কওতো তোমারে কি ভুইলা থাকন যায়?
আন্ধার রাইতে আমার আন্ধার ঘর আলো কইরা রাখতো যে মানুষ টায়,
সোহাগের সলতা দিয়া যে জ্বালাই দিতো আলোর বাত্তি
হেই মানুষটারে কি ভুইলা থাকন যায়?
ভরা বসষা মাসে যে মানুষ টার কাছে রাইত দুপুরে আবদার করতাম শাপলা তুইলা দেওনের,
আর আমার সহজ সরল মানুষটায় তহন মাঝ রাইতেই সাতরাইয়া আমার জইন্যে শাপলা ফুল আইনা হাতে দিতো,
একখানা শাপলার মালা বানাইয়া
পরাইয়া দিতো আমার গলায়,
হেই মানুষটারে কি ভুইলা থাকন যায়?
হাঁটে , নাইলে মেলায় গেলে যে মানুষ টা নিজের জইন্যে এক ট্যকার বেহাতি খাওনের কথা মনে রাখতো না ।
আমার জইন্যে চুড়ি , মালা , ফিতা আর আলতা কেননের নেশায়,
হেই মানুষটারে কি ভুইলা থাকন যায়?
একটা কদম ফুল চাইছিলাম বইলা যে মানুষটায় এক নৌকা ভইরা কদম ফুল আইনা,
আমারে ভালোবাসার কথা জানায়
হেই মানুষটারে কি ভুইলা থাকন যায় ?
আমার একটু জর কাশী হইলেই
যার নাওন খাওন বন্ধ হইয়া যাইতো,
দিন রাইত ছুইটা বেরাইতো আমারে সুস্থ করনের নেশায়
আমার চোখের দিকে চাইয়া যার চোখের জলে গামছা ভিইজজা যাইতো,
আমারে বুকে জরাইয়া যে মানুষটায়
ছোড পুলাপানের লাহান চিককুর পাইরা কানতো,
হেই মানুষটারে কি ভুইলা থাকন যায়?
যে মানুষটার বুকের মইধ্যে বিরান চর,
তার মধ্যে কেবল আমার লাইগাই একখান সুখের সংসার পাইতা রাখছে ,
হেই সংসারে ঘর দুয়ার সবখানেই ভালোবাসা দিয়া ভরাইয়া রাখছে যে মানুষ টায়
হেই মানুষটারে কি ভুইলা থাকন যায়?