1. admin@mannanpresstv.com : admin :
প্রবন্ধঃ লেখকের সর্দার লাগে -আবদুল গনি ভূঁইয়া - মান্নান প্রেস টিভি
শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ০৮:১৫ পূর্বাহ্ন

প্রবন্ধঃ লেখকের সর্দার লাগে –আবদুল গনি ভূঁইয়া

এম.এ.মান্নান.মান্না
  • Update Time : বুধবার, ৩১ জানুয়ারী, ২০২৪
  • ৩০১ Time View
আজকাল অযাচিতভাবে ভাবে শতশত লেখক সংগঠন গড়ে উঠেছে। কবিসাহিত্যিকের জন্য দেশের রাজনৈতিক দলের মতো আর্শীবাদ ও মদদপুষ্ট সুবিধাভোগী অঙ্গসংগঠনের সুসজ্জিত সঙ্ঘবদ্ধ দলগোষ্ঠীর গড়ে উঠেছে। দলভিত্তিক কাব্য সাহিত্যচর্চা না করলে দলছুট কবি-সাহিত্যিকের এখন আর কোন মূল্য নেই মনে হচ্ছে। আপনি যতবড় লেখক’ই হন’না কেনো, আপনি যদি দলভুক্ত সাহিত্যের পৃষ্ঠপোষকতায় অংশীদারত্বের শ্রেণীভুক্ত না হয়ে থাকেন তাহলে আপনাকে ওরা চিরদিন অকবির দলেই রেখে দিবেন। কবি খ্যাতি সম্মাননা আপনার কপালে কোনদিনই জুটবে না! তাই কবি’রা দলবদ্ধ হয়ে সংগঠনের মাঝে থেকে কবি সর্দারের নিয়মকানুন খবরদারী মেনে কাব্যচর্চা করতে হয়।
সুতরাং লেখকদের এখন সর্দার লাগে,নইলে লেখার মূল্য বাড়েনা। সর্দার মশাই অনুমোদন দিলে লেখা হবে,না দিলে অলেখা হিসাবেই থেকে যাবে! কি আশ্চর্য, ভাবতে অবাক লাগে! মাঝেমধ্যে মনে হয় ভাগ্যিস এই যুগে রবীন্দ্রনাথ, নজরুল, জসীম উদ্দীন,বঙ্কিমচন্দ্র,শরতচন্দ্র তারা জন্মায় নাই! আর তারা যদি বেঁচে থাকতেন হয়তো বা তারা-ও এতো বড় কবি সাহিত্যিক কিংবা লেখক হতে পারতেন না!কেননা,আজকালের তথাকথিত লেখক সর্দার মশাই অনুমোদন না দিলে তাদের লেখার স্বীকৃতিও পেতো না প্রকাশও হতো না! এবার আপনিই বলুন এখনকার লেখকরা কি অসহায়,আর ঐ লেখক সর্দার মশাইয়ের কি অলৌকিক ক্ষমতা?
হায়রে সাহিত্যের জগত,কি বেহালদশা তোমার গর্ভে জন্মানো কবিসাহিত্যিক লেখক সমাজের। তবে,একটা কিছু উপকার হয়েছে তা হলো লেখক সর্দারদের বদৌলতে কিছু অকবি আধা কবি বড়বড় ক্রেস্ট,সনদ হাতিয়ে নিয়ে রাতারাতি নামের শেষে কবি তকমা লাগি সাইনবোর্ড দেখিয়ে সাহিত্য পাড়ায় ঘুরে বেড়ান। এসব কবি সর্দারদের খেদমতেরই ফসল। এই লেখক সংগঠকদের দেওয়া লেখক স্বীকৃতি নিয়ে নব্য লেখকরা নামের সাথে নানান তকমা এঁটে দেন। আর, এসব সেরাসেরা তকমা আঁটা উপাধি পেয়ে তাদের আর তড়াই বড়াইয়ের শেষ নাই। ভাষা জানেনা,তাল, মাত্রা,ছন্দ কোন কিছু নিয়মকানুনের ধার ধারেনা। অথচ,তারা বড় কবি ,খেতাবধারী,অমুক গ্রুপের মডারেটর,এডমিন উপদেষ্টা ইত্যাদি ইত্যাদি! এইসব তকমা ওয়ালা কবি-সাহিত্যিকের দাপটে প্রকৃত লেখকেরা দিশেহারা এক্কেবারে ভরা নদীর জোয়ার জলের উজানে চলা বড় মাছের পিছনে ছুট্ট মাছদের কিলবিল করে চলার মতো! বাপরেবাপ, ভাবসাবে মনে হয় উনার মতো বাংলাসাহিত্যের বড় পণ্ডিত মশাই বাংলা মুল্লকে হয়তোবা আর দ্বিতীয় কেহ নাই!
সুপ্রিয় স্রোতা এই হলো আজ আমাদের সাহিত্যের করুণ দশা? সাহিত্য আজ অহংকার আর খ্যাতি উপাধির জন্য উম্মাদের আখড়াতে পরিণত হয়েছে। কে কয়টা সনদ ওয়ালা,কয়টা সেরা কবিতার তকমা ওয়ালা এই নিয়েই হইহুল্লোড় লম্ফঝম্প চলছে, আর এ গুলোকে পুঁজি করে কিছু সুযোগসন্ধানী অল্পবিদ্যার ভয়ংকরী পুঁজিবাদী মানুষ নানান সাহিত্যের গ্রুপ,দলবাজি গোষ্ঠী ভিত্তিক সাহিত্যের সংগঠন গঠন করে দেশের নানান সুযোগসুবিধাভোগী যেমন,
রাজনৈতিক,সামাজিক ও আর্থিক ফায়দা লুটানোর জন্য ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়েছে। তারা নিজেদের জাহিরি ও আভিজাত্য প্রচারে ব্যাস্ত হয়ে পড়েছে। এটি শুধুই সাহিত্য চর্চার ও সেবার নামে নিজেদের আত্মসেবার অনন্য পায়তারা করছে মাত্র। সত্যিকারের সাহিত্য প্রেমিকদের প্রতি চরম অবহেলা।
সাহিত্যাঙ্গনে এতোসব গ্রুপ সৃষ্টির পেছনে কেনো যেনো আমার মনে হচ্ছে সম্পূর্ণভাবে রাজনৈতিক চর্চার প্লাটফর্ম হিসাবে লেজুড়বৃত্তিক অঙ্গসংগঠন হিসাবে দাঁড়িয়েছে। ইদানিং দেখা যাচ্ছে কিছু গ্রুপ সর্দারেরা একেঅপরকে তুচ্ছতাচ্ছল্য ভাবে হেয় করার জন্য নকলবাজ,ঠোঙ্গা কবি, কবিতা চোর,অকবি নানান অশালীন ভাষায় তিরস্কার করছে। আসলে তাদের লক্ষ্যটাই হচ্ছে নিজেদের ক্ষমতার দৌরাত্ম্যে ও কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করা,শুদ্ধ সাহিত্যে চর্চা করা তাদের পক্ষে মোটেই সম্ভব নয় বরং বড়োই দুষ্কর হয়ে উঠেছে। তৈলমর্দন আর চামচামির মাধ্যমে কোন কালে কেউ কি সত্যিকারের কবিসাহিত্যিক হতে পেরেছে? কবিসাহিত্যিকদের এখন সভাবে ঘুণ ধরেছে! একজন কবি,গল্পকার,প্রবন্ধকার,উপন্যাসিক যেনো গ্রুপ কর্তার কেনা গোলামে কিংবা দাসদাসীতে পরিণত হয়েছে। এখন কবি সাহিত্যিকগণ তোষামোদ আর চাটুকার হয়ে গ্রুপে লেখা দিতে হবে,নইলে ধিক্কারিত কিংবা তিরস্কৃত হওয়ার জন্য অপেক্ষায় থাকতে হবে।
তাহলে অবশ্যই বলা যায় সাম্প্রতিক সময়ের গ্রুপভিত্তিক সংগঠনের মাধ্যমে যে সাহিত্যচর্চা চলছে তার অধিকাংশ মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত নেশায় মজেছে কিংবা সত্যিকারের সাহিত্যচর্চা থেকে বঞ্চিত হয়ে অপসংস্কৃতির সাহিত্যচর্চায় আত্মনিয়োগ করেছে? তাহলে, আমরা একি অশনিসংকেত শুনতে পাচ্ছি বাংলা সাহিত্য ও সাহিত্যিকে’র প্রতি? এখন রসাতলে যেতে বসেছে স্বাধীন বাংলা সাহিত্য চর্চা। ঘুমিয়ে পড়বে মেধাসম্পন্ন কবি সাহিত্যিকগন। এমন উগ্রসংগঠন মুলক ভাবাদর্শের সাহিত্য সেবকদের কাছে, জিম্মি হয়ে পড়বে সাহিত্যিকরা। এখনই সময় আদর্শিক জায়গা থেকে সাহিত্য চর্চা করার মানুষিকতা ও পরিবেশ গড়ে তুলার জন্য গ্রুপ গুলোকে আরও বেশি উদার ও নিবেদিত হওয়া। দলবাজি নয়, নেতৃত্ব নয়, রাজনীতি নয়,মানবতার কল্যাণে সমগ্রদুনিয়ার মানুষের জন্য কবি-সাহিত্যিকে’র মেধা,চিন্তাচেতনা,আদর্শ ও দর্শণ রেখে যেতে হবে পরবর্তী প্রজন্মের জন্যে।
আপনা সৃষ্টিশীলতা দ্বারা অর্থাৎ কবিতা,গল্প, প্রবন্ধ ও উপন্যাসের মাধ্যমে বাঙ্গালী ও বিশ্বমানবতা গড়ে তুলতে জ্ঞানের আলো জ্বালিয়ে যাবেন। আমরা সুস্থধারার সাহিত্যচর্চা চাই,আবার সাহিত্যাঙ্গনে লেখকদের সংঙ্গবদ্ধতাও চাই। তাই বলে আলোচ্য লেখক সর্দার চাই না। এমন লেখক সর্দার কিংবা সংগঠন চাই যেটি হবে উদার, বিনয়ী ও কল্যাণময়ী সার্বজনীন বিনোদন মুখি আনন্দঘন সাহিত্যির সমাজ। এমন সর্দার চাই না,যারা দুর্বোধ্য দূর্নীতি অসততা নিয়ে সাহিত্যের রাষ্ট্রীয় সম্মাননা পেতে চায়। এমন সর্দার চাই না যারা রাষ্ট্রের তকমাদারী সনদ দ্বারী পুরস্কার প্রাপ্ত হয়েও সাহিত্যের কোন অনুষ্ঠানে যেতে নজরানা দাবী করেন,একটা সুপারিশ পত্রে দস্তখত করতে সম্মানীর আশায় অন্যমনষ্কা হয়ে নির্বুদ্ধিতার ভাব ধরেন ?
কুমিল্লা।
৩১/০১/২০২৪

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

Categories

© All rights reserved © 2022 mannanpresstv.com
Theme Customized BY WooHostBD