এলো কুমিল্লার দৌলতপুরে
বাবরি দোলানো ঝাক্রাচুলে
টগবগে এক যুবক
বাসের বাঁশি কাঠের কলম হাতে
সবুজ শ্যামল ছায়া ঘেরানো এক গ্রামে
নেমন্তনে এসেছিলেন বন্ধু আলী আকবরের
সেখানে এক বিয়ের অনুষ্ঠানে
পরিচয় হয় সৈয়দা খাতুনের
গেয়েছিলেন গান হারমোনিয়াম বাজিয়ে
গানের সুরে মাতিয়ে দিলেন সৈয়দা খাতুনের হৃদয়ে
প্রথম দর্শনেই সৈয়দার প্রেমে গেলেন পড়ে
রূপে আর গুনে
সৈয়দাও ছিলেন সমান আগ্রহে
দিলেন আকুল প্রেমের সারা
ভালোবাসায় কাটাতে লাগলো
গান কবিতায় ছন্দে মাতোয়ারা ।
এতটাই মগ্ন ছিলেন প্রেমে
ভালোবাসায় নাম দিলেন সৈয়দা থেকে নার্গিস
ইরানি এক সাদা গল্প পুষ্পের নামে
গন্ধে আকুল পাড়া
সান বান্দা এক পুকুর ঘাটে
বাঁশের বাঁশি বাজায় সুরে সুরে ।
উদাস প্রাণে চেয়ে থাকি তাহার বদনে।
গল্প আর মজার ছলে বলেন মামা আকবর
নজরুল কে ?তোমার কেমন লাগে ?
এতো খুব মজার পোলা ভীষণ ভালো লাগে।
আকবর আর সৈয়দার মা হেসে হয় কুটি কুটি।
এবার তাহলে চার হাত এক করতে হবে বৈকি
নজরুল দিলেন প্রস্তাব বিয়ে করবেন নার্গিসকে।
অনেক আনন্দে বিয়ের দিন হল ধার্য ।
নিয়তির কি নির্মম পরিহাস
বিয়ে হল বাসর হলো না ।
একে অপরকে ছেড়ে চলে গেল বহুদূরে
নার্গিসের চোখের নোনা জলে সিক্ত হলো হৃদয়
কি নির্মম কাহিনী রয়ে গেল ইতিহাসে!
এভাবেই প্রেমের সমাপ্তি ঘটলো নজরুল আর নার্গিসের।