মাগো তুমি আমার কাছে ইছামতীর পানি
কুলকুলিয়ে নিরবধি ছড়ানো আঁচলখানি।
মাগো তুমি শীতের সকাল উষ্ণ রোদের তাপ
তুমি আমার গরম ভাতের ধোঁয়া ওঠা ভাপ।
মাগো তুমি পদ্মা নদীর ঢেউ থইথই পানি
চোখের পানি মুছে নিয়ে ভেজাও আঁচলখানি।
মাগো তুমি মাথার উপর বট-পাকুড়ের ছায়া
মনের মধ্যে দাও বিছিয়ে শীতল পাটির মায়া।
যখন আমি ছোট ছিলাম জাগতে সারারাত
ওই আয়েশের বিছানটাতে হওনি তুমি কাত।
কত আদর সোহাগ দিয়ে নিতে আমায় কোলে
খুশির ঝিলিক লাগতো তোমার আমার মধুর বোলে।
আমার হাসি দেখলে মাগো তুমি সুখে হাসো
আমার খানিক কষ্ট দেখে দুখ সাগরে ভাসো।
বড় হয়ে এখনওতো দিই তোমাকে জ্বালা
তবুওতো দাওনি আমায় শতধিকের মালা।
আমি নাকি সাত-সমুদ্র খুঁজে পাওয়া ধন,
মাগো তুমি আমার কষ্টে পোড় সারাক্ষণ।
তুমি আমার বেহেস্ত মাগো তুমি সুখের খনি
তুমি আমার আলোক বাতি তুমি চোখের মণি।
বটবৃক্ষের ছায়া তুমি, আকাশ, বাতাস, তারা,
তোমাকে না দেখলে মাগো হই যে পাগলপারা।
তোমার পায়ে ঠাঁই দিয়ো মা এইটুকু মোর চাওয়া,
তোমায় পেলে দো-জাহানে স্বর্গ হবে পাওয়া।