রাষ্ট্র প্রদত্ত পুরস্কার অনেক বড় সম্মানের এটি যারতার ভাগ্যে জুটে না। তারপরে যদি হয় সাহিত্যের উপরে পুরস্কার! যেনতেন কবি সাহিত্যিক হলে হবে না, জ্ঞানগর্ব, চিন্তাশীল, বিচক্ষণ কবিসাহিত্যিক হতে হবে আরও হতে হবে অনেক তাত্ত্বিক ও আভিধানিক জ্ঞানগর্বের মালিক। তা হলেই প্রতিযোগিতার দৌড়ে জিতে নিতে পারেন বাংলা সাহিত্যের নোভেল খ্যাত বাংলা একাডেমির এই রাষ্ট্রীয় পুরস্কার। কারণ, যোদ্ধারা সাহিত্য পুরস্কার জিতে নেওয়াটা অনেক বড় চ্যালেঞ্জের ব্যাপার! আমি লিখালিখি করি বলে অনেকেই আমাকে লেখক বলে আর কবিতা লিখি বলে কবি বলে। কিন্তু, আমি কি সম্মৃদ্ধ কবিতা,সাহিত্য সৃষ্টি করছি; তা কে নির্ধারণ করবে? সুখ্যাত কবি হতে হলে আমাকে কিভাবে প্রমান করতে হবে বলুনতো?
জানি আপনি অতি সহজেই বলে দিবেন,কেনো ভাই সহজ কথা আমি কঠিন করে বলছি,আরে ভাই কবি বানাতে, সোনার মেডেল গলাশ পড়িয়ে দিতে সরকারের চাটুকার, তোষামোদের কারিগর,বেতনভুক্ত বাংলা একাডেমির ঐ কবি ও কবিতার সর্দার সাহেবদের কি অভাব আছে নি? তিনারা বসে আছেন কবিসাহিত্যিকের অভিভাবক হয়ে, লেখকদের সর্দার হয়ে। উনারা মনে করলেই আপনি কবিসাহিত্যিক নচেৎ আপনি কোন লেখক’ই না! আচ্ছা বলুনতো, আপনি যে প্রতিনিয়ত কবিতা গল্প প্রবন্ধ উপন্যাস লিখেছেন তার জন্যে আমাদের ঐ সর্দার বাবু’রা কি আপনাকে মাহিনা দিচ্ছেন,,কোন প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা দিচ্ছেন,কোন সেমিনার সিম্পোজিয়ামে আনুষ্ঠানিক ভাবে মাসে চান্দে হাতেকলমে প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন? তাহলে তিনারা কোন তথ্য উপাত্ত নিয়ে কবি-সাহিত্যিকের যোগ্যতা ও দক্ষতায় সেরা কবিসাহিত্যিক নির্বাচন করেন? উনাদের কথায় ও মর্জিমাফিক আর করুনাময়তা নিয়ে’ই আপনাকে সাহিত্যের পুরস্কার নিতে হবে! এবার পুরস্কার কি সঠিক মাপকাঠিতে যোগ্য ব্যক্তিরা পাচ্ছেন? তাদের বিবেচনায় পুরস্কার কি সঠিক প্রাপ্য এবং সর্বসম্মতভাবে সঠিক? বুঝি না কিসের মাপকাঠিতে উনারা রাষ্ট্রের জনগনের টাকা ব্যয় করে সাহিত্যের পুরুস্কারের জন্যে কবিসাহিত্যিক মনোনীত ও নির্বাচিত করে থাকেন?
কবিসাহিত্যিকের লেখনী শক্তি প্রকৃতির দান,অতি মেধাসম্পন্ন চিন্তাভাবনার বহিঃপ্রকাশ হলো কবি-সাহিত্যিকের সাহিত্যকর্ম। যে কেউ চাইলেই চরম পরম মেধাসম্পন্ন চিন্তাভাবনার অধিকারী হয়ে কবিসাহিত্যিক হতে পারেন না? আপনার জ্ঞান গর্বের কথা গুলো প্রকৃতি ও মানবতার জন্যে সার্বজনীন হতে হবে,বিশ্বময়ী হয়ে উঠতে হবে। সজাতি ও সমগ্র মানবতার জন্যে সময়োপযোগী হয়ে উঠতে হবে এবং মানুষের ভালোবাসায় মুগ্ধ ও সিক্ত হতে হবে। বেশিরভাগ মানুষ আপনার লেখার সাথে সহমতসহ সার্বজনিন ভাব গ্রহন করতে হবে। তাহলেই আপনি সেরা লেখক এবং সেই লেখক’কে জাতীয় ভাবে সেরা লেখকের স্বীকৃতি দিয়ে সম্মানিত করতে পারেন।
বাস্তবে আমরা কি সেই নিরিক্ষার মাধ্যমে প্রকৃত লেখক কবিসাহিত্যিক নির্বাচন করতে কোন মাধ্যম ব্যবহার করে থাকি কি ? যদি বা করে থাকি তাহলে জাতীর কাছে এর স্বচ্ছতা জবাবদিহিতা নিশ্চিত হচ্ছে না কেনো? কেনো এতো প্রশ্ন ও তিরস্কৃত করে একজন বাংলা সাহিত্যের নোভেল খ্যাত বাংলা একাডেমি পুরস্কার এতো বছর পরে এসে ফেরত দিলেন? জাতীর কাছে প্রশ্ন জেগেছে, এই যে বাংলা সাহিত্যের নোবেলজয়ী বলে খ্যাত রাষ্ট্রীয় এই পুরস্কার ফেরত দিয়ে দিলেন, তিনি কি পুরস্কারে না-কি পুরস্কার দাতার অবমাননা করলেন? অন্যকথায় বলতে গেলে তিনি কি সাহিত্যের কলঙ্কের অধ্যায় তৈয়ার করলেন? কেনো এমন ঘটনার উৎপত্তি ঘটলো,আর কেনোই’বা এই সম্মানিত মানুষের মনে ব্যাঘাত ঘটলো এবং কষ্টের বহিঃপ্রকাশ পেলো? যে-ই প্রেক্ষিতে তিনি রাষ্ট্রের দেওয়া মহামূল্যবান পুরস্কারে মূল্যমান সহ মেডেলটা ফেরত দিলেন, নিশ্চয়ই সাহিত্যমনস্কা এই মানুষটির কাছে এতো কাল পরে এসে এই পুরস্কার কিংবা পুরুস্কার দাতাদদের প্রতি চরম নাখোশ হয়েছেন?
আসলে তাদের কর্মকান্ড ও নিয়ম-পদ্ধতি দেখে উনার মনে ঘৃণা জন্মেছে। তাই, তিনি তার জীবনের অতিসাধারণ সুফল রাষ্ট্রীয় পুরস্কারটি তাচ্ছিল্যের সাথে ফেরত দিয়েছেন। যে পুরস্কার জ্ঞানগর্ব আর চিন্তাশীল বিচক্ষণ কবিসাহিত্যিকের জন্যে নয়,যে পুরস্কার যে কেউ চাইলেই আপনি দিয়ে দিবেন,যে পুরস্কার তোষামোদ ও চাটুকারের জন্যে, সে পুরস্কার কোন সত্যিকারের কবিসাহিত্যিকের প্রয়োজন নেই! প্রকৃতির পরম দয়ায় যে মানুষ কবি সাহিত্যিক লেখক মর্যাদা ও মানবতার সাধন ভোজন ধ্যানমগ্ন দিব্যজ্ঞানে অধিকারী হয়েছেন সেই কবিসাহিত্যিক কে তার নিজ রাষ্ট্রে পুরুস্কার না দিলে-ও কিচ্ছু আসে যায় না। কারণ, আল্লাহর দুনিয়ার প্রতিটি রাষ্ট্রেই তার লেখনী শক্তির মর্যাদা ও সম্মানের জন্যে অগণিত পুরস্কার প্রতিদিন বরাদ্দ হচ্ছে। কবি-সাহিত্যিকের কৃতকাজ কেউ না কেউ অথবা কোথাও না কোথাও প্রতিনিয়ত’ই প্রসংশিত হচ্ছে। সুতরাং, পুরস্কার বড় প্রাপ্য নয়,যোগ্য লেখক কবিসাহিত্যিক স্বীকৃতি’ই লেখকের অমূল্য প্রাপ্য। হয়তো লেখক তার বাংলা সাহিত্যের নোভেল খ্যাত বাংলা একাডেমির দশবছর পূর্বে গৃহীত পুরস্কারটি আজকের সময়ে এসে সেই রকম প্রাপ্য স্বীকৃতি মনে হচ্ছে না তাই তিনি এ-তো কাল পরে এসে পুরস্কারটি তাচ্ছিল্যের সাথে সরকারের কোষাগারে ফেরত দিয়েছেন।