কতো মাছ ধরেছি আমি এক বয়সে,
এসব এখন কায়েম হয়ে গেছে!
সেই কাল এখন আর নেই একালে!
শুনলে কথা থমকে উঠে একালের
পোলাপাইনে আজব মনে করে!
পাখির ছানা ধরতে মান্দার গাছে
উঠতাম কতো বেয়ে কাঁটার ঘায়ে
রক্ত ঝরত ব্যাথা লাগতো না মনে!
মান্দার গাছটা দেখতে কেমন?
ওরা জিজ্ঞাসে যখন আমি বলি
শুন, গাছটার আছে গায়ে কাটা
বিঁধলে দেহে ধরে বিষের জ্বালা!
ভাবে ওরা,এইডা কেমন কথা?
পাখি ডাকে নিশি ভোরে কালি
আন্ধাইর বলে মা’য়ে,ভূত-পেত্নীর
আছর ধরবে এই সময়ে যাসনি
তুই লক্ষীসোনা ঘরের বাহিরে।
ভয় হতো না মোটেও মনে একাই
যেতাম ঘরের বাহিরে সবার আগে
পুকুর পারের বড়ুই গাছের তলে।
অগ্রহায়ণে পাকা ধানের খেতে
ইদুরে কেটে করতো খানখান
হাত ঢুকিয়ে আনিতাম তুলে,
ওদের কাটা গর্তে জমানো ধান।
আজকের শিশু শুনেই ভাবে
কি সাঙ্ঘাতিক ভয়ঙ্কর কথা রে!
খালি বিলে পুকুর নালা ডোবা
জলাশয়ে,ডুবাইয়া মাছ ধরতাম
সবাই মিলে দারুণ হেসে খেলে।
মাঝেমধ্যে মাইট্যা সাঁপ এনেছি
লেজে ধরে বাইম মাছ মনে করে!
ধানের মুড়কী নাড়ার বুজা বাজার
সদাই সারের বস্তা কয়েক ক্রোশ,
পায়ে হেঁটে আনতাম মাথায় করে।
বইয়ের গাট্টি কাঁখে করে বর্ষাকালে
নৌকা বেয়ে কাদা জলে কতো কষ্টে
দলবেঁধে মোরা সবে স্কুলে যাইতাম!
ফুটবল হাডুডু গোল্লাছুট দাড়িয়াবান্ধা
বউচি কানামাছি কুতকুত খেলা
খেলতাম কতোই’না আনন্দ করে।
পান্তাভাতে মরিচ পুড়া শুঁটকি ভর্তা
কাঁচা পেয়াজে লবন জলে ঢলে
মোরা নাস্তা করাতাম সাতসকালে।
বাঁশের পাটি,হোগলা,দাঁড়ি মাটিতে
পাতি ঘুমাইতাম ঘরের সবাই মিলে।
নেই লেপ কম্বল কাঁথাই হলো সম্বল,
এক কাঁথার নিচে ঘুম হতো ভালো
নাড়ার পারা খড়ের পারা ধানের জমি
ফসলে ভরা,গোয়ালে ভার গরু,পুকুর
ডোবা মাঠঘাট ঝিল বিলে মাছে ভরা।
ভাবছি বসে এসব এখন কোথা গেলো?
সেকালের সেই মধুর জীবন আর কি
আসবে ফিরে মোদের এ বাংলার ভূমে?
ভাবতে গেলে নয়ন জলে অন্তর কাঁদে!