নিজস্ব প্রতিনিধি: নতুন প্রজন্মের কবি, গীতিকার, সুরকার ও কণ্ঠশিল্পী কামরুন নাহার সিপু ছোটবেলা থেকেই সংগীত ও লেখালেখির সঙ্গে জড়িত। জন্মের পর বাবার অনুপ্রেরণায় ছয় বছর থেকেই সংগীতজগতে প্রবেশ করেন। রূপসী বাংলার কবি জীবনানন্দ দাশের বিখ্যাত কবিতার পঙ্ক্তি “আবার আসিব ফিরে ধানসিঁড়িটির তীরে”-র পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া দক্ষিণাঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী বরিশাল শহরে ১৯৮৫ খ্রিস্টাব্দের ১৬ জুলাই জন্মগ্রহণ করেন। ছয় ভাইবোনের মধ্যে তিনিই সবার ছোট। বাবার চাকরি সুবাদে যশোরের ক্যান্টনমেন্ট থেকে এসএসসি পাস করেন। সেখানেই শৈশব-কৈশোর কেটেছে তাঁর। বাবা সরদার হারুন আল রশীদ ছিলেন একজন সরকারি কর্মকর্তা।
ভালোবাসতেন গান ও কবিতা। তিনি নিজেও একজন গীতিকার। ২০০৭ সালে অমর একুশে গ্রন্থমেলায় তাঁর লেখা “আমার যতো গান” নামক একটি বই প্রকাশিত হয়। এছাড়াও আরও বেশ কয়েকটি গল্প ও উপন্যাসের বই বের করেন, যা পাঠক সমাজে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। তাঁর বাবার স্বপ্ন ছিল মেয়ে একদিন ভালো একজন লেখক হবে, সুরেলা কণ্ঠের গায়িকা হবে। পরবর্তীতে বাবার স্বপ্ন পূরণ করতে লেখাপড়ার পাশাপাশি ওস্তাদ এবং কলকাতার সংগীতশিল্পী শিবেন্দ্রনাথ ব্যানার্জীর দিকনির্দেশনা ও আশীর্বাদে সংগীতচর্চা শুরু করেন। একসময় বরিশাল ও যশোরের উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী এবং বরিশাল বেতারে শিশুশিল্পী হিসেবে চাল পেয়েছিলেন (স্থান পেয়েছিলেন)। তাঁর বাবার লেখা “আমার যতো গান” বই থেকে বেশ কয়েকটি গান, তাঁর বাবার গানগুলো গেয়ে বরিশাল ও যশোর জেলায় শিশুশিল্পী হিসেবে বেশ পরিচিতি লাভ করেন। পরবর্তীতে নিজেও গান ও কবিতা লেখা শুরু করেন। তাঁর প্রথম লেখা ও সুর করা গান “দুচোখে আজ শুধু তুমি তুমি” এই গানটি ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। এমনকি এই গানটি ২০২১ সালে চলচ্চিত্রে নেওয়ার জন্য তাঁর কাছে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। তিনি গানটি দিতেও চেয়েছিলেন, কিন্তু যখন জানতে পারলেন যে, গীতিকার হিসেবে তাঁর নাম থাকবে না, তখন গানটি দেওয়ার প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছেন। এছাড়াও তাঁর আরো বেশ কিছু গান জনপ্রিয়তা পেয়েছে; তার মধ্যে “আজ রাতে”, “মিতালী হয়েছে তারার সাথে” আরো অনেক গান দর্শকের হৃদয়ে কেড়েছে। বর্তমানে তিনি ভক্তদের অনুরোধে বিভিন্ন চ্যানেল ও স্টেজে প্রোগ্রাম করে থাকেন।
এ পর্যন্ত তিনি প্রায় ১৫০টি বেশি গানে সুর করেছেন এবং তাঁর সুরকৃত বহু গান বাংলাদেশ টেলিভিশনে প্রচারিত হয়েছে। এখানেই শেষ নয়, সাহিত্য জগতে অল্পদিনেই ব্যাপক সুনাম কুড়িয়েছেন। একজন কবি হিসেবে ব্যাপক পরিচিতি আছে তাঁর। তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ “গোধূলির অনুভবে”, দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ “মায়ার বাঁধন”—এই দুটো বই ব্যাপক পাঠকপ্রিয়তা পায়। এছাড়াও দেশের সুনামধন্য কবিদের সাথে ১৭টি বইয়ের কবিতা স্থান পেয়েছে। লেখালেখি ও সংগীতে অসংখ্য সম্মাননা অর্জন করে এই গুণী কবি ও গীতিকার স্বর্ণপদক পেয়েছেন। ২০০৮ সালে ব্যাংকার তারিকুল ইসলাম তুহিন এর সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। ব্যক্তিগত জীবনে এক ছেলে এক মেয়ের জননী। বিয়ের পর শ্বশুর-শাশুড়ি সংগীত অপছন্দ করার কারণে সাহিত্য ও সংগীত থেকে কিছুটা পিছিয়ে পড়েন। পরবর্তীতে ২০২১ সালে স্বামীর অনুপ্রেরণায় আবার পুরোপুরি সাহিত্য ও সংগীতচর্চা শুরু করেন। নির্দ্বিধায় বলা যেতে পারে বাবার স্বপ্ন বাস্তবায়নের অদম্য ইচ্ছের বিজয় দেখেছেন তিনি। নিজের ভাবনা গড়ে তোলবার শব্দ সৈনিক, জীবন সাজানোর সফল যোদ্ধা। নির্দ্বিধায় বলা যেতে পারে যে, কবি জীবনানন্দ দাশের মতোই প্রকৃতির রূপ-রসের ভেতরেই নিজের ভাবনার বহিঃপ্রকাশ ঘটানোর চেষ্টা অত্যন্ত বিচক্ষণতার সাথে করে যাচ্ছেন এই কবি ও গীতিকার। সুন্দর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর। মানুষের পরিকল্পনাগুলো প্রকৃতির মতো পরিবর্তনশীল। তাই নিজেকে অতিক্রম করতে চান। ইচ্ছে আছে আজ যা করছেন, কাল তার চেয়ে ভালো করার। আর অবশ্যই সৃজনশীল কিছু গান লিখতে চান মানুষের জন্য।