চারদিকে হিমেল কুয়াশার আবরণ,
বিজন অন্ধকারে স্থির দাঁড়িয়ে আছে নারকেল গাছের মাথা,
বাতাসে হিম পতনের শব্দ, গাছের পাতায় ভেজা শিশির পতনের মৃদুল আওয়াজ,
জানালার ওপারে বসে আমি দূর দূরান্তে স্মৃতি পথ ধরে হাঁটতে শুরু করলাম,
পুরনো দিন, পুরনো মানুষ মনের আয়নায় হেঁটে গেল,
সুপুরি বন ছাড়িয়ে জামরুল বন পেরিয়ে দীঘির পাড় ধরে কত দূরে চলে গেলাম,
শৈশবের সঙ্গিনী লীলা সামনে এসে দাঁড়ালো,
কিগো? চিনতে পারছো আমায়?
তুমি তো চিরকাল সবুজ শাড়ি পরতে,
আজ সাদা শাড়ি পরে এসেছো কেন?
জানো না, প্রসাদ চলে গেছে,
আর আমাকে এই পোশাক উপহার দিয়ে গেছে।
ওর কথা বলার মধ্যে কান্না ভেজা স্বর ফুটে উঠলো,
এক সময় আজ আসি বলে ও ধান ক্ষেতের ভেতর দিয়ে মিলিয়ে গেল,
ওকে তখন আমার অবিকল পরী বলে মনে হচ্ছিল,
অতীতের ওর সেই হাসিখুশি মুখটার সঙ্গে আজকের লীলাকে কিছুতেই মেলাতে পারছিলাম না,
শুনেছিলাম, খুব বড় লোকের বাড়ি বিয়ে হয়েছে ওর,
ভরা সংসার নিয়ে খুব সুখেই আছে, লীলা।
জীবন আমাদের কত কিছু দেয়, কত কি যে কেড়ে নেয়!
আমার জানালা থেকে ততক্ষণে চাঁদ তখন সরে গিয়েছে,
চাঁদ নেই, চাঁদ মুখও নেই, শীতল বাতাসে ভেসে যাচ্ছে শুধু কান্না আর দীর্ঘশ্বাসের শব্দ,
কানে বাজছিল, আমাকে এই পোশাক উপহার দিয়ে গেছে,
জানালাটা বন্ধ করে দিয়ে এবার আমি ঘুমোতে গেলাম।
তখন রাত্রি তৃতীয় প্রহর। ঘুম আসবার আগে
নিকষ কালো অন্ধকারের দিকে চেয়ে প্রশ্ন করলাম,
লীলা, কেন মধ্যরাতে আমার ঘরে এলে?
কেন এত রাতে আমাকে কান্না উপহার দিলে?
চিরকাল আমি তো তোমার হাসি খুশি চির চেনা
সুন্দর মুখটাই দেখতে চেয়েছিলাম।