বিদ্রোহী নজরুল
কবি ছিলো একজনই, বিদ্রোহী নজরুল
বিদ্রোহে, বিপ্লবে গড়া তার সত্তা
প্রতিবাদই কবিতার ছিলো সারবত্তা
সাহসের নীতি থেকে নড়েননি এক চুল।
কবি ছিলো একজনই, বিদ্রোহী নজরুল
মানুষের কথা বলা মানবিক আত্মা
ভয়-ভীতি তার কাছে পায়নি যে পাত্তা
ধরিয়ে দিতেন তিনি সমাজের যত ভুল।
কবি ছিলো একজনই, বিদ্রোহী নজরুল
সাম্যের বাণী ছিলো তার প্রতিপাদ্য
সকলেই পায় যেন বস্ত্র ও খাদ্য
তাঁর কাছে বড় নয় বর্ণ বা জাত-কূল।
কবি ছিলো একজনই, বিদ্রোহী নজরুল
শাশ্বত প্রেম মেলে তাঁর গীতিকাব্যে
তাঁর মতো প্রেমগাথা আর কে গো ভাববে?
তাই তিনি শেকড় বা আমাদেরই মূল।
কবি ছিলো একজনই, বিদ্রোহী নজরুল
আমার গ্রাম, আমার নদী
আমাদের গ্রামটার নাম কেওয়া বুনিয়া
এমন গাঁ পাইনি তো ঘেঁটে সারা দুনিয়া।
গ্রামটার পাশে ছিলো বিষখালি দরিয়া
যে নদীতে সাঁতারেছি হয়ে কত মরিয়া!
সাঁতার শিখতে গিয়ে গেছি কত তলিয়ে!
আজকে তা নিলেন তো কবিতায় বলিয়ে!
গ্রামটাও তলিয়েছে দরিয়ার জোয়ারে
ভাটা শেষে আহা কী যে পলিমাটি-ছোঁয়া রে!
জোয়ারের পানিতে যে কতো খেলা খেলেছি!
হাসতাম, দরিয়ায় কেউ পড়ে গেলে ছি!
ভরা নদী, মাঝে গিয়ে কতোবার বেঁচেছি!
ভাটা এলে পাড়ে বসে কোর্তাও কেচেছি।
সেই গ্রাম, সেই নদী, বন্ধুতা থাকেনি
নদীটা তো ভালোবেসে গ্রামটাকে ডাকেনি।
যদিওবা গ্রামখানি দরিয়াতে মিলেছে
কিন্তু সে দরিয়া তো গ্রামটাকে গিলেছে।
ভাঙনের শব্দতে ঘুম থেকে জেগেছি
এভাবেই ধীরে ধীরে তলিয়েই যে গেছি!
বিষগালী নদী খেলো গ্রাম কেওয়া বুনিয়া
সেই গ্রাম পাবো না গো ঘেঁটে সারা দুনিয়া।
নারী
বাঁকা কথা বলে,
বাঁকা পথে চলে
নারী।
বেশি কথা হলে
মন-দেহ গলে
তারই।
মন-প্রাণ জ্বলে,
দুই চোখ জলে
ভারী।
তবু দেখা হলে
দেখি ঠিকই ভোলে
আড়ি।