1. admin@mannanpresstv.com : admin :
বিএম কলেজের দরিদ্র তহবিলের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে ছাত্রদল নেত্রীকে ঘিরে বিতর্ক - মান্নান প্রেস টিভি
শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ০৪:০৭ অপরাহ্ন

বিএম কলেজের দরিদ্র তহবিলের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে ছাত্রদল নেত্রীকে ঘিরে বিতর্ক

অনলাইন ডেস্ক:
  • Update Time : শনিবার, ১ আগস্ট, ২০২৬
  • ১ Time View

বরিশালের সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজের দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দকৃত সহায়তা তহবিলের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে হিসাববিজ্ঞান বিভাগের মাস্টার্স শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী ও কলেজ শাখা ছাত্রদলের নেত্রী ফাহমিদা জুইয়ের বিরুদ্ধে। অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর ক্যাম্পাসে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তবে অভিযুক্ত ফাহমিদা জুই অভিযোগকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর অভিযোগ, ফাহমিদা জুই দরিদ্র তহবিল থেকে আর্থিক সহায়তা পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আবেদনপত্র সংগ্রহ করেন এবং কলেজ প্রশাসনের কাছে জমা দেন। পরে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের নামে অর্থ বরাদ্দ হলেও সেই অর্থ তাদের হাতে পৌঁছায়নি। বরং তাদের জানানো হয়, তাদের আবেদনের বিপরীতে কোনো অর্থ বরাদ্দ হয়নি। পরে বিষয়টি প্রকাশ্যে এলে ক্যাম্পাসে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

ভুক্তভোগীদের একজন বলেন, “আর্থিক সংকটের কারণে সহায়তার আবেদন করেছিলাম। পরে জানতে পারি, আমাদের নামে অর্থ উত্তোলন করা হলেও আমরা সেই টাকা পাইনি।”

অভিযোগের বিষয়ে ফাহমিদা জুই বলেন, “এগুলো আমার বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও মনগড়া অভিযোগ। একটি রাজনৈতিক চক্র আমাকে হেয়প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে অপপ্রচার চালাচ্ছে। খুব শিগগিরই আমি এ বিষয়ে তথ্য-প্রমাণসহ প্রকৃত ঘটনা সবার সামনে তুলে ধরব।”

এ বিষয়ে বিএম কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ওয়ালিদ বিন সালাউদ্দিন বলেন, “বর্তমানে কলেজ ছাত্রদলের নির্বাচিত প্রতিনিধি আছেন মাত্র দুজন—সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক। এর বাইরে বর্তমানে কোনো পদে প্রতিনিধি নেই। কোনো ব্যক্তি ব্যক্তিস্বার্থে অন্যায় করে থাকলে তার দায় সংগঠন নেবে না।”

তিনি আরও জানান, “ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের অভিযোগ পাওয়ার পর কলেজের হিসাব শাখায় গিয়ে তথ্যের সত্যতা সম্পর্কে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে অধ্যক্ষ মহোদয়কে অনুরোধ করেছি। কোনো অন্যায়কারীর পক্ষেই আমরা অবস্থান নেব না। বিষয়টি দলের ঊর্ধ্বতন নেতাদেরও জানানো হবে এবং ভবিষ্যতে কমিটি গঠনের ক্ষেত্রেও এ ধরনের অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে।”

ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাধারণ শিক্ষার্থীরা দরিদ্র তহবিল বণ্টনের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাদের দাবি, প্রকৃত উপকারভোগীদের তালিকা প্রকাশ করতে হবে এবং পুরো প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করতে হবে। পাশাপাশি তারা অভিযোগ করেন, দরিদ্র তহবিলের অর্থ বণ্টনে রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগও খতিয়ে দেখা উচিত।

এ বিষয়ে বিএম কলেজের সহযোগী অধ্যাপক মো. রাশেদ খান শাহীন বলেন, “নিয়ম অনুযায়ী শিক্ষার্থীকে নিজে উপস্থিত হয়ে আবেদনপত্র জমা দিতে এবং সরাসরি অর্থ গ্রহণ করতে হয়। কেন তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে আবেদন ও অর্থ গ্রহণের চেষ্টা হয়েছে, তা তদন্তের বিষয়। লিখিত অভিযোগ পেলে কলেজ প্রশাসন বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।”

এদিকে অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

Categories

© All rights reserved © 2022 mannanpresstv.com
Theme Customized BY WooHostBD