সারা দেশে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রার্থীদের মাঝে প্রতীক বরাদ্দ আজ সোমবার সকাল থেকে শুরু হয়েছে। ঢাকায় সকাল সাড়ে ৯টায় সেগুনবাগিচায় ঢাকা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তা সাবিরুল ইসলাম ঢাকা-৪ আসন দিয়ে প্রতীক বরাদ্দ শুরু করেন।
বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে ঢাকা মহানগরের ৪ থেকে ১৮ নম্বর আসনের প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে। প্রতীক নিতে সকাল থেকে প্রার্থীরা ঢাকা বিভাগীয় কমিশনে হাজির হচ্ছেন।কমিশনারের কার্যালয়ে অবস্থান করে দেখা গেছে, মূলত দলীয় প্রার্থীরা দলীয় প্রতীকই বরাদ্দ পাচ্ছেন। বেলা ১১টা পর্যন্ত ঢাকা-৪, ৫, ৬ ও ৭ নম্বর আসনে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
মহানগরের ১৫টি আসনে অংশ নেওয়া দলগুলোর মধ্যে আছে আওয়ামী লীগ (নৌকা), জাতীয় পার্টি (লাঙল), তৃণমূল বিএনপি (সোনালী আশ), বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি (হাতঘড়ি), বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট (ছড়ি), ইসলামি ঐক্যজোট (মিনার), বাংলাদেশ কংগ্রেস (ডাব), ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (আম), বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি (একতারা), গণফ্রন্ট (মাছ), জাতীয় পার্টি-জেপি (বাইসাইকেল) ও জাসদ (মশাল)।
ঢাকা-৪ আসনে দলীয় প্রার্থী ৯ জন।আর স্বতন্ত্র দুজন। আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী সানজিদা খানম নৌকা, তৃণমূল বিএনপির রফিকুল ইসলাম সোনালী আশ, বাংলাদেশ কংগ্রেসের মো. সোহেল ডাব প্রতীক বরাদ্দ পেয়েছেন। এ ছাড়া, স্বতন্ত্র আওলাদ হোসেন-ট্রাক, মনির হোসেন স্বপন- ঈগল, ইয়াসিন হোসেন (বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি)-হাতঘরি, সালেহ আহমেদ সোহেল (বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট)- ছড়ি, সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা (জাতীয় পার্টি)- লাঙল, শাহ আলম (ইসলামি ঐক্য জোট)-মিনার প্রতীক বরাদ্দ পেয়েছেন।
ঢাকা-৫ এ দলীয় প্রার্থী ১২ জন।দুজন স্বতন্ত্র। আওয়ামী লীগের প্রার্থী হারুনুর রশিদ মুন্না নিজে এসে দলীয় প্রতীক নিয়ে যান। স্বতন্ত্র প্রার্থী কামরুল ইসলাম ও মশিউর রহমান মোল্লা স্বপন দুজনই ঈগল প্রতীক চান। তখন ঢাকা বিভাগের রিটার্নিং কর্মকর্তা দুজনের মধ্যে লটারি করেন। লটারিতে কামরুল হাসান ঈগল প্রতীক পান।
অন্য প্রার্থীদের মধ্যে আবু জাফর মো. হাবিবুল্লাহ (ইসলামিক ঐক্যফ্রন্ট)- চেয়ার, মশিউর রহমান মোল্লা স্বপন- ট্রাক, এস এম লিটন (ন্যাশনালিস্ট ঐক্যফ্রন্ট)- টেলিভিশন, মো. আবু হানিফ (তৃণমূল বিএনপি)- সোনালী আশ, আব্দুল কায়ুম (ইসলামি ঐক্যজোট)-মিনার, আরিফুর রহমান (ন্যাশনাল পিপলস পার্টি)-আম, মোশাররফ হোসেন মিয়া (বাংলাদেশ সুপ্রীম পার্টি)-একতারা, সাইফুল আলম (বাংলাদেশ কংগ্রেস)-ডাব, মো. সারওয়ার খান (জাতীয় পার্টি)- কাঁঠাল, নুরুল আমিন (বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট)-ছড়ি প্রতীক বরাদ্দ পেয়েছেন।
এ আসনের আওয়ামী লীগের প্রার্থী হারুনুর রশিদ মুন্না বলেন, ‘নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বীতামূলক হবে। এলাকার উন্নয়ন যা করার ছিল তা আগের সংসদ সদস্যরা করে গিয়েছেন। যদি কিছু বাকি থাকে আমি তা সম্পূর্ণ করবো।’
ঢাকা-৬ এ কোনো সতন্ত্র পার্থী নেই। এ আসনে আবু হামিদুর রেজা খান ভাসানী (ন্যাশনাল পিপলস পার্টি)- আম, কাজী সিরাজুল ইসলাম (তৃণমুল বিএমপি)- সোনালী আশ, সাঈদ খোকন (বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ)- নৌকা, আক্তার হোসেন (বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট)- ছড়ি, আমিনুল ইসলাম সরকার (গণফ্রন্ট)-মাছ, রবিউল আলম মজুমদার (ইসলামী ঐক্যজোট)-মিনার, সৈয়দ নাজমুল হুদা (জাতীয় পার্টি, জেপি)-বাইসাইকেল বরাদ্দ পেয়েছেন।
সাঈদ খোকন প্রতীক নিতে নিজেও আসেনি প্রতিনিধিও পাঠাননি। রিটার্নিং কর্মকর্তা জানিয়েছেন, খোকনের প্রতিনিধি যখন আসবে তখন প্রতীক দিয়ে দেওয়া হবে।
ঢাকা-৭ আসনেও কোনো সতন্ত্র পার্থী নেই। এ আসনে নূর জাহান বেগম (বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট)- ছড়ি, আফসার আলী (বাংলাদেশ সুপ্রীম পার্টি)- একতারা, সাইফুদ্দিন আহমেদ মিলন (জাতীয় পার্টি)-লাঙল, সোলায়মান সেলিম (বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ)-নৌকা, মাসুদ পাশা (ন্যাশনাল পিপলস পার্টি)-আম, হাজি মোহাম্মদ ইদ্রিস ব্যাপারি (জাসদ)-মশাল পেয়েছেন।
আওয়ামী লীগের প্রার্থী সোলায়মান সেলিম নিজে আসেনি। প্রতিনিধি পাঠিয়ে প্রতীক বুঝে নিয়েছেন।