বারোটি দিন পার হলো আজ, বাবা অসুস্থ হয়ে দূরে,
বিষাদমাখা দিনগুলো মোর কাটছে ব্যথার সুরে।
আমার ‘অটো এলার্ম’ তিনি, ডাকতেন শেষ রাতে,
তাহাজ্জুদ শেষে যেতাম ফজর পড়তে সাথে।
একসাথে সব না বসলে তো হতো না খাওয়া সারা,
বাবার ডাকেই জমত আসর, আমরা বাঁধনহারা।
মসজিদে সেই চেনা জায়গা, শূন্য এখন পড়ে,
বাবার অভাব প্রতি পদে কাঁদিয়ে আমায় মারে।
বিনা বেতনের মুয়াজ্জিন তিনি, আজান দিতেন সুরে,
সেই ধ্বনি আজ পাই না শুনতে, মনটা ব্যথায় পুড়ে।
স্কুলের প্রিয় শিক্ষক তিনি, ছিলেন পল্লী চিকিৎসক,
সবার তরে বিলিয়ে গেছেন সেবার পরম আলোক।
হাতের ছোঁয়ায় সজীব ছিল বাবার সবজি বাগান,
আগাছাতে আজ ভরে গেছে, নেই তো আগের প্রাণ।
সবজি নিতে হাত বাড়ালেই দু’চোখ ঝরছে জলে,
বাবার ঘ্রাণ যে মিশে আছে প্রতিটি ঘাসফুলে।
হাটবাজারের ব্যাগটা আজ নিজের হাতেই ভারি,
স্মৃতিরা সব দিচ্ছে হানা, সইতে কি আর পারি?
ডাকেন না কেউ নামাজ আর খেতে বসার তরে,
বাবার অভাব মিশে আছে আমার সারা ঘরে।
অসুস্থ হয়ে আছেন আজ হাসপাতালের বেডে,
শূন্য বাড়ি খাঁ খাঁ করে ওনার মায়া ছেড়ে।
প্রার্থনা করি ফিরুন বাবা সুস্থ শরীর নিয়ে,
আবার যেন সাজান বাড়িঘর, বাগান আপন পরশ দিয়ে।