নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ:
ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরীকে জোরপূর্বক নির্যাতনের অভিযোগে একটি মসজিদের সাবেক ইমামকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভুক্তভোগী কিশোরীর “আমার বাচ্চার স্বীকৃতি চাই”—এই আকুল আকুতির ছবি ও খবর ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকা জুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় গত ২৫ জুন ভোরে মুক্তাগাছার একটি এলাকা থেকে পুলিশ অভিযুক্ত ২২ বছর বয়সী ওই সাবেক ইমামকে গ্রেফতার করে। বর্তমানে ভুক্তভোগী কিশোরী সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা।
মামলার বিবরণ ও ভুক্তভোগী কিশোরীর বয়ান থেকে জানা যায়, প্রায় সাত মাস আগে সন্ধ্যার সময় পরিচিত ও বিশ্বস্ত হওয়ার সুবাদে অভিযুক্ত যুবক তাদের বাড়িতে আসে। কিশোরী সরল বিশ্বাসে দরজা খুলে দিলে সে জোরপূর্বক ঘরে প্রবেশ করে। এরপর মাথায় ব্যবহৃত হাজী রুমাল দিয়ে কিশোরীর মুখ চেপে ধরে পাশের রুমে নিয়ে গিয়ে তাকে নির্যাতন করে। লোকলজ্জা ও চরম ভয়ের কারণে এতদিন বিষয়টি কাউকেই জানাতে পারেনি অসহায় ওই কিশোরী।
সম্প্রতি কিশোরীর শরীরে বাহ্যিক পরিবর্তন দেখা দিলে পরিবারের লোকজনের মনে সন্দেহ জাগে। পরে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার পর জানা যায় সে সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা। এই অন্যায়ের বিচার এবং নিজের অনাগত সন্তানের পিতৃপরিচয়ের দাবি জানিয়ে ভুক্তভোগী কিশোরী কান্নায় ভেঙে পড়ে বলে,
“আমি শুধু আমার বাচ্চার স্বীকৃতি চাই। যে আমার এই সর্বনাশ করেছে, তার কঠিন শাস্তি চাই।”
ভুক্তভোগীর স্বজনরা জানান, ধর্মীয় পোশাক ও ইমামতির আড়ালে ওই যুবক যে এমন জঘন্য ও অমানবিক ঘটনা ঘটাবে তা তারা কখনো কল্পনাও করতে পারেননি। ঘটনাটি জানার পর অভিযুক্তের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তারা বিষয়টি পুরোপুরি অস্বীকার করে এবং বাচ্চার স্বীকৃতি দিতে অস্বীকৃতি জানায়। নিরূপায় হয়ে গত ১০ জুন ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে মুক্তাগাছা থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়।
মামলা দায়েরের পর থেকেই আসামিকে গ্রেফতারের জন্য ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন এলাকায় ধারাবাহিক অভিযান চালানো হয়। অবশেষে সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে গত ২৫ জুন ভোরে তাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।
মুক্তাগাছা থানা পুলিশ ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জানান, গ্রেফতারকৃত অভিযুক্তকে ইতিমধ্যে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে এবং মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে আসামির ডিএনএ পরীক্ষার অনুমতি চাওয়া হয়েছে। যেহেতু ভুক্তভোগী কিশোরী বর্তমানে সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা, তাই ভবিষ্যতে নবজাতক ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর তার ডিএনএর সঙ্গে অভিযুক্তের ডিএনএ মিলিয়ে বিজ্ঞানসম্মত প্রমাণের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি কার্যক্রম ও বিচার প্রক্রিয়া পরিচালনা করা হবে।