তোমার শহরে মধ্যরাতের কোলাহল থেমে গেলে
ঘরের মানুষরা একে একে সবাই ঘুমিয়ে গেলে
আকাশে একলা জাগা নিঃসঙ্গ চাঁদটাকে সাথে নিয়ে
কেঁদে নিও, নিঃশব্দে কেঁদে নিও, মন ভরে কেঁদে নিও,
খুব করে কেঁদে নিও। কাঁদবেই তো।
এ মানুষটা সুখস্মৃতির কি দিয়েছে তোমাকে আর?
এই আমার রেখে যাওয়া এতো এতো স্মৃতির ভিড়ে
যদি কোনো স্মৃতি মনটাকে উথাল পাথাল করে দেয়,
যদি কোনো স্মৃতি মন থেকে আর সরে না দাঁড়ায়,
তখন না হয় স্বভাবসিদ্ধ প্রচণ্ড হুঙ্কার ছেড়ে
কঠিন কিছু কথায় আরেকবার বকে দিও, ইচ্ছেমতো।
বকার পিঠে আর কোনো কথা না পেয়ে
থমকে যাবে যখন, তখন না হয় কান পেতো;
তোমারই কথাগুলো তখন প্রতিধ্বনি হয়ে ভেসে এসে
তোমাকেই শুনিয়ে যাবে আরেক দফা।
আমি তখন দূর নক্ষত্রের দেশে, শেষ রাতের আকাশে
একলা একা শুকতারাটা হয়ে জ্বলবো,
রাত শেষে হারিয়ে যাবো দূরত্বের সীমানা ছাড়িয়ে
আরও দূরে, আরও আরও অনেকটা দূরে
যেখানে তোমার মনের দৃষ্টিটাও পৌছুবে না আর,
যেখানে তোমার অভিযোগ কোনো থাকবে না আর।
হয়তো থেকে যাবে নিঃসঙ্গতা একরাশ।
সেদিন নাহয় ভালোবেসে ক্ষণকাল হাতটা রেখো
আমার নিঃস্বার্থ নিবেদনের গল্প আর কবিতার শরীরে।
জানোই তো, অতিরিক্ত কথার আড়ালেই থাকে
কঠিন নীরবতা, গুমোট নিস্তব্ধতা।
অতিরিক্ত অভিমানের পিছনেই সেঁটে থাকে
কঠিন অনুরাগ, বেহাগের সুরে যে রাগ কেঁদে যায়
নীরব অন্ধকারে একা, কাঁদায় অতৃপ্ত হৃদয়।
তুমিও না হয় কেঁদে নিও সেইদিন, আমার অন্তর্ধানে।
<<>><<>><<>><>><<>>
লেখা – ২৫.১২.২০২৩
শেষ রাত।