1. admin@mannanpresstv.com : admin :
প্রবন্ধঃ সাহিত্যের অন্ধকার যুগ -আবদুল গনি ভূঁইয়া - মান্নান প্রেস টিভি
রবিবার, ০৩ মে ২০২৬, ০৭:৪৭ পূর্বাহ্ন

প্রবন্ধঃ সাহিত্যের অন্ধকার যুগ —আবদুল গনি ভূঁইয়া

এম.এ.মান্নান.মান্না
  • Update Time : বুধবার, ৫ জুন, ২০২৪
  • ১৬৩ Time View
আমি সুস্থ সাহিত্য চর্চার বিনির্মানে আদর্শিক প্রণোদনার সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যে এগিয়ে আসতে উৎসাহিত করতে সুশীল সমাজের উচ্চবর্গের সেবার হাত যেন কল্যাণের প্রতি এগিয়ে আসে তাই কিছু গঠনতান্ত্রিক সমালোচনা কিংবা প্রতিবাদের আদলে লেখা দিয়ে থাকি। হতে পারে কবিতা প্রবন্ধ কিংবা গল্পের মতো কিছু ব্যাঙ্গাত্মক ভাবধারার রসাত্মক রম্যরচনা! এসব লেখা বেশিরভাগ পাঠক কবিসাহিত্যিক লেখকের সমাদরে পাঠ করে এবং গঠনতান্ত্রিক মন্তব্য করেন। আমি তখন ক্ষয়িষ্ণু সমাজের অহিতকর কর্মের বিরুদ্ধে যথেষ্ট তথ্য-উপাত্তের উপর ভিত্তি করে লেখা প্রস্তুত করতে আগ্রহ প্রকাশ করি। যাতে,আমাদের সাহিত্যের লেখক সমাজ ভবিষ্যৎ দুরাবস্থার সৃষ্টি থেকে সুরক্ষা পেতে পারেন। ইদানিং সাহিত্যের সহস্রাধিক সংগঠন বেসরকারি ভাবে অনলাইনের সুবাদে গড়ে উঠেছে। উনারা চিত্তাকর্ষক লোভনীয় কায়দায় সাহিত্যের সেবক হয়ে নানান কলাকৌশলের তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন। বিচ্ছিন্নভাবে সিনেমার স্টাইলের যাত্রা মঞ্চায়নের মতো সভাসমাবেশ করে হাজার হাজার টাকা খরচ করে সাহিত্যের অনুষ্ঠান আয়োজন করছেন।
জমকালো জাঁকজমকপূর্ণ আলোকসজ্জা করে মহানগরের অভিজাত পাড়ায় হলরুম ভাড়া করে শতশত কবি-সাহিত্যিকের সমাগম ঘটিয়ে গুণিজন সম্মাননা প্রদানের অনুষ্ঠান করছেন। অথচ,এতোসব টাকার আয়ের কোন বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন করার মতো রাষ্ট্রের কোন মহলের তদারকি নেই! একজন সাধারণ দৈনিক আয়ের শ্রমিক বাজার থেকে একটা চিপস কিনতে ভ্যাট টেকস দিতে হয়। অথচ, রাষ্ট্রের তথাকথিত এই সাহিত্যের আয়োজকেরা এতো টাকাপয়সা ব্যয়ের অনুষ্ঠানের আয়োজন করছেন,এদের কোন খবরদারী নেই কেন? রাষ্ট্রের কোন নিয়ন্ত্রণ বিহীন এমন কর্মকাণ্ড চলতে দিলে প্রাচ্যের আরব্যোপন্যাসে উল্লেখ্য কল্পকাহিনীর কাব্যিকতার মতো আয়ামে জাহেলিয়াত দেখা দিতে মনে হয় বেশি দেরি নাই। কারণ,কবির নামে নট-নটীরা করছে সাহিত্যের মঞ্চে দেহ প্রদর্শনের চমৎকার অভিনয়! ক্রেস্ট, মেডেল,শাল্,আউলান,শাড়ী, লুঙ্গি উপহার দিয়ে সাহিত্যের মঞ্চসজ্জা করার প্রমোদকর বালাখানাতে পরিনত হতে যাচ্ছে। আমি মনে করি বাংলা সাহিত্যের আধুনিক রেনেসাঁসের দর্শনের মূল স্রষ্টাদেরকে জীবনদর্শন ঐতিহ্যগত ভাবধারার সুরক্ষা না করে রঙ্গিন ব্র্যান্ড ফ্যাশন ডিজাইনারের আদলে নতুন সাহিত্যচর্চার নীতি-নৈতিকতার সৃষ্টি করতে চাচ্ছে যা সাহিত্যের জন্য মোটেও আক্ষরিক অর্থে মোটেও কাম্য নয়।
যে কালে কবি-সাহিত্যিকের মেলা হয়নি,আজকের মতো করে শত-শত ক্রেস্ট দেওয়া হয়নি,সেকালে কি কাব্য সাহিত্য চর্চা হয়নি? কবিরা কি এমন করে পুরস্কার পাবার জন্যেই কাব্য সাহিত্য চর্চা করতেন? আসলে এ কোন সাহিত্য চর্চার মধ্যে পড়ে না! সাহিত্যের রমরমা বাজার বসেছে, এই বাজারের ক্রেতা বিক্রেতাদের কোন প্রকার টেক্স ভ্যাট দিতে হয় না। এ-ই ফ্যাশনের সাহিত্যচর্চার কারণে কে কবি আর কে অকবি এ-র কোন মূল্যায়ন হয় না। আমি দেখেছি সাহিত্যের গ্রুপে সারাবছর যারা লেখা পোস্ট করেন,সেরা কবি সাহিত্যিক,লেখক হিসেবে দৈনিক, সাপ্তাহিক, মাসিক বিজয়ী হয়ে ২০/২৫ বার সনদ পেয়েছেন,সংগঠকদের দেওয়া অনলাইনের সেরা সম্মাননা সার্টিফিকেট প্রদান করেছেন, স্বর্ণ,রৌপ্য রাঙ্গানো বর্ণিল সনদের ছড়াছড়ি করে কবি’কে তার সংগঠনের প্রয়োজনে ব্যস্ত রেখেছেন। অথচ, অনুষ্ঠানের সময় তাদের’কে কোন সম্মাননা দিতে দাওয়াত পত্র দিচ্ছেন না! সারা বছরের এই সেরা কবি’কে ও অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করতে চাঁদা দিতে হচ্ছে! তাকেও সাধারণ দর্শকের সাথে পুরো অনুষ্ঠান বসে থাকতে হচ্ছে! তাকে, তার স্বরচিত কবিতা আবৃত্তি করতেও নাম লিখিয়ে অখ্যাত কবিদের কাতারে ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে। অনুষ্ঠানে পুরস্কার গ্রহনের জন্য টাকার বিনিময়ে ক্রেস্ট গ্রহণ করতে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। অথচ,পুরো অনুষ্ঠান জুড়ে মঞ্চে উপবিষ্ট গুণিজন হয়ে বসে থাকেন এমন অনেকে আছেন যারা কোন দিন একটা কবিতা, গল্প, প্রবন্ধ, উপন্যাস কোনকিছুই লিখেন না,সারাবছর গ্রুপের কোন একটা লেখা দিচ্ছেন না,তারাই অর্থের বিনিময়ে যোগ্য সম্মানিত বিশিষ্ট অতিথি ও কবি-সাহিত্যিক সেজে মঞ্চে বসে থাকেন। তাদের হাত থেকে ঐ সারা বছরের সেরা লেখক কবিসাহিত্যিক যিনি হয়েছেন, তিনিই চাঁদা দিয়ে এখানে এসেছেন পুরস্কার ও সম্মাননা পেতে!!
ছিছিছি,হায়রে বেশরম জাতি একেই না-কি তারা বলছেন গুণিজন সম্মাননা!! যেখানে গুণিজন সম্মাননার তকমা লাগিয়ে কিছু স্বার্থপর মানুষ নিজেদের স্বার্থে এমন সাহিত্যের ব্যবসা করেন। তাদের দ্বারা কি করে প্রকৃত সাহিত্যিক তৈয়ার হবে,বলুন ? আমি জানি এমন প্রশ্নবাণে আপনি শঙ্কিত মনে নিরুৎসাহিত হতে চাইবেন না! তাই প্রতিবাদ ও করবেন না! আমি সবসময় করে থাকি! তাই, অনেকের চোখের কাঁটায় পরিনত হয়েছি। আমি মনে করি কবিসাহিত্যিক হতে হলে,সুশৃঙ্খল, গুরুগম্ভীর, আলোচনা, সমালোচনা ও ব্যাখ্যা বিশ্লেষণের মাধ্যমে আগে থেকেই শ্রেষ্ঠ কবি সাহিত্যিক লেখক নির্বাচন করতে হবে এবং একটি স্মারকপত্র কিংবা কথিকা প্রস্তুত করে উপস্থিত হলরুমে প্রত্যেকে আমন্ত্রিত অতিথিদের হাতে তুলে দিতে হবে যেন তারা বুঝতে পারেন,সত্যিকারের কোন লেখক, কে এবং কারা, কি গুণাবলির অধিকারী হয়ে সাহিত্যের এই সংগঠকদের দ্বারা এবছরের সম্মাননা পেতে যাচ্ছেন। কেমন ছিলো তাদের সাহিত্যের অবদান? এই পুরো বিষয়টি কেমন করে বিবেচনা করা হয়েছে আর এর স্বচ্ছতাই বা কতোটুকু? কিন্তু তা না করে,গরু ছাগল বেচাকেনার হাটবাজারের মতো যত্রতত্র চলছে এমন অনুষ্ঠানের আয়োজন এবং সাহিত্যের সম্মাননা প্রদানের কীর্তিকাহিনী।
আমি অবাক বিস্ময়ে ভাবি এ কেমন সভ্যতা, গুণিজন নির্বাচন? এ যেনো যাত্রাপালার লোভনীয় মোহনীয় আকর্ষণী সাজসজ্জার আয়োজন নিজের টাকা দিয়ে ফুর্তি করা? এমন সম্মাননা কতোটুকু সম্মানের আপনাদের কাছে প্রশ্ন রইলো? কোন সংগঠক সরাসরি আমাকে নির্লজ্জের মতো বলে ফেলে, কবি সাহেব আপনি এসব লেখালেখি ছাড়েন। আমাদের অনুষ্ঠান আপনার ভালো না লাগলে আসবেন না। আপনি বড় কবি বড় যায়গায় যান, আমাদের কর্মকাণ্ড নিয়ে আপনার এতো মাথা ব্যথার কারণ হলো কেনো? সত্যিই’তো, আমার কেন, এতো মাথা ব্যথা? ওদের কাজ ওরা করছে আমি কেনো খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে এসব দেখতে যাবো? আমি এতো ভালো লেখক হলে রাষ্ট্র আমাকে ডেকে নিয়ে পুরস্কার দিবেন। ওদের সম্মাননা পুরস্কার নিতে কেনো যাবো?
খুবই ভালো কথা, মেনে নিলাম। কিন্তু আমার যে দুটো চোখ আছে, কান আছে, কাল্পনিক শক্তিসম্পন্ন একটা মন আছে, আমি খোলাচোখে সবকিছু দেখি আবার অন্তঃ চোখেও দেখি। আবার না দেখেও পারি না,এই জন্যে যে খারাপির খারাপ কর্মকান্ড দেখে তাকে ভালো হতে বলা যাবে না, এ তো মানা যায় না! এই ভাবে দেখে দেখে যাবেন অথচ কেউ কিছু বলবেন না তা কি ঠিক? কারণ,” আপনারা উলঙ্গ নিত্য করবেন কেউ আপনাকে কিছুই না বলুক এই যদি হয় আপনাদের কাম্য, তাহলে পুরনো কথা নতুন করে বলতে হচ্ছে, “” আসলে বেশরম রাজা মনে করেন পুরো রাজ্যটার সবকিছুই তার, এতে প্রজারা গোল্লায় যাক “”। বর্তমানের অনেক সাহিত্যের অযাচিত অশোভন অযোগ্য সেবকদের আকাঙ্খা ঠিক যেনো ঐ বেশরম রাজার মতো ? নেংটা হয়ে রাস্তায় চলবে অথচ,কেউ দেখে লজ্জা পাক সে এটি মনে করতে চায় না। সে চায় গুণিজন চোখ বুজে না দেখার বাণ করে থাকুক আর ওরা তার সামনেই নেংটা নিত্য করবেন! তাই আবার নির্ভয়ে বলতে চাইছে,আজকাল কিছু নির্লজ্জ, বেহায়া নটনটী সাহিত্যের সেবক সেজে করছে সাহিত্যের সেবক সেবিকার অভিনয় ওরা এমনটাই চায়, আফসোস! এখন চলছে আরেক মহা কৌশল, রেজিষ্ট্রেশনের নামে ফর্ম পুরোন করানোর উৎসাহিত করা,আর এই কাজে ব্যবহার হচ্ছে সাহিত্যের উল্লেখিত নট-নটীনিদের’কে, যাদের কে সাহিত্যের পারায় অলংকার হিসেবে ব্যবহার করা হয়। গত কয়দিন আগে বাংলাদেশ কবি ক্লাবের এক নটীনির দ্বারা দারুণ ভাবে আক্রান্ত হয়েছি।
এই কারণে, যে ঐ নটীনি দাম্ভিকতার সাথে বলেছে সে সংগঠনের চেয়ারম্যানের খাস বাদীনি হয়ে কাজ করছেন এবং ইতিমধ্যে (২০) বিশ জনের অধিক কবিসাহিত্যিক কে রেজিষ্ট্রেশন করিয়ে ফেলেছেন, আমিও যেনো তার মাধ্যমে দ্রুত রেজিষ্ট্রেশন করে ফেলি এবং টাকাটা তার বিকাশে পাঠায়ে দেই। আমি সাথে সাথে অপারগতা প্রকাশ করলে সে আমার পিছু লেগে যায় এবং ঐ সাহিত্য গ্রুপের আয়োজন কমিটির মেসেঞ্জারে আমাকে নিয়ে বাজে মন্তব্য করতে থাকে। আমি অবাক বিস্ময়ে অবলোকন করলাম গ্রুপ প্রধান সহ তাদের অনুসারীরা আমাকে ঐ মেসেঞ্জার গ্রুপ থেকে রিমুভ করে ফেলে। বাহ্ মেডেল বাহ্! ক্রেস্ট ব্যবসায়ী ঐ বাংলাদেশ কবি ক্লাবের চেয়ারম্যান খাটাশ ঐ নটীনির কথা মতো আমাকে রিমুভ করে দুস্তর মতো অপমান করতে কোন প্রকার কুণ্ঠাবোধ করলেন না! সে অবশ্য সাহিত্য পারায় দীর্ঘদিনের ক্রেস্ট ব্যবসায়ী বয়োবৃদ্ধ খাটাশ। ইতিপূর্বেও খাটাশটা আমাকে নানান কৌশলে অপমানিত করতে ফাঁদ পেতেছেন! আমার দোষ একটাই টাকার বিনিময়ে ক্রেস্ট আমি কিনতে চাই না বলে ঐ খটাশ মনঃক্ষুণ্ন হয়ে যায়, আফসোস!!
বনশ্রী, ঢাকা।
০৫/০৬/২০২৪

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

Categories

© All rights reserved © 2022 mannanpresstv.com
Theme Customized BY WooHostBD