1. admin@mannanpresstv.com : admin :
কবি মুক্তা পারভীনের গল্প-বিবর্ণ বিকেল - মান্নান প্রেস টিভি
রবিবার, ০৩ মে ২০২৬, ০৭:৪৬ অপরাহ্ন

কবি মুক্তা পারভীনের গল্প-বিবর্ণ বিকেল

এম.এ.মান্নান.মান্না
  • Update Time : বুধবার, ১৫ মে, ২০২৪
  • ১৫৫ Time View

 ১ম পর্ব

বিয়ের প্রায় চার বছর পর রত্না মা হতে চলেছে। এই নিয়ে সংসারে খুশির সীমা নাই।রত্নাও মহা খুশি। সবাই খুবই আদর যত্ন করছে।শ্বাশুড়িও ভারি কোন কাজকর্ম করতে দেয় না।
ননদরা এটা সেটা এনে খাওয়ায়। শ্বশুরও হাটে গেলে কিছু না কিছু নিয়ে আসে রত্নার জন্য। প্রথম দাদা হতে চলেছে। এতে রত্নার শ্বশুরও মহা খুশি। অথচ দুই মাস আগেও রত্নাকে কেউ এখানে দেখতে পারতো না। বিয়ের চার বছর হয়ে গেছে অথচ কোন সন্তান জন্ম দিতে পারলো না। শ্বাশুড়ি উঠতে বসতে কথা শুনাতো। কারো কোলে ছোট শিশু দেখলেই হাপিত্যেশ করত আর বলতো- আমার কি এমন ভাগ্য আছে যে নাতী নাতনীর মুখ দেখবো?
রত্না শুনেও না শোনার ভান করত ঠিকই কিন্তু নিজে নিজে কতো কবিরাজ, ফকির দেখিয়েছে তার কোন ইয়ত্তা নাই।
মাঝে মধ্যে বাড়ির পাশের ননদটা বলেই ফেলতো- ভাইয়া তুই আরেকটা বিয়ে কর, এভাবে আর কতদিন?
রত্নার স্বামী শামিম সাহেব কিছুই বলতেন না তবে মনে মনে যে রত্নার উপর বিরক্ত তা স্পষ্টই বুঝা যেত।

২য় পর্ব

শুধু একমাত্র দেবর শাকিল মাঝে মাঝে প্রতিবাদ করত। সে বলত- দোষটা কার তাতো জানো না, তবে কেন শুধু শুধু ভাবীর উপর দোষ চাপাচ্ছ? ভাইয়াকে বলো ডাক্তার দেখাতে।
বেশি কিছু বলতেও পারে না, কি থেকে কি বলে দেয়?
রত্নার শ্বাশুড়ি যখন তাকে কথা শুনায়, শামীম চুপ করে রুম থেকে বেরিয়ে যায়। এ-ই নিয়ে ওদের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া হয় কিন্তু শামীমের কথা হলো- আমি কাকে কি বলব? একদিকে মা অন্য দিকে তুমি, কাউকে কিছু বলতে পারবো না।
পাড়ার এক কাকিমা একদিন এসে বলে- শামীমের মা তোমাদের বাড়িতে আর আসা যাবে না। বাজা বউয়ের মুখ দেখলে দিন টাই খারাপ যাবে। দিনে দিনে বউ তো তোমার আইবুড়ো হয়ে যাচ্ছে।
শাকিলের কানে কথাটা যাওয়া মাত্রই বলে দেয়- কাকিমা কেউ তো আর দাওয়াত করে না-ই। না আসলেই পারেন তবে হ্যাঁ আমার বিয়েতে দাওয়াত করবো তখন কিন্তু আসতে হবে।। কাকিমা গজগজ করতে করতে চলে যায়।
রত্না কতদিন বাথরুমের দরজা বন্ধ করে কেঁদেছে যাতে কেউ দেখতে না পায় এমনকি শামীমও যেন না দেখে। আর দেখলেই বা কি হবে। ওদের ভালোবাসা যেন দিন দিন করপুরের মতো উড়ে যেতে লাগল।
পাশের বাড়ির এক বুড়ো জেঠা কবিরাজি ওষুধ দেয়। উনার কাছে সবকিছু বলার পরে উনি বলেন–এক দামে কিনে একটা আপেল নিয়ে এসো।রত্না চুপচাপ বাজারে গিয়ে একটা আপেল কিনে জেঠা’র কাছে যায়।
তিনি আপেলের গায়ে জাফরানি কালিতে কিছু আরবি হরফ লিখে দিয়ে বলেন- একটানা তিনদিন রোজা রাখবে আর এ-ই আপেল দিয়ে ইফতার করবে। দেখবে দুই এক মাসের মধ্যেই একটা সুখবর পেয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ।
রত্না কাউকে কিছু না বলে তিনদিন রোজা রাখে ও আপেল দিয়ে ইফতারি করে। তিন মাস পরে খেতে বসে হঠাৎ রত্নার বমি আসে —–
চলবে—-

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

Categories

© All rights reserved © 2022 mannanpresstv.com
Theme Customized BY WooHostBD