ইট পাথরের এই শহরে আমি বড্ড একা—
ভীড়ের ভেতরেও নিঃসঙ্গতার অদৃশ্য
দেয়াল তুলে দাঁড়িয়ে আছি।
অসংখ্য মানুষের পায়ের শব্দ শুনি,
তবু কেউ আমার জন্য থামে না,
কেউ আমার চোখের ভাষা পড়ে না।
বহু বছর ধরে এই অচেনা আলোর শহরে
আমি খুঁজেছি একটি আপন মুখ,
একটি উষ্ণ হাত,
যেখানে ক্লান্তি রেখে একটু নিঃশ্বাস নিতে পারি।
কিন্তু সব আলোই এখানে কৃত্রিম,
সব হাসিই যেন সাজানো কোনো অভিনয়।
একাকিত্বের দীর্ঘ পথ আমাকে শিখিয়েছে—
মানুষের ভেতরেও কত গভীর অন্ধকার লুকিয়ে থাকে।
আমি দেখেছি সম্পর্কের ভাঙা সেতু,
দেখেছি বিশ্বাসের শুকনো নদী,
যেখানে মমতার কোনো জোয়ার ওঠে না আর।
রাত নামে—
নগরীর আলো জ্বলে ওঠে হাজার রঙে,
কিন্তু আমার ভেতরের অন্ধকার
আরও গাঢ় হয়ে বসে।
এই নিঃশব্দ শূন্যতায়
আমি নিজেকেই প্রশ্ন করি—
ভালোবাসা কি সত্যিই কোথাও আছে?
হয়তো আছে,
কিন্তু আমার জন্য নয়,
এই শহর আমাকে শুধু শিখিয়েছে
কীভাবে নিঃসঙ্গতা বয়ে নিয়ে বাঁচতে হয়।
তবু কোনো এক অজানা ভোরের আশায়
আমি এখনো পথ চলি—
যদি কখনো এই আড়ষ্ট পৃথিবী
এক ফোঁটা মমতায় ভিজে ওঠে,
যদি কোনো একদিন
এই নগরীর বুকেই
আমার জন্যও জ্বলে ওঠে
একটি সত্যিকারের ভালোবাসার আলো।