গাজীপুরের জয়দেবপুরে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশের একটি খাল থেকে শুক্রবার একটি সুটকেস ও প্লাস্টিকের বস্তায় এক নারীর খণ্ডিত ম’রদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে পিবিআই তদন্তে নিহতের পরিচয় শনাক্ত করে। নিহত ডলি আক্তার, বয়স ৩০। স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদের পর গাজীপুরের বানিয়ারচালা এলাকায় একটি কারখানায় কাজ করতেন এবং সেখানেই ভাড়া থাকতেন।
তদন্তে পিবিআই বলছে, একই কারখানায় কাজ করার সুবাদে ডলির সঙ্গে ২২ বছর বয়সী মিশন ইসলামের প্রেমের সম্পর্ক তৈরি হয়। গত ৮ সেপ্টেম্বর রাতে ডলি মিশনের ভাড়া বাসায় যান। সেখানে মিশন, তার মা বানু আক্তার ও ডলি একসঙ্গে রাতের খাবার খান। পরে মিশন ও ডলি একই ঘরে এবং বানু পাশের ঘরে ঘুমাতে যান।
এরপর বিয়ে ও সম্পর্কের নানা বিষয় নিয়ে দুজনের মধ্যে কথা কা’টাকা’টি হয়। পিবিআইয়ের দাবি, একপর্যায়ে ডলিকে হ*ত্যার সিদ্ধান্ত নেন মিশন। রাতে তাকে ঘুম ও অ্যালার্জির ওষুধ খাওয়ানোর পর ঘুমিয়ে গেলে রাত প্রায় ২টার দিকে লুঙ্গি পেঁচিয়ে ও বালিশচাপা দিয়ে শ্বা’সরোধে হ*ত্যা করা হয়। ম’রদেহ লুকিয়ে রাখা হয় ঘরের চৌকির নিচে।
পরদিন সকালে ঘর পরিষ্কার করার সময় চৌকির নিচে ম’রদেহ দেখতে পান মিশনের মা বানু আক্তার। এখানেই ঘটনাটা আরও ভয়ংকর হয়ে ওঠে। পুলিশ বলছে, মা ও ছেলে মিলে ম’রদেহ গুম করার পরিকল্পনা করেন। একটি সুটকেস কেনা হয়। কিন্তু সুটকেসে ম’রদেহ ঢুকছিল না।
সুটকেস বড় করার উপায় ছিল না, তাই মরদেহই ছোট করার সিদ্ধান্ত হলো। বটি, দা ও ব্লেড ব্যবহার করে কোমর থেকে ম*রদেহ দুই খণ্ড করা হয়। এক অংশ সুটকেসে এবং অন্য অংশ পলিথিনে মুড়িয়ে প্লাস্টিকের বস্তায় রাখা হয়।
এরপর মিশন তার বন্ধু মিজানুর রহমান মিল্টনকে বাসা পরিবর্তনের কথা বলে ডেকে আনেন। মিল্টন সুটকেস ও বস্তা অটোরিকশায় তুলে দেন। পরে মিশন, তার মা ও মিল্টন রাজেন্দ্রপুর হয়ে ভবানীপুর ব্রিজ এলাকায় যান। সেখানে সুটকেস ও বস্তা খালের পানিতে ফেলে দেওয়া হয়। মিল্টনের হাতে র*ক্ত লাগার পর সে সুটকেস ও বস্তার ভেতরে কী আছে জানতে চাইলে মিশন তখন ডলির ম*রদেহ থাকার কথা জানান।
পিবিআই পরে মিশনের ভাড়া বাসা থেকে হ*ত্যায় ব্যবহৃত বটি, দা, প্যাকেজিংয়ে ব্যবহৃত স্কচটেপের অবশিষ্টাংশ, ডলির জাতীয় পরিচয়পত্র, মোবাইল ফোন ও জুতা উদ্ধার করে। মিশন, তার মা বানু আক্তার এবং বন্ধু মিল্টনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পিবিআই জানিয়েছে, আসামিরা আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়ে হ*ত্যার দায় স্বীকার করেছেন।
প্রেম, বিয়ে, অভিমান, ঝগড়া এসব মানুষের জীবনে থাকতেই পারে। সম্পর্ক শেষ হয়ে যেতে পারে, মানুষ আলাদা হয়ে যেতে পারে। কিন্তু একটা সম্পর্কের টানাপোড়েন কীভাবে একজন মানুষকে আরেকজন মানুষের জীবন নেওয়া পর্যন্ত নিয়ে যায়, আর হ*ত্যার পর সেই মানুষটির ম’রদেহকে সুটকেসে ঢোকানোর সুবিধার জন্য দুই টু’করো করে ফেলার মানসিকতা তৈরি করে, সেটাই আসল ভয়ংকর প্রশ্ন।
ভালোবাসার নামে শুরু হওয়া সম্পর্ক শেষ পর্যন্ত যদি এমন নৃশংসতায় গিয়ে ঠেকে, তাহলে প্রশ্নটা শুধু হ*ত্যাকারীর নয়। আমরা সম্পর্ককে কতটা বুঝি, প্রত্যাখ্যানকে কতটা মেনে নিতে শিখেছি, আর রাগের মুহূর্তে একজন মানুষকে মানুষ হিসেবে দেখার ক্ষমতাটুকু কত দ্রুত হারিয়ে ফেলছি, সেটাও ভাবার বিষয়।
See less