ঝিনাইদহ প্রতিনিধি: পারিবারিক কলহের জেরে ঝিনাইদহে মাত্র ১৪ মাস বয়সী এক অবুঝ শিশুকে ওষুধের সাথে বিষাক্ত কীটনাশক খাইয়ে হত্যার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে তার আপন মেঝো চাচির বিরুদ্ধে। বর্তমানে আশঙ্কাজনক অবস্থায় শিশুটি ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরেই ভুক্তভোগী শিশুর পরিবারের সাথে তার মেঝো চাচির পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিরোধ চলছিল। এরই জেরে পরিকল্পিতভাবে ঘটনার দিন শিশুটির নিয়মিত ওষধের সাথে বিষাক্ত কীটনাশক মিশিয়ে দেওয়া হয়।
শিশুর স্বজনরা জানান, ওষধ খাওয়ানোর কিছুক্ষণের মধ্যেই শিশুটি প্রচণ্ড ছটফট করতে শুরু করে এবং তার মুখ দিয়ে লালা বের হতে থাকে। বিষের তীব্রতায় শিশুটির অবস্থার দ্রুত অবনতি হতে দেখলে পরিবারের সদস্যদের মনে সন্দেহের সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে ওষধের বোতলটি পরীক্ষা করলে তারা তীব্র কীটনাশকের গন্ধ পান এবং পুরো বিষয়টি তাদের কাছে স্পষ্ট হয়।
আক্রান্ত শিশুকে তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধার করে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসকরা শিশুটির অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক বলে জানান। উন্নত ও জরুরি চিকিৎসার জন্য চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে দ্রুত ফরিদপুর সরকারি (মেডিকেল কলেজ) হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে সেখানে শিশুটিকে বাঁচানোর আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছেন চিকিৎসকরা।
এদিকে এই অমানবিক ও নৃশংস ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে গোটা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যে পুলিশ আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেছে এবং অভিযুক্তকে আইনের আওতায় আনতে অভিযান চালানো হচ্ছে বলে জানা গেছে।
পারিবারিক বিরোধের জেরে ১৪ মাসের এক নিষ্পাপ শিশুর ওপর এমন নির্মমতার ঘটনায় দোষীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। আসুন, আমরা সবাই মিলে এই অবুঝ ও নিষ্পাপ শিশুটির দ্রুত সুস্থতা ও আরোগ্যের জন্য আন্তরিকভাবে দোয়া করি।