দেশ আজ ছিন্নভিন্ন, শকুনে খাওয়া।
শিশুর চিৎকার বাতাস ছিঁড়ে আসে,
মায়ের বুক ফেটে যায়, বাবার চোখে রক্ত ঝরে।
তবুও মন্ত্রীপাড়ার প্রাসাদে বাজে গান,
চানাচুর ভাজা আর আমের জুসের মিষ্টি গন্ধে ভেসে যায় সভাকক্ষ।
হাসছে তারা, হাসছে এমনভাবে
যেন এই আগুনে পুড়ে যাওয়া দেহগুলো কোনো চিতার ফুল,
যেন কান্নার শব্দটা কোনো বাঁশির সুর।
তাদের হাসিতে লেগে আছে উৎসবের রঙ,
অথচ রাস্তায় পড়ে আছে আধপোড়া খেলনা,
যে বাবা মা শিশুটিকে রোদে পুড়তে দেখে নিজেই ভিতরে ভিতরে জলতেন
সেই শিশুটি আজ ৮০% আগুনে ভস্মীভূত।
একটা ছোট হাত এখনো মায়ের আঁচল খুঁজে ফিরে—
কিন্তু রাষ্ট্র নিঃশব্দ।
রাষ্ট্র ব্যস্ত মঞ্চ সাজাতে, মন্ত্রী বানাতে, নতুন ইশতেহার ঘোষণা করতে,
তারা ব্যস্ত নতুন কোন রাজনৈতিক কর্মসূচি ঘোষণায়।অথচ পোঁড়া দাগ এখনো শুকায়নি।
পৈতৃক সম্পত্তির মতো ক্ষমতার চেয়ারে বসাতে ছেলেমেয়েকে।
বাঙালির ভাগ্যে বোধহয় কখনোই লেখা নেই আলোর খেলা।
এখানে রক্তস্নাত ইতিহাসের বই পড়িয়ে দেয় অশিক্ষিত শাসক,
এখানে প্রতিবাদ মানে রাষ্ট্রদ্রোহ,
এখানে বিচার মানে সময়ক্ষেপণ, আর মৃত্যু মানে পরিসংখ্যান।
আমরা শুধু কাঁদি আর অপেক্ষা করি—
হয়তো কারো বিবেকে দোলা দেবে,
হয়তো একদিন কোনো ছিন্নভিন্ন শবদেহ
কোনো ক্ষমতাবানের স্বপ্নে হানা দেবে।
কিন্তু সে স্বপ্নও যেন নিষিদ্ধ হয়ে গেছে—
যেখানে রাজা বদলায়, কিন্তু রাজনীতির মুখোশ বদলায় না।
এ এক চক্রবুহ্য রাজত্ব,
যেখানে হায়েনারাই আজ রাজা,
আর আমরাই শুধু গনিমতের মাল।