1. admin@mannanpresstv.com : admin :
শিশু ধর্ষণ-হত্যার আসামির বাড়ি গুঁড়িয়ে পুকুর বানাচ্ছে জনতা - মান্নান প্রেস টিভি
শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৩৬ অপরাহ্ন

শিশু ধর্ষণ-হত্যার আসামির বাড়ি গুঁড়িয়ে পুকুর বানাচ্ছে জনতা

অনলাইন ডেস্ক:
  • Update Time : শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬
  • ৩ Time View

পাবনার সদর উপজেলার দোগাছি ইউনিয়নের কুলোনিয়া গ্রামে ১০ বছরের শিশু কামরুন্নাহার কলিকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত মোস্তফা কামালের বাড়ি গুঁড়িয়ে দেওয়ার পর এবার ওই বাড়ির মাটিও তুলে নিয়ে যাচ্ছেন বিক্ষুব্ধ জনতা। বাড়িঘর ভাঙচুরের পর মাটি পর্যন্ত নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। একইসঙ্গে মামলার তদন্ত ও পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন শিশুটির স্বজনেরা।

গত ১৮ সেপ্টেম্বর শুক্রবার জুমার নামাজের পর বাড়িটি ভাঙার কাজ শুরু হয়। ২৪ অক্টোবর শনিবার পর্যন্ত এ কার্যক্রম চলছিল।

শনিবার দুপুরে বাড়িটিতে গিয়ে দেখা যায়, দোতলা বাড়িটি সম্পূর্ণ ভেঙে ফেলা হয়েছে। সেখানে একসময় বাড়ি ছিল, তা বোঝারও কোনো উপায় নেই। পুরো জায়গাটি এখন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। মাটির নিচে থাকা ভিত্তির রড পর্যন্ত কেটে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ইট ও বালু গাড়িতে করে অন্যত্র নিয়ে বিক্রি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা।

বাড়ির মাটি কেটে নিয়ে যাওয়ার কাজে যুক্ত শ্রমিক সলিম প্রামানিক বলেন, ‘মোস্তফা যে পাপ করেছে, তার শাস্তি হিসেবে তার বাড়িটি আমরা রাখিনি। এখন তার বাড়ির মাটি নিয়ে গিয়ে আমরা রাস্তায় দিচ্ছি, বাড়ির প্রয়োজনে কাজে লাগাচ্ছি। আমরা এখানে পুকুর তৈরি করব।’

বাড়ি ভাঙার কাজে অংশ নেওয়া আতাইকুলার মাধপুর এলাকার রুবেল হাসান বলেন, ‘ধর্ষক ও খুনি মোস্তফার বাড়ির কোনো চিহ্ন রাখা হবে না। ইট তো দূরের কথা, একটা বালিও এখানে রাখা হবে না। এখানে পুকুর হয়ে যাবে। নিদর্শন হিসেবে রাখা হবে, ধর্ষকের পরিণতি কী হয়, সেটি বোঝানোর জন্য।’

এদিকে বাড়ি ভাঙার কাজ শেষ পর্যায়ে পৌঁছালেও মামলার তদন্ত শেষ করে অভিযোগপত্র দাখিল না করায় হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিশুটির স্বজনেরা।

শিশুটির দাদা আব্দুস সোবহান বলেন, ‘এখনো চার্জশিট দেওয়া হয়নি। এতদিনে চার্জশিট দিয়ে দেওয়া দরকার ছিল। এটা প্রশাসনের গাফিলতি আছে বলে মনে হচ্ছে।’

তিনি দ্রুত তদন্ত শেষ করে মামলার পরবর্তী আইনি কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার দাবি জানান।

শিশুটির আরেক স্বজন রমজান আলী বলেন, ‘দোতলা বাড়ি একে একে ভাঙা হচ্ছে, কাজ শেষ হয়ে গেছে। বাড়ির কোনো চিহ্ন পর্যন্ত নেই। অথচ এখনো মামলার কাগজপত্রের কাজ শেষ হয়নি বলে শুনছি। এতদিনে তো বিচার শুরু হওয়ার কথা। সবার কাছে আমাদের একটাই দাবি-একটি শিশুর ধর্ষণের ঘটনা যেন টাকার কাছে বিক্রি হয়ে না যায়। পুলিশ প্রশাসনকে আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করতে হবে।’

এ বিষয়ে পাবনা জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুস সালাম বলেন, ‘মামলার অগ্রগতি হচ্ছে। ফরেনসিক রিপোর্ট হাসপাতালে চলে আসছে শুনেছি। দ্রুতই আমরা চার্জশিট দিয়ে দেব। শিশু কলি ধর্ষণ হত্যা মামলায় কোনো গাফিলতি করার সুযোগ নেই।’

প্রসঙ্গত, গত ৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যার পর বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয় তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী কামরুন্নাহার কলি। সাত দিন পর ১৬ সেপ্টেম্বর সকালে কুলোনিয়া গ্রামে বাড়ির পাশের একটি ডোবা থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় তার লাশ উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় প্রতিবেশী মোস্তফা কামাল ও তার ভাড়াটিয়া ইয়াছিন আলীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পুলিশের দাবি, ৯ সেপ্টেম্বর মাগরিবের পর মোস্তফার দোকানের পেছনের একটি কক্ষে কলিকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। পরে লাশ বস্তাবন্দি করে ডোবায় ফেলে দেওয়া হয়।

পুলিশ আরও জানায়, ঘটনা আড়াল করতে আসামিরা নিজেরাই কলিকে খোঁজার কাজে অংশ নিয়েছিলেন। পুলিশের দাবি, রিমান্ডে মোস্তফা ধর্ষণ ও হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। তবে ইয়াছিন ধর্ষণ ও হত্যার কথা অস্বীকার করে হত্যার পর সহযোগিতা করার কথা জানিয়েছেন। এ ঘটনায় উদ্ধার করা আলামত ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। সেখান থেকে প্রতিবেদন পাওয়ার পর পূর্ণাঙ্গ অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

Categories

© All rights reserved © 2022 mannanpresstv.com
Theme Customized BY WooHostBD