ভেবে দেখলাম, মনে পড়েনা তেমন,
এবং সূত্রেও খুব একটা নেই,
যৌক্তিক ভাবনাতেও মেলেনা,
তোমাকে ঘাস ফুলের পাশে কখনও দেখিনি।
দেখিনি তোমার মত কোন কুসুম
কোন গহীন কোন অরণ্যে,
খাড়া উচুতে উঠে যাওয়া পাহাড়ে,
সমুদ্র পাড়ে,
নদীর কিনারা ঘেষে দু’পাড়ে,
ধানি জমির আইল ধরে গ্রামের পথে প্রান্তরে,
সরিষার মাঠে সরিষার সাথে,
কিংবা শহরের রাস্তার দু’ধারে,
রেল লাইনের পথে পথে বিচিত্র গন্তব্য অবধি।
কখনও কখনও দেখেছি ফুটে আছে
ওরা অন্য রকম, সুরম্য টবের প্রসূন নয়।
আর পাশের বস্তিগুলোয় তোমাকে দেখতে চাওয়াটা
গল্প আর নাটকের মাচানেই সম্ভব হবে হয়ত!
তারপরও তোমাকে বলতে শুনি,
“তোমায় ভালবাসি”।
বলতে শুনি বৃষ্টির ঝুম বরষায়,
হেমন্তের সোনা রোদের বিকেলে,
শীতের জোৎস্না প্লাবিত পূর্ণিমায়।
আবেগের মদিরায়, ঘন হাওয়ায় ভেসে বেড়ায়,
“ভালবাসি তোমায়”।
কেন যেন মনে হয়
বেলকনির টবটাতেই তুমি বেশ স্বাচ্ছন্দ্য!
বেলা করা জলে তোমার শেকড় ভেজা থাকে।
আর যাই হোক
স্বাচ্ছন্দ্য ত্যাগ করার ভাবনাটা
ভাবতে পারোনা তুমি।
স্বাচ্ছন্দ্যে তুমি অভ্যস্ত হয়ে গেছ,
স্বাচ্ছন্দ্যহীন ভালবাসায় তুমি ভীত সন্ত্রস্ত।
রিক্ত হয়ে রোদে, বৃষ্টিতে, শীতে যাযাবর হবার
দুঃস্বপ্ন তোমাকে আতঙ্কিত করে।
ভালবাসবার ক্ষুধায় কখনও শুধুই আহাজারি
“ভালবাসি তোমায়”।
অসার বেলকনিতে অভ্যস্ত টবে
অক্ষমতা আর দ্বিধাহীনতার আহাজারি।
তাই অরণ্য, পাহাড়, নদী, সমুদ্রে,
গ্রামের পথে প্রান্তরে,
শহরের স্যাঁতসেতে গলিগুলোয়,
অনরকম ভালবাসায় তৃপ্ত ফুলগুলো দেখা যায়;
দেখা যায় না তোমায়!
তুমি ভালবাসনা আমায় এমন নয়,
অবস্থানের অসামঞ্জস্যতেও তোমার অ্যালার্জি!
স্বাচ্ছন্দের একটা অবয়ব তোমার আছে,
ভীত তুমি, তোমায় শঙ্কিত করে,
হতে পারে ওটাই তোমার সংশয়।
তারপরও এড়াতে পারোনা অবচেতনে বলে যাও
“ভালবাসি তোমায়”।