1. admin@mannanpresstv.com : admin :
প্রেমের ব‍্যবসা -জেবুন্নেছা জেবু - মান্নান প্রেস টিভি
রবিবার, ০৩ মে ২০২৬, ০৯:৪৮ পূর্বাহ্ন

প্রেমের ব‍্যবসা –জেবুন্নেছা জেবু

এম.এ.মান্নান.মান্না
  • Update Time : রবিবার, ২ জুন, ২০২৪
  • ১৪৯ Time View
 আকাশ তুই বরাবর একই কায়দায়  একই  কৌশলে  মেয়েদের  এতো  সহজে প্রেমে ফেলিস কেমন করে বলতো?
আরে  দোস্ত
আজকাল  শুধু আমি না কিছু মেয়েও এমনটা করে।
বারেক বললো,
এমন অন‍্যায় গুলো করার কোনো মানে হয় না।  মানুষের  মন নিয়ে খেলা অনেক বড় অপরাধ।
হা হা  মন নিয়ে খেলার অপরাধে কোন প্রমাণ  হয় না, সাজা ও হয়  না  সমস‍্যা নেই।
দোস্ত সবকিছুর  শেষ আছে, সাজা ও আছে।
আরে অতো ভাবিস না।
এটা একটা প্রাকটিস এর ব‍্যাপার  দু একবার করলে সহজ  হয়ে  যায় । তবে এটা নেশার  মতো কাজ করে  অদ্ভুত  নেশা, মেয়ে পটানো যদিও কোন কঠিন  কিছু  না।
আকাশের বন্ধু  “বারেক”  জানতে চাইলো কিভাবে এসব  করিস  খুলে বলতো?
বিষয়টা হলো  পুরোটাই  অভিনয়,   সুখী মেয়েদের পটানো খুব সহজ ওরা বাস্তবতা বুঝে না ।
 কিছুটা  আবেগী হয়।
 এজন‍্য কিছু  টিপস আছে নতুন  নতুন  প্রেমের  কৌশল ।
কখনো  তুই  একেবারেই  দরিদ্র  পরিবারের  অসহায়  সন্তান হবি,
কখনো খুব  আদরের ,
কখনো সাহসী,  কখনো আনাড়ী ,কখনো বিলাসী আবেগী  অবস্থা বুঝে  করতে হয়।
বারেক বললো -তুই ফেসবুকে  খুজেঁ খুঁজে ধনী /বিধবা /ডিভোর্সী /গাড়ী বাড়ীর মালিকদের  টার্গেট  করিস শুনলাম কিন্তু  কেনো?
মেয়েরা জীবনে কি চায়?
বিশেষ করে  জীবনে যারা বঞ্চিত তারা একটা ভরসাস্থল  চায়, বিশ্বাসের জায়গা খুজেঁ।
দেখ আকাশ  তুই তাদের বিশ্বাস ভরসা গুড়ো করে সমাজে  তোরই মতো আরো  রবোট  তৈরি  করিস না pls….
এসব নোংরামি  হতে  বেরিয়ে  আয়  দোস্ত এমনতো  তুই কখনো  ছিলি না।
তুই যা করবি তার স্বীকার মেয়ে গুলো অন‍্যে ছেলের ভাগ‍্যেই তো জুটবে। নিজেদের সর্বনাশ  নিজেই  করিস না।
লক্ষ‍্য করেছি,
মারিয়ার বিয়ে হয়ে  যাবার পর হতে এসব করেই যাচ্ছিস।
তুই  নিজেকে  সফল করলেই একদিন  মাবিয়া ‘র পরিবারের  আফসোস  হতো,  তোর সফলতা দেখে  মাবিয়া  অহংকার  করে  বলতে  পারতো  আমি  যাকে  ভালোবেসেছিলাম সে  ভুল  মানুষ  ছিলো   না।
অন‍্যে দিকে এভাবে  নিজেকে নষ্ট করলে ওরা  মাবিয়াকে  বলবে দেখ,  এরকম বাজে একটা ছেলেকে তুই ভালোবাসতি  ।
অন্তত  মাবিয়ার সম্মানের দিকটা  ভেবে নিজেকে শুদ্ধ কর Pls…. সম্পর্ক কখনো শেষ  হয় না,  দুরত্বে  আমরণ তার জন‍্যে কথা শুনতে হয়।
আকাশ রেগে গিয়ে বললো ….এই নাম  উচ্চারণ করবি না, ঘৃনা করি তাকে।
বারেক বললো– এখানে ওর দোষটা কোথায়?
 তুই কিছু ই করিস না, বেকার কিছু
 করার চেষ্টা  বা ইচ্ছা কোনটাই নেই তোর ।  এই অবস্থায়  মাবিয়ার কি করার  ছিলো?
 শুধু ভালোবাসা দিয়ে  জীবন চলে না দোস্ত। না খেয়ে  না পরে গাছতলায়  কি বাঁচা যায় বল?
আর একটা মেয়ে  কোন দিকে যাবে তার পরিবারের  কথা ও তাকে শুনতে হয়।
সবার তো উচিত নিজেকে প্রতিষ্টিত করে তারপর প্রেম বিয়ে সংসার  করা, তাহলে জীবনটা চাপ মনে হয়  না।
জীবন   কে  পরিকল্পিত  ভাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। নিজের পকেটের উপর ছাড়া অন‍্যের পকেটের দিকে তাকিয়ে  থাকা বোকামি ।
আকাশ  বললো
আমি আর স্বাভাবিক  হতে পারবো না ভাই,  আমি নষ্ট হয়ে  গেছি। আমার এই ন‍ষ্ট জীবনের জন‍্যে কি আমি দায়ী?
আজ বাল‍্যে প্রেমের কারণেই
 জীবনের এই কঠিন  পরিণতি  জানিস এই জীবন আমি কখনো চাইনি।
আমি ও সবার মতো স্বাভাবিক জীবন নিয়ে সুখী হতে  চেয়েছিলাম  পারিনি।
জানিস  কয়েকজন  চাকরিজীবি  ডিভোর্সি আর বিধবা মহিলাদের সাথে মিথ্যা  অভিনয়  করে  যাচ্ছি।
ভালোবাসা বিয়ে ঘর সংসারের  লোভ দেখিয়ে আকৃষ্ট করে  তাদের কাছ হতে ধার দেনার কথা বলে  টাকা নিচ্ছি  এভাবে   চলছি । একেক মাসে একেক জন হতে নেই কি করবো বল?
তুই  মহিলাদের আবেগকে ইনভেস্ট করিস।
ছিঃ তুই  এতো খারাপ  পথে  চলে যাবি ভাবিনি কখনো।
বারেক বললো , আমি আজ যাই ফিরতে দেরী হলে  মা বকবে। আকাশ  বললো  তুই এখনো মা ভক্ত ছেলে  হয়ে রয়ে গেলি।
হ‍্যা আমি মনে করি
 মা বাবার কথা মেনে চলাই উত্তম।
ফেইসবুক জগতে  সীমাহীন আই ডি।
গতবছর  স্বপ্নাকে পটিয়ে ছল চাতুরী করে  বলে চল্লিশ  হাজার  টাকা হাতিয়ে নিয়েছি বলেছি ব‍্যবসা করে শোধ করবো এখন সব বাদ।
সিম  পাল্টিয়ে দিয়েছি,  এখন সব  নতুন।
আকাশের  সাথে সদ‍্য পরিচিত হলো  তমার সাথে।  এখন  খুব ব‍্যস্ত তমাকে নিয়ে ।
তমার  স্বামী মারা গেছে অনেক বছর আগে  সে পেশায়  সরকারি চাকরীজীবি।  একমাত্র  ছেলে  পিয়াস এস এস সি পাশ করে  কলেজে ভর্তি হয়েছে দুরের শহরে। তমার  ট্রান্সপার হলো অজপাড়া  এক গ্রামে।
আকাশ  মনে মনে প্লান করলো  এইতো বড় সূযোগ , কিছু দিন তমার সাথে স্বামী পরিচয়ে থাকলে মন্দ হবে না, আর  তার  মনের মতো  চললে কিছু টাকা ইনকামের  রাস্তা ও হবে।
তমাকে  কল করলো  আকাশ
হ‍্যালো তমা?
তমা–হ‍্যা বলো,   মনে মনে তোমাকেই  ভাবছিলাম,
আকাশ  —  তাই বুঝি?
আচ্ছা বলোতো  কেনো?
তমা–আকাশ  আমার  যেখানে বদলি হয়েছে   ওখানে  আমার  পরিচিত কেউ নেই।
কথার মাঝখানেই আকাশ  বললো
তমা , তোমার  আপত্তি  না থাকলে আমি একটা কথা বলি
অভয় দাও মাইন্ড করবা নাতো?
তমা–আরে  না না আমি  তোমাকে ভালোবাসি  আকাশ,  তুমি ও আমাকে  ভালোবাসো , আমাদের মাঝে  যা কথা হবে  একে  অপরের  ভালোর জন‍্যেই তো  হবে।
বলো একদম  ফ্রি ভাবে  বলো,
আকাশ  খুব বুদ্ধিমান,
সে জানে  কবে কি বললে  কাবু  করা যায়।
 এভাবেই নষ্ট ছেলেরা মেয়েদের আর নষ্ট মেয়েরা ছেলেদের বিশ্বাসের সাথে খেলছে
আকাশ-  বলছিলাম তুমি একা একটা মেয়ে মানুষ আজকাল দিন কাল ভালো না আমি চলে আসি?
আমরাতো দুজন দুজনকে ভালোবাসি বিয়ে  করবো।
তাছাড়া  তোমার সম্মান মানে তো আমার  সম্মান। তোমার  ছেলেকে আমি  ম‍্যানেজ করবো।  একটা  কাজ করো তোমার বাড়ীতে আমি  আসি পরিচিত  হই।
তমা – ঠিক  আছে বৃহস্পতিবার  আসো
ছুটির দিনে ছেলেটা আসবে। তুমিও আসো।
পিয়াস বাড়ী এলে” তমা  ছেলেকে বললো
 বাবা,  তোমার  জম্মের মাএ চার বছরের মাথায়  তোমার বাবা মারা যায়।
তোমার কথা ভেবেই আমি  আজ ও একা সংগ্রাম  করছি  একাই এতো বছর  কাটিয়ে দিয়েছি।
 তোমার আপত্তি  না থাকলে আজ আমার  একজন বন্ধুর সাথে তোমাকে পরিচয়  করিয়ে দিতে  চাই।
পিয়াস মেধাবী ছেলে বললো., মা আমি তোমার সুখে সুখী তোমার কথার উপর আমার  কোন কথা নেই।
আকাশ  আসার সময়  পিয়াসের পছন্দের  রসগোল্লা আর পিৎজা নিলো।
কলিংবেল বেজে উঠলে
পিয়াস ই দরজা খোললো
সালাম দিয়ে  বললো, আংকেল  কেমন আছেন?
আরে পিয়াস  বাবা তুমিতো মাশাল্লাহ্  অনেক সুন্দর & স্মার্ট  ছেলে।
পিয়াস  তো প্রশংসা শুনেই  খুশী।
তমা বললো আর মাথায়  উঠাই ও না।
পিয়াসকে  আকাশ  বললো আরে না পিয়াস সত্যি  ভালো  ছেলে আজকালের ছেলেদের  কোন আদব কায়দা নেই। পিয়াস দেখলে আমাকে সালাম দিয়েছে প্রথমেই।
পিয়াস সব শুনে বললো আম্মু তুমি তো একদম  প্রশংসা করোই না। আংকেলের  কাছে শিখো কিছু।
শুনো তমা সন্তানের  প্রশংসা  করতে হয় , তাতে ওদের  মন বড় হয়।
আকাশ  সমান তালে একাধিক  মেয়ের সাথে প্রেমের অভিনয়ে পার্রদশী।
হঠাৎ  সুমনার কল
আকাশ  বললো  সুমনা পরে কল দাও আমি একটু ব‍্যাস্ত।
সুমনা বললো  আমি কিছু  চাই না,একটু তোমার  কন্ঠ শুনতে চাই ।
এদিকে  তমা রান্না  নিয়ে ব‍্যাস্ত আকাশের পছন্দের  খাবার  রান্না  করবে বলে।
অন‍্যে দিকে  আকাশ ও সুমনার  চ‍্যাট  চলছে।
আকাশ –আচ্ছা পরে কথা বলি, ভালো  থেকো, কোনো  প্রয়োজন  হলে বলো।
সুমনা ছিলো   ধনী তার স্বামী  আমেরিকায়  কর্মরত।
তমা এসে দেখলো ফ্রুট সালাদ এর শুধু  মিষ্টি  ফল গুলোই খেয়েছে আকাশ।
কম মিষ্টি ফল গুলো  রেখেই দিয়েছে
তমা বললো কি ব‍্যাপার  তুমি এগুলো রেখে দিলে কেনো?
আকাশ  বললো
 আমি শুধু  মজাগুলো খাই পানসে ফল খাই না।
তমা বললো
তার মানে শুধু লাভ চাও কিন্তু জীবন শুধু লাভ দিয়ে  চলে না ক্ষতিটাও মানতে হয় , একটা মানুষের  সব কিছুই ভালোবাসতে হয়  তার খারাপ দিক গুলো ও।
আকাশ বললো সেটা তোমার  নীতি আমি শুধু  লাভের অংশই  চাই।
তমা আকাশের কথাকে তেমন  আমলে নেয়নি বললো  যাও ফ্রেস হয়ে  খেতে আসো। কাল হতে আমি চাকরীতে থাকবো তুমি নিজে করে খাবে কিন্তু।
আকাশ  বললো আরে  এটাতো  আমার  জন‍্যে ভালো। তাছাড়া   আমি খুব ভালো  রাধতে  পারি।
অফিস  শেষে এসে তমা তো অবাক আকাশ  তার পছন্দের  খাবার চিকেন  বিরানী করে রেখেছে ফ্রিজে কাস্টার্ড করে রেখেছে।
যা দেখে এতো খুশী  তমা সাথে সাথে বকশীস করলো পাচঁশত টাকা।
এভাবেই  তমার মনের গভীরে  স্থান করে নিলো আকাশ। তমা তাকে নিজের  চেয়ে ও বেশী বিশ্বাস  করে।
তারা একে অপরের সাথে স্বামী স্ত্রীর মতো  বিবাহ বহিভূর্ত  সম্পর্কে আছে।
 এভাবে  চারমাস একত্রে বসবাসের  পর তমা বললো আমাদের  এভাবে থাকা ঠিক  হচ্ছে না চলো বিয়েটা করে ফেলি।
আকাশ  বললো তার আগে আমার তো কিছু  করতে হবে একজন বেকার  হয়ে  তোমাকে বিয়ে করে তোমার  ছেলের কাছে লজ্জিত  হতে চাই না।
তমা বললো ঠিক  আমি তোমাকে  আমার  একাউন্ট  হতে পাচ লাখ টাকা  দিচ্ছি  এটা দিয়ে  যেকোনো  ব‍্যবসা প্রতিষ্টা করো।
তমা আকাশকে  পুরোপুরি বিশ্বাস  করে চেক তুলে দিলো  কয়েকদিন খুব ঘনিষ্ঠ ভাবে বিশ্বাস অর্জন  করে টাকাটা ক‍্যাশ করে আকাশ চলে যাবে এটা ভুলে ও ভাবেনি তমা।
সেই  যে গা ঢাকা দিলো আকাশের আর দেখা মিলে না।
তমার আকাশটা ভেঙ্গে তছনছ  হয়ে  গেলো।
টাকার জন‍্যে নয়,
 বিশ্বাস ভঙ্গের জন‍্যে।
 মনে এতো কষ্ট পেলো  মনের অসহ‍্য  কষ্ট গুলো কাউকে শেয়ার  করতে পারছে না সে , যার কারণে  কয়েক দিন ধরেই অসুস্থ  তমা, বুঝতে পারলো আকাশকে বিশ্বাস করাটা জীবনের চরম ভুল।
আজকের সমাজে অসংখ্য  আকাশ, যাদের জন‍্যে এখন কেউ কাউকে বিশ্বাস  করে না।তমাদের উচিত   র্ধমীয় বিধান মেনে চলা।।
সমাপ্ত

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

Categories

© All rights reserved © 2022 mannanpresstv.com
Theme Customized BY WooHostBD