তোমরা যখন বর্ষামঙ্গল উদযাপন কর,
নরেনের পেটে তখন ক্ষুধার আগুন জ্বলে।
এ আগুন ছড়িয়ে পড়ে গ্রাম থেকে শহরে।
আজ নিয়ে চারদিন—
বৃষ্টিবিলাসের স্রোতে ভেসে যায় শরতের কাশফুল,
নরেনের ক্ষুধার জ্বালা আগ্নেয়গিরির মতো ফুটতে থাকে চোখে।
ফুটন্ত লাভায় পুড়ে গেলে জনপদ,
রমনার বটমূলে হবে না শোক পালন।
ছোটোলোক, নিচু জাত—মরে সাফ হোক সমাজ,
তখন হেলেদুলে গাইব বর্ষার গান।
কাশবনে ফুলের ফাঁকে ফাঁকে ফুলেদের উৎসব,
আমি শুধু দেখি আঠারোর ক্ষয়ে যাওয়া।
গুণে ধরা সমাজে তবু চলে নগ্ন উল্লাস।
প্রযুক্তির নেতিবাচক স্রোতে ভাসে বারো থেকে আঠারো।
হায়রে অভাগা আগামী!
কণ্ঠে রবীন্দ্র-নজরুল নেই,
নেই জারি, সারি, ভাটিয়ালি, মুর্শিদি।
চোখে প্রযুক্তির লালসার ঢেউ—
অনলাইন জুয়ায় বনে যাবে কোটিপতি।
তখন কাঁধে শাল ঝুলিয়ে পান্তা-ইলিশ খাবে।
শাল তো দূর,
শরীরের শেষ পোশাকেও ধরে বাজি।
অবশেষে নগ্ন, নিশ্চুপ দেহ পড়ে থাকে জীর্ণ ঘরের কোণে,
অথবা গহিন বনে, পাহাড়ে, রেললাইনে।
আহা, সন্তানহারা মায়ের হাহাকার!
হাহাকারে ধুয়ো ওঠে চারদিকে
আবার নিভে যায়—
কেউ পরাজিত ক্ষুধার কাছে
কেউ লালসার কাছে
কেউ সময়ের কাছে।
সুশীলের কাঁধের শালের ওজন বেড়ে যায়,
বহনে অক্ষম হয়ে পড়ে ওরাও।
আগুন তো শুধু নরেনের ঘর পোড়ায় না,
পোড়ায় ঘর সুশীলেরও।