জেনে রেখো
অবহেলা পেলে ধূলায় গড়াবো
অবহেলা পেলে ছিঁড়ে ফেলে দেবো
বুকের বোতাম, যা তুমি ছুঁয়েছো
কাঁপা কাঁপা হাতে।
অবহেলা পেলে নেভাবো প্রদীপ
একটি ফুঁয়েই ঘুঁচাবো আঁধার,
যেখানে ডুবেছো,আদ্যপ্রান্ত,
মুখ লুকিয়েছো বুক বরাবর যখন শ্রান্ত।
অবহেলা পেলে ছিঁড়ে ফেলে দেবো
কাঁচা হাতে লেখা বালিকা বেলার
সবগুলো চিঠি। কুটি কুটি করে কেটে
ফেলে দেবো যেমন ইঁদুড় কেটে ফেলে দেয়
কাঁথা ও বালিশ। প০আগুনে পোড়াবো
যেমন পোড়ায় চন্দন কাঠ মানবীর লাশ।
অবহেলা পেলে খিল এঁটে দেবো
যে ফেরে ফিরুক ,রূপবতী নারী অথবা
তেল চকচকে হিংস্র বানর।
মুঠি করে ধরে ছুঁড়ে ফেলে দেবো
হৃদয়ে লুকোনো জং ধরে যাওয়া নষ্ট আদর।
অবহেলা পেলে কেটে ফেলে দেবো
অনামিকা থেকে ধাতব আংটি,
আঠারো বছর বুঁদ হয়ে মিশে
জোঁকদের মতো আটোসাটো হয়ে
যেখানে থাকতো
ভাগ্যের সুর যেখানে বাজতো।
ভাগ্যই যদি কামড় বসায় তোমার ওষ্ঠে
কী লাভ বলতো আমাকে বাঁধবে
সারাটি জীবন তোমার শিকলে
আষ্টেপৃষ্ঠে? মোহিনী বাতাস কতটুকু আর
তোমার আমার হৃদয় পোড়াবে কষ্টেসৃষ্টে?
অবহেলা পেলে ধূলায় গড়াবো
অবহেলা পেলে তিন পয়সার ধরার আঁধারে
একা একা আমি মুখটি লুকাবো।
অবহেলা পেলে মরণের সাঁটা কর্দমাক্ত
খিল খুলে দেবো।** এই কবিতাটি আমার খুব প্রিয়। ২০২০ এ লেখা। স্বনামধন্য আবৃত্তি শিল্পী করোনাকালীন সময়ে কন্ঠে নিয়েছিলেন কোন একটি online অনুষ্ঠানে।