এই দেখো ! জতুগৃহে মাতৃযন্ত্রণা ছুঁয়ে এসেছি,
শতবর্ষার জলে ভিজে বহু বসন্তের পরাগে
নিষিক্ত করেছি স্বপ্নরাগ,
উজ্জীবিত প্রাণে তোমার কাছে ফিরে এসেছি
তুমি ফিরিয়ে দিও না যেন।
নাতিদীর্ঘ কবিতার শ্লোকে চোখে চোখ রেখে
অস্ফুট বেদনার কথা শোনাতে চেয়েছি আমি–
ফিরে যেতে আসিনি, ফিরিয়ে দিও না আমাকে।
দুর্লঙ্ঘ্য সীমান্ত পেরিয়ে মৃত্যু নগরীর উপকণ্ঠে
শত্রুহননের নিষ্ঠুর খেলায় মেতে উঠেছি —
ভিসুভিয়াসের অগ্নি-দলা ছুড়ে ফেলেছি
ভূমধ্যসাগরের জলে,
বালখিল্যের দেশে ছড়িয়ে দিয়েছি দ্রোহ-ত্রাস
ছুঁয়ে যাক সূর্যবাণ অনন্ত আকাশের যত নীলে।
এই নদীকাদাজল মেখে ঘাসফুল হই একবার,
গঙ্গাফড়িং হয়ে উড়ে যাই — গঙ্গোত্রী থেকে
বঙ্গোপসাগরের মোহনায়,
দেখি —– এখানেও তুমি বন্দি অপরাজিতা
তোমার শাঁখা-পলা ভাসে পদ্মা-মেঘনা-যমুনায়।
সাতশত সাপের পাহারা উপেক্ষা করে আমি
তোমার কাছেই ছুটে এসেছি,
মিছিল মিটিংএ বাধা —- কারফিউ বলবৎ
সান্ধ্যপ্রহরে,
আগুনে বারুদে ধর্ষণে বিস্রস্ত ঘরে ঘরে—
জ্বেলে দিয়েছি দীপ্ত মশাল,
প্রিয়তমা ! ছিনিয়ে আনবোই তোমাকে
ফিরে আর যাবো না, শপথ আমৃত্যু,চিরকাল !