গ্রামের কোণে থাকত বেঁচে এক কুচক্রী বুড়ি,
সবার মাঝে খুঁত খুঁজতে করত হুড়াহুড়ি।
নতুন বউয়ের খবর পেলেই ছুটত বুড়ি আগে,
পাকা চুলে ঘোমটা টেনে বসত অনুরাগে।
বউটি দেখেই মুখ বাঁকিয়ে বলত বুড়ি, “কী সর্বনাশ!
নাকটি বোঁচা, কানটি খাটো, চোখ জোড়াতেও ত্রুটি খাস!”
বেশি মোটা, দেখতে কালো, কিংবা বেশিই লম্বা এ যে—
বাতাস এলেই পড়বে উড়ে, ঝগড়া করবে তেজে!
গ্রামের এক যুবকের মনে জিদ চাপিল আচমকা,
“আনব আমি এমন কনে, বুড়ি খাবে বিষম তা!”
দেশ-বিদেশে খুঁজে খুঁজে সেরা রূপসী আনল ঘরে,
পাগল করা রূপের ছটায় আলো ছড়ায় অন্দরে।
খবর পেয়ে কুটনি বুড়ি হাজির হলো কোমর বেঁধে,
এবার বুড়ির পুড়বে কপাল নিজের জালের ফাঁদে!
ঘুরিয়ে ফিরিয়ে দেখল বুড়ি, ডানে-বামে, ওপর-নিচ,
খুঁত তো কোথাও মিলল না কো, রূপেতে নেই খামতি কিছ!
অবশেষে মুখটি বেঁকাই, গলার সুরে ঢেলে বিষ—
বলত বুড়ি, “এত সুন্দর? ভালো ঠেকে না মোটেও ইস!
এত ভালো, ভালোই না কো! এর ভেতরেই গলদ ঢের।”
খুঁত না পেলে মন ভরে না, এই তো বুড়ির স্বভাব-ফের!
আজকের এই সমাজেও ঠিক এমন মানুষ বাস করে,
আঠার মতো লেগে থাকে তারা আপনার পিছু তরে.
ভালো করলেও বলবে মন্দ, মন্দ করলে হাসে,
আপনার খুঁত ধরতেই তারা ব্যস্ত বারো মাসে।
অন্যের মাঝে খুঁত খোঁজা যাঁর মজ্জাগত এক রোগ,
নিখুঁত জিনিসেও সে খুঁজে পায় অমঙ্গলের যোগ।
আরে ভাই, খুঁত ধরো তুমি যদি নিজে নিখুঁত হও,
আয়নাতে আগে মুখটি দেখে, তারপর কথা কও!