ধর্ষণের মতো জঘন্য ও গুরুতর ফৌজদারি অপরাধের বিচার আদালতের বাইরে স্থানীয় সালিশে মাত্র কয়েকটি কিল-ঘুষি এবং ৫০ হাজার টাকা জরিমানার মাধ্যমে দফারফা করার একটি উদ্বেগজনক অভিযোগ উঠেছে। ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলায় ঘটে যাওয়া এই ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর সচেতন মহলে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি এক নারীকে ধর্ষণের পর বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হলে স্থানীয় মাতব্বরেরা আইনি প্রক্রিয়া এড়িয়ে নিজেরা বিচারের দায়িত্ব নেন।
বিচারের জন্য অভিযুক্ত ব্যক্তিকে হাত বেঁধে প্রকাশ্য সালিশি বৈঠকে হাজির করা হয়। সেখানে সবার সামনে ভুক্তভোগীর আনা অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে অভিযুক্ত নিজের দোষ স্বীকার করেন এবং সবার কাছে ক্ষমা চান। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এমন অপরাধ আর করবেন না বলেও প্রতিশ্রুতি দেন।
অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পরও অপরাধীকে পুলিশের হাতে তুলে না দিয়ে, সালিশে তাকে কয়েকটি কিল-ঘুষি মারা হয় এবং নগদ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করে তাৎক্ষণিকভাবে ছেড়ে দেওয়া হয়।
প্রচলিত আইন অনুযায়ী, ধর্ষণ একটি চরম ও অ-আপসযোগ্য অপরাধ, যার বিচার করার এখতিয়ার একমাত্র নির্ধারিত আদালতের। মহামান্য হাইকোর্টের স্পষ্ট নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও স্থানীয়ভাবে এই ধরনের বেআইনি সালিশের মাধ্যমে মামলা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা ন্যায়বিচারের পথকে মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত করছে। নামমাত্র শাস্তি দিয়ে অপরাধীকে ছেড়ে দেওয়ার এই প্রবণতা সমাজে অপরাধীদের আরও বেশি প্রশ্রয় দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
এই ঘটনার পর স্থানীয় সামাজিক ও মানবাধিকার কর্মীরা প্রশাসনের প্রতি দ্রুত, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের জোর দাবি জানিয়েছেন।
সাধারণ মানুষের দাবি—অনতিবিলম্বে এই ঘটনার মূল অপরাধীকে গ্রেপ্তার করে প্রচলিত আইনে আইনের আওতায় আনা হোক। একই সঙ্গে, দেশের আইন অমান্য করে যারা এই বেআইনি ও প্রহসনের সালিশি বৈঠকের আয়োজন করেছে এবং বিচার প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করেছে, তদন্ত সাপেক্ষে সেইসব সালিশকারীদের বিরুদ্ধেও কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হোক।