শিল্পকলা একাডেমিতে বর্ণাঢ্য আয়োজনে ‘মাটির সুর’-এর ৪র্থ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও ‘লিটারারি আইকনিক অ্যাওয়ার্ড’ সম্পন্ন
স্টাফ রিপোর্টার (শাহ তোফাজ্জুল হোসেন ভান্ডারী):
সাহিত্য, সংস্কৃতি, সংগীত ও সৃজনশীল শিল্পচর্চায় নিবেদিত প্রাণ গুণীজনদের সম্মাননা প্রদান এবং শিল্প-সাহিত্যের অপূর্ব মেলবন্ধন ঘটাতে রাজধানী ঢাকার সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির চিত্রশালা হলে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘মাটির সুর সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক পরিষদ’-এর চতুর্থ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও মর্যাদাপূর্ণ ‘লিটারারি আইকনিক অ্যাওয়ার্ড’ অনুষ্ঠান।
কবি, সাহিত্যিক, সাংবাদিক, সংগঠক, সংগীতশিল্পী ও সংস্কৃতিপ্রেমীদের প্রাণবন্ত ও স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে পুরো মিলনায়তন নান্দনিক মিলনমেলায় পরিণত হয়।
উপস্থিত গুণীজন ও অতিথিবৃন্দ:
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশিষ্ট কবি, গীতিকার ও সমাজসেবক মোহাম্মদ মোমেন মিয়া। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কারপ্রাপ্ত কবি এবং বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সাবেক মহাপরিচালক রেজাউদ্দিন স্টালিন। আয়োজনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন প্রখ্যাত কবি, সাংবাদিক ও সংগঠক বেল্লাল হাওলাদার।
অনুষ্ঠানে বিশেষ সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কবি, গীতিকার ও সরকারের সাবেক অতিরিক্ত অর্থসচিব ফরিদ আহমেদ। এছাড়াও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে অনুপ্রেরণামূলক বক্তব্য রাখেন কবি সাঈদা আজিজ চৌধুরী, মোহাম্মদ ইয়াসিন মিয়া, সাইদুল হকসহ সাহিত্য ও সংস্কৃতি অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।
আনুষ্ঠানিকতা ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা:
ধর্মগ্রন্থ পাঠ ও জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে দিবসের মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। এরপর আমন্ত্রিত অতিথি ও গুণী ব্যক্তিত্বদের ফুলেল শুভেচ্ছা ও উত্তরীয় পরিয়ে সম্মাননা জানানো হয়।
অনুষ্ঠানের অন্যতম মূল আকর্ষণ ছিল ‘লিটারারি আইকনিক অ্যাওয়ার্ড’ প্রদান পর্ব। বাংলা সাহিত্য, সংস্কৃতি, কবিতা, সাংবাদিকতা ও সৃজনশীল সামাজিক কর্মকাণ্ডে অনন্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ দেশের নির্বাচিত একঝাঁক প্রতিভাবান ও প্রবীণ গুণীজনকে এই বিশেষ সম্মাননা স্মারক তুলে দেন প্রধান অতিথি ও অতিথিবৃন্দ।
পুরস্কার বিতরণীর পাশাপাশি আয়োজিত মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পর্বে আমন্ত্রিত শিল্পীদের কবিতা আবৃত্তি, স্মৃতিচারণ এবং সুরেলা সংগীত পরিবেশনা মিলনায়তনের দর্শকদের মুগ্ধ করে।
ব্যবস্থাপনা ও সঞ্চালনা:
অনুষ্ঠানটি যৌথভাবে সঞ্চালনা করেন ঊর্মী হোম রায়, শামীমা আক্তার শাম্মি ও লাবণ্য সীমা। পুরো আয়োজনের সার্বিক ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে ছিলেন ঊর্মী হোম রায় এবং সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন সূর্য চক্রবর্তী।
অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশন এবং মঞ্চের সার্বিক তত্ত্বাবধান ও সমন্বয়ের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সফলভাবে পালন করেন মাটির সুর সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান সারোয়ার মাহিন।
আয়োজকদের অনুভূতি ও অঙ্গীকার:
আয়োজক পরিষদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বাংলা সাহিত্য, আবহমান সংস্কৃতি ও সুস্থ শিল্পচর্চার ধারাকে বেগবান করা, নতুন প্রজন্মের প্রতিভাধরদের অনুপ্রাণিত করা এবং দেশ-বিদেশের কবি, সাহিত্যিক ও শিল্পীদের মধ্যে একটি শক্তিশালী সাংস্কৃতিক সেতুবন্ধন তৈরি করাই এ সংগঠনের মূল ব্রত। চার বছরের সফল অভিযাত্রায় সংগঠনটি সাহিত্য অঙ্গনে যে গতিশীল ভূমিকা রেখেছে, এই বার্ষিক আয়োজন তারই একটি উজ্জ্বল মাইলফলক।
সাহিত্য ও সংগীতের এই মেলবন্ধনের মধ্য দিয়ে আগামী দিনে সমাজে ইতিবাচক মূল্যবোধ, পারস্পরিক সম্প্রীতি ও সুস্থ ধারার সৃজনশীলতার বিকাশ অব্যাহত থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন পরিষদের নেতৃবৃন্দ।