ষের মামলা সূত্রে জানা যায়, গত ৩ আগষ্ট বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালীন সময়ে কুমিল্লার পুলিশ লাইন এলাকায় ছাত্র-জনতা ও নারীদের উপর আতর্কিত হামলা চালায় আওয়ামিলীগ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের কর্মীরা।উক্ত হামলার ঘটনায় আদালতে ২৪ জন আইনজীবী ও আওয়ামিলীগের নেতাদের আসামি করে একটি মামলা করেছিলেন বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের নেতা ইনজামামুল হক রানা ।
তিনি বলেন, আওয়ামীপন্থী আইনজীবীরা ভুয়া একটি আপস নামা দাখিল করেছে । আমি বাদী আমি আপস নামায় স্বাক্ষর করিনি । এই বিষয়ে আমি কিছুই জানিনা। আজ আদালতে আসার পরে দেখি তারা ভুয়া আপোসনামা পেশ করে। এরা জালিয়াতি আশ্রয় নিয়েছে ।” আমি তাদের সর্বোচ্চ বিচার দাবি করছি।
বাদি পক্ষের আইনজীবী কুমিল্লা দায়রা জজ আদালতের পিপি, অ্যাডভোকেট কাইয়ুমুল হক রিংকু বলেন, “আসামিরা হাইকোর্ট থেকে ৮ সপ্তাহের জামিন নিয়ে আসছিলেন। আজকে জামিনের মেয়াদ শেষ হলে তারা দায়রা জজ আদালতে আত্মসমর্পণ করে। আদালত ৬ জনের জামিন নামঞ্জুর করে। তারমধ্যে দুইজন পলাতক ও চার জনকে হাজতে পাঠানো হয়।”
তিনি আরো বলেন, “আমরা এ রায়ে সন্তুষ্ট না। কারন, আসামি পক্ষের আইনজীবী আদালতে একটি আপসনামা পেশ করে। অথচ বাদি নিজে উপস্থিত থেকে সেই আপসনামার বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়। তারপরেও আদালত তাদেরকে জামিন দেয়। তারা যে সবকিছুতে দুই নাম্বারি করে বাচতে চায় । আজকের এই নকল আপসনামা তার প্রমান। তাদের পুর্বের কাজকর্ম যেমন খারাপ ছিল এখনো তার ভাল হতে পারে নাই। আমরা চাই এখানে একটা তদন্ত করা হোক। আপোস নামার সত্যতা বের করা হোক, তারপর চুড়ান্ত রায় দেওয়া হোক।”