1. admin@mannanpresstv.com : admin :
ঠাকুরগাঁও উপনির্বাচনে বিএনপির বিরুদ্ধে টাকা দিয়ে ভোট কেনার অভিযোগ জামায়াত প্রার্থীর - মান্নান প্রেস টিভি ঠাকুরগাঁও উপনির্বাচনে বিএনপির বিরুদ্ধে টাকা দিয়ে ভোট কেনার অভিযোগ জামায়াত প্রার্থীর - মান্নান প্রেস টিভি
বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৫৮ অপরাহ্ন

ঠাকুরগাঁও উপনির্বাচনে বিএনপির বিরুদ্ধে টাকা দিয়ে ভোট কেনার অভিযোগ জামায়াত প্রার্থীর

অনলাইন ডেস্ক:
  • Update Time : বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬
  • ১ Time View

ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ভোটারদের মধ্যে ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকা বিতরণ এবং অর্থের বিনিময়ে ভোট কেনার প্রস্তুতির অভিযোগ তুলেছেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন। তাঁর দাবি, ভোটার স্লিপ দেওয়ার পাশাপাশি ভোটারদের টাকা দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া ধানের শীষে ভোট দেওয়ার শর্তে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষি কার্ড, বয়স্ক ভাতা ও বিধবা ভাতার প্রলোভন দেখিয়ে ভোটারদের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) ঠাকুরগাঁওয়ের লারোজা রেস্টুরেন্টে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন তিনি। উপনির্বাচন সামনে রেখে আয়োজিত এ সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচনি প্রচারণায় বাধা, নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা, ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নির্বাচনি কাজে ব্যবহারের অভিযোগও তোলেন জামায়াতের প্রার্থী।

দেলাওয়ার হোসেন বলেন, গত এক সপ্তাহ ধরে সরকারি বিভিন্ন সুবিধার কার্ড দেওয়ার কথা বলে ভোটারদের নাম ও জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে বলে তাঁরা অভিযোগ পেয়েছেন। একই সঙ্গে ধানের শীষে ভোট দিলে এসব সুবিধা দেওয়া হবে বলেও আশ্বাস দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি বলেন, ভোটার স্লিপ বিতরণের পাশাপাশি ভোটারদের ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকা করে দেওয়া হচ্ছে বলে তাঁদের কাছে তথ্য এসেছে। এসব অভিযোগ সত্য হলে তা নির্বাচনি আচরণবিধির গুরুতর লঙ্ঘন হবে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

জামায়াতের এ প্রার্থী আরও বলেন, আগের রাতের মতো বুধবার রাতেও বিভিন্ন ইউনিয়নে, বিশেষ করে নিম্নবিত্ত ও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বসবাসের এলাকায় অর্থের বিনিময়ে ভোট কেনার প্রস্তুতি চলছে বলে বিভিন্ন মাধ্যমে তাঁরা খবর পেয়েছেন।

এসব অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই করে ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান দেলাওয়ার হোসেন। পাশাপাশি অর্থ, প্রলোভন কিংবা ভয়ভীতির কারণে কোনো ভোটার যেন ভোটাধিকার প্রয়োগ থেকে বিরত না থাকেন, তা নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে দেলাওয়ার হোসেন অভিযোগ করেন, গত ৮ অক্টোবর প্রতীক বরাদ্দের পর থেকে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমিনের সমর্থকদের একটি অংশ পেশিশক্তি ও দলীয় প্রভাব কাজে লাগিয়ে নির্বাচনি কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। তাঁর দাবি, প্রতীক বরাদ্দের আগেই বিএনপির প্রার্থীর ব্যানার ও ফেস্টুনে ঠাকুরগাঁও শহরের বিভিন্ন স্থান ছেয়ে ফেলা হয়েছিল।

ভোটার, ভোটকর্মী ও সাধারণ মানুষের বাড়িতে গিয়ে হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করেন তিনি। এ ছাড়া কয়েকজন কৃষি কর্মকর্তার সঙ্গে বিএনপির প্রার্থীর গোপন বৈঠক, নির্বাচনি প্রচারে সেতু নির্মাণের প্রতিশ্রুতি, ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে অনুদান দেওয়ার আশ্বাস এবং একজন সরকারি চাকরিজীবীর প্রচারণায় অংশ নেওয়ার অভিযোগ তুলে ধরেন জামায়াতের প্রার্থী।

দেলাওয়ার হোসেনের অভিযোগ, গত ১৩ অক্টোবর ঠাকুরগাঁও পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডে এশার নামাজের পর ভোটার ও দোকানদারদের সঙ্গে গণসংযোগের সময় তাঁকে বাধা দেওয়া হয় এবং লাঞ্ছিত করা হয়। ২০ অক্টোবর রুহিয়া উপজেলার ২ নম্বর আখানগর ইউনিয়নে নির্বাচনি বৈঠক শেষে তাঁদের ওপর হামলা চালানো হয়। এতে তাঁদের একজন কর্মী গুরুতর আহত হন এবং ডেকোরেশনের চেয়ার ভাঙচুর করা হয় বলে দাবি করেন তিনি।

এ ছাড়া ২১ অক্টোবর সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয়ের বড় মাঠে তাঁদের নির্বাচনি জনসভার মঞ্চ তৈরির সময় বিএনপির ব্যানার ও ফেস্টুন দিয়ে মাঠের বিভিন্ন অংশ ঘিরে ফেলার অভিযোগ করেন দেলাওয়ার হোসেন। পরে রিটার্নিং কর্মকর্তার হস্তক্ষেপে সমাবেশের আগের রাতে সেগুলো সরানো হয় বলে জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে নারী কর্মীর পরিবারকে হুমকি দেওয়া এবং আরেক কর্মীর বাড়িতে গিয়ে সশস্ত্র ব্যক্তিদের প্রচারণা থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগও তোলেন জামায়াতের প্রার্থী। তাঁর দাবি, এসব ঘটনার কারণে নির্বাচনি এলাকায় আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

সরকারি প্রতিষ্ঠান ও সম্পদ নির্বাচনি কাজে ব্যবহারের অভিযোগ তুলে দেলাওয়ার হোসেন বলেন, ২৭ অক্টোবর সকাল ৮টায় প্রচারণার সময়সীমা শেষ হওয়ার পর স্থানীয় বেসরকারি সংস্থা ইএসডিওর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একত্র করে ধানের শীষের পক্ষে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন বলে তাঁরা অভিযোগ পেয়েছেন।

এ ছাড়া ২৪ ও ২৫ অক্টোবর ঠাকুরগাঁও সদর হাসপাতালের প্রায় ২৪ জন সরকারি চিকিৎসককে দিয়ে তিনটি মেডিকেল ক্যাম্প পরিচালনার অভিযোগ করেন তিনি।

দেলাওয়ার হোসেন আরও বলেন, ২৮ অক্টোবর ‘মানব কল্যাণ’ প্রতিষ্ঠানে সরকারি কর্মকর্তাদের নিয়ে বৈঠক ও আপ্যায়নের আয়োজন করা হয়েছে বলে তাঁরা অভিযোগ পেয়েছেন। এসব ঘটনার বিষয়ে ভিডিও ফুটেজ, স্থিরচিত্র ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক প্রমাণ রিটার্নিং কর্মকর্তা এবং জুডিশিয়াল ইনকোয়ারি কমিটির কাছে জমা দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ জানিয়ে জামায়াতের প্রার্থী বলেন, তাঁদের অভিযোগের বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপের ঘাটতি রয়েছে। নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা ও নির্বাচনি বৈঠকে চেয়ার ভাঙচুরের ঘটনায় দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি। দলীয় পরিচয় নির্বিশেষে সবার ক্ষেত্রে একই মানদণ্ড অনুসরণ এবং প্রমাণের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

ভোটারদের নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে দেলাওয়ার হোসেন বলেন, ভোটাধিকার সুরক্ষার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনের। প্রতিটি কেন্দ্রে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে, যাতে ভোটাররা কোনো চাপ বা ভয়ভীতি ছাড়াই নিজেদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারেন।

নির্বাচন বর্জনের কোনো পরিকল্পনা আছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তাঁরা নির্বাচন বর্জন করতে আসেননি; প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে এবং শেষ পর্যন্ত মাঠে থাকতে চান। প্রশাসনের প্রস্তুতির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তাঁরা এখনো আস্থা রাখছেন। তবে ১৯৯৪ সালের মাগুরা নির্বাচনের মতো পরিস্থিতি তৈরি হলে তাৎক্ষণিক অবস্থা বিবেচনায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

ভোটার উপস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন জামায়াতের এ প্রার্থী। তাঁর মতে, উপনির্বাচন হওয়ায় ঢাকার বাইরে থাকা অনেক ভোটারের আগ্রহ কম থাকতে পারে। পাশাপাশি বাড়িতে গিয়ে হুমকি ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগের কারণে ভোটাররা নির্বিঘ্নে কেন্দ্রে আসতে পারবেন কি না, তা নিয়েও শঙ্কা রয়েছে।

সংখ্যালঘু ভোটারদের কেন্দ্রে আসতে বাধা দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়ে বিএনপির অভিযোগের জবাবে দেলাওয়ার হোসেন বলেন, এ অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব নাগরিকের নিরাপদে ভোট দেওয়ার অধিকার রয়েছে। সনাতন ধর্মাবলম্বীসহ সব ভোটারকে নির্ভয়ে কেন্দ্রে এসে ভোটাধিকার প্রয়োগের আহ্বান জানান তিনি।

জামায়াতের প্রার্থী বলেন, এ নির্বাচন শুধু একটি আসনের জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের বিষয় নয়, বরং নির্বাচনি ব্যবস্থার প্রতি জনগণের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠারও পরীক্ষা। দলীয় সরকারের অধীনেও অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব—আগামীকালের ভোটের মাধ্যমে সেই দৃষ্টান্ত স্থাপনের দায়িত্ব প্রশাসনের।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

Categories

© All rights reserved © 2022 mannanpresstv.com
Theme Customized BY WooHostBD