কথা হয়নি কখনো, শুধু চোখে চোখ রেখে নীরবতার ভাষা পড়েছি।
তোমার দৃষ্টির ভাঁজে লুকিয়ে থাকত অচেনা এক কোমল স্বীকারোক্তি।
আমার চোখও প্রতিদিন তোমাকেই খুঁজেছে ভিড়ের ভেতর।
তুমি বুঝতে, আমিও বুঝতাম-তবু মুখে আসেনি ভালোবাসার কোনো শব্দ।
লজ্জা আর সংকোচ দুজনের মাঝখানে অদৃশ্য দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়ে ছিল।
এভাবেই তিনটি বছর ঋতুর মতো নিঃশব্দে পেরিয়ে গেল।
ক্যাম্পাসের প্রতিটি পথ আজও সেই নীরব সাক্ষীর মতো দাঁড়িয়ে আছে।
ফাইনাল পরীক্ষার আগে হঠাৎ একদিন তুমি কাছে এলে।
কাঁপা কণ্ঠে বললে, “আমার বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে।”
তোমার চোখের কোণে জমে থাকা অশ্রু আমার সমস্ত পৃথিবী ভিজিয়ে দিল।
আমি অনেক কথা বলতে চেয়েও একটিও বলতে পারিনি।
কারণ ভালোবাসা তখনও বুকের ভেতর অব্যক্ত রয়ে গেল।
আমরা দুজনেই ভালোবেসেছিলাম, শুধু স্বীকার করার সাহস পাইনি।
আজও মনে হয়, যদি সেদিন চোখের ভাষা শব্দ হয়ে উঠত!
হয়তো আমাদের গল্পের শেষটা অন্যরকম হতো।
এখন সেই দুটি চোখই আমার জীবনের সবচেয়ে সুন্দর, সবচেয়ে নীরব স্মৃতি।