দুজনে ছুটছি আমরা কুয়াশার ভেতর দিয়ে…
আমাদের শ্বাসপ্রশ্বাস গাঢ় হচ্ছে ,
আমাদের কাছাকাছিগুলো কিছুটা দূরে সরছে – কাছে আসছে ,
ক্রমশ ঘন হতে হতে আমাদের ছুটবার পথটিকে – কুয়াশাগুলো অনিশ্চিত করে দিল একেবারেই … …
দুজনার গাঢ় প্রশ্বাসে নড়ে উঠবার কুয়াশা তখন ,
দুজনার উষ্ণ হৃদস্পন্দনে নড়ে উঠবার কুয়াশা তখন ,
তখন দুজনার অস্তিত্বের নড়ে উঠবার কুয়াশা তোমাতে আমাতে জড় হচ্ছিল জানান দিয়ে ;
” কিছুটুকুন নড়ে উঠবার কুয়াশায় যখন পৌঁছে যাবে দুজন , তখন জানবে পৌঁছে গেছ দুজনাতেই … পৌঁছুতে চেয়েছিলে যতটা ক’রে … …
দুজন দুজনার চোখ থেকে কুয়াশা সরাও
দুজন দুজনার হৃদস্পন্দন থেকে কুয়াশা সরাও
দুজন দুজনার উচ্চারণ থেকে কুয়াশা সরাও ;
কুয়াশার ভেতর,সরান কুয়াশার অংশেই কেবল আরাধ্য ভালোবাসাটুকুন… পাচ্ছ তো ?
এইসব,আলো নাকি এইখানে … কুয়াশার ভেতর কুয়াশা শূন্যতায় ?
না, সূর্যের আলো তো নয়
অন্যকোন নক্ষত্রের আলো তো নয়
জ্যোৎস্নার আলো… নাহ্
ঘনকুয়াশার পুরু আস্তরণের ভেতর আলো, কোন আলোর ?
তুমি আমি যেন, শুধু যেন দুজন অন্যকোন আলোর …
বুঝি, কুয়াশাতেই থেকে থাকে পরস্পরকে ভালোবাসবার আরাধ্য আলোটুকুন !
মনে আছে , ফেলে আসা আমাদের দুষ্টুমির ছোট ছোট দিনগুলো ?
পুকুর পাড়ে বসে ছোট ছোট করে জল নাড়তাম আমরা
আজলায় ছোট ছোট ঢেউ তুলে তোমাকে ছুঁড়ে দিতেই
ছোট্ট করে মিষ্টি হাসি ছুঁড়ে দিতে তুমি
পুকুরের লাল শাপলায় সেই হাসি
কানি বকের সাদা পালকে সেই হাসি
ভোরের হালকা কুয়াশা-পৌষে সেইই হাসি
আর সূর্যটা গোটা পুবাকাশ রাঙাল সেইই হাসিতে!
অমন ভোরটাতে ওড়নায় পুকুরপাড়ের সব কুয়াশা জড় করে নিলে ছোট ছোট ছুটোছুটিতে…
অকস্মাৎ আমারই কাছে…
ভরা ওড়নার কুয়াশায় আমাকে মাখালে, বললে , কুয়াশায় দুজনে হারাব একদিন !
তারপর থেকেই পৌষ আর মাঘ কি নেশাভরা দিনগুলো আমাদের !
কুয়াশাগুলো কি ঘোরভরা আসক্তিতে টানে আমাদেক !
যেন তোমাতে খুঁজে পাবার আমি…
যেন আমাতে খুঁজে পাবার তুমি…
খুঁজে পাব,খুঁজে পাব দুজনাকে
বরফ পড়াতে নয়,ছোট ফোটা ফোটা কুয়াশাতে নয়…
মিহি করে ঝরে পড়া গহীন কুয়াশায় দু’জন !
১১.১.২৪