২০২৪ সালের ৫ আগস্টের আগে চট্টগ্রামের অপরাধ জগতে ডেভিড ইমন নামে কোনো অস্তিত্বই ছিল না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কিংবা সাধারণ মানুষ, কারও কাছেই পরিচিত ছিল না এই নাম।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ফটিকছড়ি উপজেলার কাঞ্চননগর এলাকার এক সাধারণ কৃষক মো. মুসার ঘরে জন্ম ও বেড়ে ওঠা এই ইমনের। পরিবারে অভাব-অনটন আর লেখাপড়ায় মন না থাকায় অল্প বয়সেই সে জড়িয়ে পড়ে স্থানীয় ‘কিশোর গ্যাং’ সংস্কৃতির সঙ্গে। কিশোর গ্যাংয়ের হয়ে মারামারি ও ছোটখাটো অপরাধ করতে করতেই অন্ধকার জগতের চাবিকাঠি হাতে পেয়ে যায় ইমন।
ধীরে ধীরে সে যুক্ত হয় চট্টগ্রামের আন্ডারওয়ার্ল্ডের ডন, বিদেশে পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী খান ওরফে বড় সাজ্জাদের গ্রুপে। সেখানে যোগ দেওয়ার পর নিজের নৃশংসতার প্রমাণ দিতে ইমন একের পর এক হত্যাকাণ্ড ঘটাতে শুরু করে। খুব অল্প সময়ের মধ্যে একাধিক খুন করে সে সহজেই বড় সাজ্জাদের গুডবুকে চলে আসে।
এর আগে দেশে বড় সাজ্জাদের পুরো অপরাধ সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করতেন সাজ্জাদ হোসেন ওরফে ছোট সাজ্জাদ। কিন্তু ছোট সাজ্জাদ পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে যাওয়ার পর আন্ডারওয়ার্ল্ডে বড় ধরনের শূন্যতা তৈরি হয়। আর এই সুযোগেই বড় সাজ্জাদ দেশীয় চ্যাপ্টার সামলানোর জন্য বেছে নেয় ফটিকছড়ির এই ইমনকে।
বর্তমানে সে আন্ডারওয়ার্ল্ডের ডন বড় সাজ্জাদের সেকেন্ড ইন কমান্ড হিসেবে পুরো গ্যাং পরিচালনা করছে। তার অধীনে বর্তমানে অন্তত ৫০ জন দুর্ধর্ষ শুটার ও সহযোগী সক্রিয় রয়েছে। বায়েজিদ বোস্তামী, পাঁচলাইশ, পতেঙ্গা, রাউজান, হাটহাজারী ও ফটিকছড়িতে এখন ইমনের একক আধিপত্য।
পুলিশের নথিপত্র অনুযায়ী, মাত্র দুই বছরেই ডেভিড ইমনের বিরুদ্ধে ৭টি খুনের মামলা দায়ের হয়েছে। যার মধ্যে ২০২৫ সালের ৩০ মার্চ বাকলিয়া এলাকার রোমহর্ষক জোড়া খুন এবং একই বছরের ২৩ মে রাতে পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত এলাকায় সন্ত্রাসী ‘ঢাকাইয়া আকবর’ হত্যাকাণ্ড অন্যতম।
জানা যায়, ইমনের নিজস্ব সংগ্রহেই অন্তত ১৫ থেকে ২০টি অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে এবং সে অস্ত্র চালনায় অত্যন্ত দক্ষ। বাকলিয়ার জোড়া খুনের ঘটনায় শুটার ও মোটরসাইকেল ভাড়া করার মূল মাস্টারমাইন্ডও ছিল এই ইমন।
আরও জানা যায়, গত এক মাসে তিনটি ভিন্ন প্রতিষ্ঠানে শুধু হোয়াটসঅ্যাপে ফোন দিয়েই এই চক্রটি চাঁদা আদায় করেছে প্রায় দুই কোটি টাকা।
সবশেষ গত সোমবার চন্দনপুরার ইন্টারনেট সেবাপ্রতিষ্ঠান ডিডিএন-এ ২ কোটি টাকা চাঁদা না পেয়ে প্রকাশ্যে দিনদুপুরে যে সশস্ত্র তাণ্ডব ও ৩৫ লাখ টাকা লুটপাট চালানো হয়েছে, তার নেপথ্যেও ছিল ইমনের বিদেশি নম্বর থেকে আসা একটি ফোন কল।
শুধু ব্যবসায়ী নয়, গত ৯ মে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে এক সাংবাদিককে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গুলি করার হুমকিও দিয়েছিল এই নতুন ডন।