কবি আলমগীর হোসেন এর কবিতা- জীবন তরী
জীবন তরী চলছে নিরবধি
ভাবছেনা কখনও হবে গতিহীন
তাই চলছে উদ্যমতায়
চলছে উচ্ছলতায়
ধার ধারেনি কভু কারোই
এখনও ঠিক তাই
জীবন তরী চলছে তার মতোই।
শুরুতে তরী চলার ক্ষেত্রে
ছিলো কিছুটা নির্ভর অন্যের উপর
তবুও ছিলো আস্থা,
আছে বলে স্বজন
তাই পার করে হাস্যৌজ্জ্বল সময়।
মাঝখানে তরী বহে টালমাটাল
সবকিছুই যেন শুধু তার
কারো তরী হলেও ছন্নছাড়া
আবার কারো কারো স্বর্ণোজ্জল
যাহা হয় সুখেদুঃখে অন্যের চলার হাতিয়ার।
স্বর্ণোজ্জল তরীখানি
পড়ে যখন ভাটার টানে
কিছুটা অসহায় বোধ করে তরী
মনে হতে থাকে কেবলই
যেনো ডুবো ডুবো ভাব।
বিষণ্ণতা ভর করে
স্মৃতিচারণে মগ্ন থাকে
হাস্যৌজ্জ্বল শুরুটার এবং স্বর্ণোজ্জল মধ্যমটার
যাহা অবলম্বন ভেসে থাকার।
এরই মাঝে কখন ডুববে তরী
কেউই জানেনা
ভাটা যে টানছে জোরেশোরে
গন্তব্য যেথায় নির্ধারণ করে রেখেছে বিধি।
হঠাৎ একদিন ডুবে যাবে তরী
সব কিছুই হয়ে যাবে শেষ
এই ভেবে জীবন তরী
শেষ মূহুর্তে বড্ড হয়ে পড়ে অসহায়।
কারণ শুরুটার মতো শেষটায় যে
করতে হয় নির্ভর অন্যের উপর
থাকুক যতোই প্রভাব প্রতিপত্তি
মাঝখানে তরীর উদ্যমতায়।
শুরু আছে যার, শেষও আছে তার
তাই জীবন তরী হবে বিলীন একদিন
মনে রেখে চলা উচিত এমনটা সবসময়
তাহলে তরী ডুবার আগে-পরে
কখনোই অসহায় মনে হবেনা।।