মনোহরগঞ্জ (কুমিল্লা) প্রতিনিধি: ঐতিহাসিক জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে কুমিল্লা মনোহরগঞ্জে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে শহীদ মনির হোসাইনের কবর জিয়ারত, আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ ১ জুলাই জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) মনোহরগঞ্জ উপজেলা শাখার উদ্যোগে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
কর্মসূচির শুরুতে মনোহরগঞ্জের গর্ব, বীর শহীদ মনির হোসেনের কবর জিয়ারত করা হয়। এরপর জুলাই আন্দোলনে নিহত সকল শহীদের রুহের মাগফিরাত এবং আহত সাহসী ছাত্র-জনতার দ্রুত আরোগ্য কামনা করে বিশেষ মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।
কবর জিয়ারত শেষে এক সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভায় মনোহরগঞ্জ উপজেলা এনসিপির প্রধান সমন্বয়ক, লেখক ও অ্যাক্টিভিস্ট মোস্তাফিজুর রহমান মাসুদ বলেন, “শহীদ মনির শুধু মনোহরগঞ্জ নয়—গোটা বাংলাদেশের গর্ব। তিনি অন্যায়ের বিরুদ্ধে নিজের জীবন উৎসর্গ করেছেন। পেশাগত জীবনে একজন নিরাপত্তা প্রহরী (গার্ড) হয়েও স্বৈরাচারী হাসিনার পেটুয়া পুলিশ বাহিনীর বুলেটের সামনে দাঁড়িয়ে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে তিনি প্রাণ দিয়েছেন। আমরা তাঁর এই বীরত্ব ও রক্তঋণ কখনো ভুলবো না।”
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন এবং বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করেন মনোহরগঞ্জ মানব কল্যাণ ট্রাস্টের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি, সমাজসেবক মওদুদ আহমেদ জিহাদ।
এ সময় শহীদ মনির হোসাইনের স্মৃতি চারণ করে আবেগঘন বক্তব্য রাখেন তাঁর বড় ভাই মোঃ মহসিন মিয়া।
কর্মসূচিতে আরও উপস্থিত ছিলেন এনসিপি মনোহরগঞ্জ উপজেলার যুগ্ম সমন্বয়কারী লুৎফুর রহমান মামুন, আদিত্য শাহরিয়ার, পেয়ার আহাম্মদ মজুমদার, সদস্য রাকিব হোসাইন, হোসাইন আহাম্মদ এবং আনোয়ার হোসাইন। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন মনোহরগঞ্জ উন্নয়ন ফোরামের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও মনোহরগঞ্জ মানবকল্যাণ ট্রাস্টের ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম মিজি।
নেতৃবৃন্দ বলেন, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) বিশ্বাস করে জুলাই বিপ্লব ছিল বৈষম্যের বিরুদ্ধে বাংলার সন্তানদের এক ঐতিহাসিক জাগরণ। শহীদদের আত্মত্যাগ যেন কোনোভাবেই বৃথা না যায়, সে লক্ষ্যে আমাদের পথচলা অব্যাহত থাকবে। শহীদদের রক্তের প্রকৃত ঋণ শোধ হবে দেশে একটি সাম্য ও ন্যায়ের সমাজ প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে।