আবার যদি ফিরে আসি এই গাঁয়ে
তবে মানুষের কাছে ফিরে আসব
মানুষ আর অমানুষের পার্থক্য বুঝতে পারব
অপ্রকাশিত গল্পের অন্তরালে কিছু কথা
সেই গল্প বলে দেব
আমার দুচোখে নদী বহমান
বিপরীত স্রোতে আজন্ম ভাসিয়ে নিয়েছে
ব্যর্থতার মোহনায়
ভাঙ্গা তরী আরো ভেঙ্গে গেছে চৈত্রের দুপুরে
আমার অস্থি মজ্জা শুকিয়ে কঙ্কাল
ভঙ্গুর জ্বালানি কাঠের মতো পুড়েছে মন মন্দির
ক্ষুধার্ত পেট উপোষ আক্রোশে
ক্রন্দিত চিৎকারে ভেঙে দিয়েছে
এক একটা রাতের দেয়াল
অনুতপ্ত দহনে প্রজ্বলিত দীপ নিভে গিয়েছে
রাত পোহানোর অগ্রকালে
মানুষের কাছেই বলে দেব।
মস্ত ফসলের জমিন খরাজীর্ণ অনাবাদি
একটু জলের পিপাসায়
চৌচির হয়েছে হৃদয়ের মনিকোঠায়
জন্মান্ধের মতো অন্ধকার
কৃষ্ণপথে তাকিয়ে থাকতে থাকতে
আমার সৃজনে মস্তিষ্কের কোষে
অনিশ্চিত নিয়তির নির্মমতা
প্রচন্ড জোরে আঘাত হানে ক্ষত
হৃদয়ের গহীনে নিঃশব্দতার প্রতিধ্বনি
অবাধ্য হয়ে প্রবেশ করে বিরহের বিষণ্ণতায়
আমি শব্দগুচ্ছের কাছেই আত্মসমর্পণ করি।
আয়নায় প্রতিচ্ছবি আসে
এক অন্যরকম উদাসীনতার প্রতিচ্ছবি
জীবন্ত কিংবদন্তি শিল্পীর তুলিতে আঁকা ছবি
অথচ মানবিক নয়
সেখানে অনুভূতিগুলো হতবাক করে না
অনুভূতি পার হয়ে গেছে অস্তিত্ব থেকে
অথচ আমি মানুষ ছিলাম মানুষ
একদম নিটোল আর পরিপূর্ণ মানুষ।