বিশেষ প্রতিনিধি | সোনাডাঙ্গা, খুলনা আইনের শাসন কি তবে এদের হাতেই সঁপে দেওয়া হয়েছে? যারা সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবেন, তাদের নিজেদের ঘরের ভেতরেই চলছে মধ্যযুগীয় বর্বরতা! খুলনার সোনাডাঙ্গা আবাসিক এলাকার সোলার পার্ক সংলগ্ন একটি ভাড়া বাসায় ৯ বছরের এক শিশু গৃহকর্মীকে অমানুষিক নির্যাতনের ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর সাধারণ মানুষের মনে এখন এই তীব্র প্রশ্নটিই ঘুরপাক খাচ্ছে।
বর্বর এই কাণ্ডটি ঘটিয়েছেন আর কেউ নন—খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (KMP) বিশেষ শাখায় কর্মরত সহকারী উপ-পরিদর্শক (ASI) মো. মাইনুল ইসলাম এবং তার স্ত্রী পুতুল আক্তার।
বুধবার দুপুরে সোনাডাঙ্গা আবাসিক এলাকার ওই বাসাটি থেকে হঠাৎ এক শিশুর গোঙানি ও কান্নার শব্দ পান স্থানীয় বাসিন্দারা। কৌতূহলবশত জানালার ফাঁক দিয়ে উঁকি দিতেই শিউরে ওঠেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। তারা দেখেন, চুলার গরম কড়াই দিয়ে অবুঝ শিশুটির মুখমণ্ডল এবং শরীরের বিভিন্ন স্পর্শকাতর স্থানে নির্মমভাবে ছ্যাঁকা দেওয়া হচ্ছে।
যন্ত্রণায় যখন মেয়েটি মুখ ফিরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছিল, তখন রেহাই দেওয়া তো দূর—উল্টো তাকে কান ধরে ওঠবস করানো হচ্ছিল এবং চড়-থাপ্পড় মারা হচ্ছিল। আইনের রক্ষক ও তার স্ত্রীর এমন পৈশাচিক রূপ দেখে হতবাক হয়ে যান স্থানীয়রা।
ঘটনাটি দেখার পরপরই স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা আর চুপ করে বসে থাকেননি। মুহূর্তের মধ্যে এলাকার উত্তেজিত জনতা ওই বহুতল ভবনটি ঘেরাও করে। খবর দেওয়া হয় সোনাডাঙ্গা থানা পুলিশকে।
পরে পুলিশ এসে কক্ষের ভেতর থেকে নির্যাতিত ও অগ্নিদগ্ধ শিশু মারুফাকে উদ্ধার করে। তার শরীরের একাধিক স্থানে গুরুতর পোড়া ও আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তাকে দ্রুত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (OCC) ভর্তি করা হয়েছে।
সোনাডাঙ্গা থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকেই অভিযুক্ত এএসআই মাইনুল ইসলাম এবং তার স্ত্রী পুতুল আক্তারকে গ্রেপ্তার করে থানা হেফাজতে নিয়ে গেছে। ঘটনার তীব্রতা বিবেচনা করে কেএমপি সদর দপ্তর থেকে এএসআই মাইনুলকে তাৎক্ষণিকভাবে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত (Suspend) করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।