শীতের সকাল একটু অন্যরকম
পুবের জানালা ভেদ করে
সূর্যের আলোর ছোঁয়ায়
ভোরবেলা ঘুম ভাঙত।
সকাল হলেই মা ডাকতো
আরবি পড়তে যাওয়ার জন্য
তখন ভয়ে,শীতে কুকড়ে
চাদর গায়ে ছুটতাম মক্তবে।
গাছের পাতা থেকে শিশির ঝরা টুপটাপ শব্দ
জানালা খোলা থাকলেই সূর্যের আলো
চোখে মুখে খেলা করত
গুড় মুড়ি খেতে খেতে টিভি দেখা হতো রোজ।
আলস্যের চাদর ও কুয়াশার ধূম্রজাল চিরে
পূর্ব আকাশে সূর্য নিজেকে
জানান দেওয়ার কাজে ব্যস্ত,
শীতের সকালের দৃশ্য সুন্দর।
শীতের সকালের কবিতা লেখার জন্য
চারিদিকে ঘুরতাম দৃশ্যে হারাতে,
তখন আমি অপলক দৃষ্টিতে
শুধুই প্রকৃতি উপভোগ করতাম।
আলতো সূর্যরশ্মিতে ঘাসের ডগায়
শিশিরবিন্দুগুলো মুক্তোদানার মতো
ঝলমল করত!
স্নিগ্ধময় গ্রামবাংলার শীতের সকালে!
কনকনে শীতের কারণে
লেপ মুড়ি দিয়ে শুয়ে থাকা!
এ যেন শীতকালের রোজগার রুটিন
গরম তাপের আশায়।
হঠাৎ হিমেল বাতাসে ভেসে আসা
মিষ্টি গন্ধ আমাকে বিমোহিত করে রাখত
কৌতূহল নিয়ে বাইরে এসে দেখতাম
উনুনে খেজুর রস জ্বাল দিচ্ছে মা।
দৃষ্টিনন্দন সরিষাখেত দেখে
মনে হতো যেন হলুদের চাদর!
দলবেঁধে ঘোরার মজাই অন্যরকম
শীতের সকালে গরম গরম পিঠা ভারী মজার।