একসঙ্গে অনেকগুলো পাঞ্জাবী কিনে রেখেছি,
আর ধবধবে সাদা গোলাকার ফ্রেমের একটা চশমা।
তোমার সাথে দেখা হবে এই ভাবনায়,
মাঝেমধ্যে আয়নায় চেয়ে থাকি অনেকক্ষণ,
কল্পনায় তোমার চোখে আমাকে দেখি।
ভাঁজ পড়ে যাওয়া চামড়া জানিয়ে দেয় বয়স,
তবু রোমাঞ্চকর সেই মুহূর্তের মধ্যেই ডুবে থাকি।
আশেপাশের প্রকৃতিতে কত পরিবর্তন হয়,
জড়োসড়ো হয়ে পড়ে থাকে বরইয়ের কাঁটা ডালপালা,
মেহগনির তেতো ফলগুলো মাটিতে পড়ে ভেঙ্গে যায়,
বাতাসে পাখা মেলে উড়ে যায় শিমুলের শুভ্র তুলা,
চোখে পড়ে যায় আমার মেদবহুল পেট,
টিকটিকটিক করে টিকটিকি ডাকে বারকয়েক,
ভাবনার অতলে ডুবে যাই আমি,
কতদিন ধরে অপেক্ষা করতে হবে এভাবে আমার?
তুমি কবে আসবে?
কবে যাবো আমরা চাঁদপাইয়ের মেলায়?
রেশমী চুড়ি, টকটকে লাল আলতা, চুলের লাল ফিতা,
বাতাসা, দানাদার, হাওয়াই মিঠা আর নাগরদোলা,
কবিগান, পালাগান, গাজীর গীত, বিচ্ছেদী,
সবকিছুই তোমার অপেক্ষা করছে- আমার মতো।
তুমি আসবে,
সম্ভাব্য আগামীর স্বপ্নটা শুরু হবে আমাদের।
চলতে চলতে তৈরি হবে সুগভীর বোঝাপড়া,
পারস্পরিক আলিঙ্গনে সচকিত হবে সবক’টা আঙ্গুল।
তুমি ছাড়া আর যা কিছু সব আপনাআপনিই চলে,
পাণ্ডুলিপিটা বইয়ের মোড়কে আবদ্ধ হয়,
দরজার ছিটকিনি খুলে চেয়ে থাকি অপলক,
ভুলে যাই সব- শুধু অপেক্ষা শব্দটা ভুলি না,
সচেতনভাবে অস্বীকার করি অতীত কিংবা বর্তমান,
দূরত্ব নিয়েই আমরা ভীষণ কাছাকাছি।
সারাক্ষণই তাই চলে- অপেক্ষা।